ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ বয়কট: এক পয়সাও হারাবে না পিসিবি!

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১০:৪৯:৪৮
ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ বয়কট: এক পয়সাও হারাবে না পিসিবি!

বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই সম্প্রচারক স্বত্ব আর বিজ্ঞাপনের টাকার ঝনঝনানি। তবে এবারের চিত্রনাট্যে বড় এক মোড় নিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির 'পক্ষপাতমূলক' আচরণের প্রতিবাদে বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি না খেলার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে তারা। এই সিদ্ধান্তের পর ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন উঠেছিল—পাকিস্তান হয়তো বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা বা আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে যাচ্ছে। তবে নথিপত্র আর অতীত ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা; এই বয়কটে এক পয়সাও হারাতে হবে না পিসিবিকে।

কেন শাস্তির বাইরে থাকবে পাকিস্তান?

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে নিপুণ এক আইনি কৌশল। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ড যদি একক সিদ্ধান্তে ম্যাচ বয়কট করে, তবেই কেবল শাস্তির বিধান থাকে। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নয়, এই সিদ্ধান্তটি এসেছে সরাসরি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে।

জানা গেছে, বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই বর্জনের ঘোষণা দেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির সেই বহুল আলোচিত ম্যাচে পাকিস্তান মাঠে নামবে না—এটি এখন ইসলামাবাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। আর আইসিসির নীতিমালায় ‘সার্বভৌম সরকারের’ আদেশ মেনে ম্যাচ না খেললে বোর্ডকে শাস্তির আওতায় আনার সুযোগ নেই।

অতীতের উদাহরণ যখন ঢাল

পাকিস্তানের এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নজির। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। একইভাবে ২০০৩ বিশ্বকাপে নিজ নিজ সরকারের নির্দেশে জিম্বাবুয়ের মাটিতে মাঠে নামেনি ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।

সে সময় আইসিসি কোনো দেশের বিরুদ্ধেই আর্থিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো তাদের রাজস্বের পূর্ণ অংশ এবং অংশগ্রহণ ফি পেয়েছিল। কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞাও তাদের ওপর বর্তায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও সেই একই 'সেফ প্যাসেজ' বা নিরাপদ পথ ব্যবহার করছে।

বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ

গুঞ্জন ছিল যে, ভারত ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তান হয়তো এশিয়া কাপ বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে নিষিদ্ধ হতে পারে এবং হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হতে পারে। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে পাকিস্তান সরকার এককভাবে দায়ভার নেওয়ায়, পিসিবি আর্থিকভাবে পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকছে।

মূলত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে আইসিসির ‘দ্বিচারিতার’ বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে সাহসী অবস্থান নিয়েছে, তাতে বৈশ্বিক ক্রিকেটের সমীকরণ অনেকটাই বদলে যেতে পারে। ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি না হওয়া মানে আইসিসির বড় অংকের রাজস্ব ক্ষতি হলেও, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড থাকছে লোকসানমুক্ত।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট: সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. পাকিস্তান কেন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

উত্তর: মূলত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসির ‘দ্বিচারিতা’ ও বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই পাকিস্তান এই ম্যাচটি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২. এই ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানের কি কোনো আর্থিক লোকসান হবে?

উত্তর: না, অতীতের নজির অনুযায়ী পাকিস্তানের আর্থিক লোকসান হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। যেহেতু এই সিদ্ধান্তটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নয়, বরং পাকিস্তান সরকার নিয়েছে, তাই আইসিসি কোনো আর্থিক জরিমানা বা রাজস্ব কর্তন করতে পারবে না।

৩. আইসিসি কি পাকিস্তানের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে?

উত্তর: ক্রিকেটীয় আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের সার্বভৌম সরকার যদি নিরাপত্তার অজুহাতে বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কোনো ম্যাচ বয়কটের নির্দেশ দেয়, তবে সেই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর আইসিসি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে না। অতীতেও এমন ঘটনায় কোনো বোর্ডকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।

৪. এর আগে বিশ্বকাপে ম্যাচ বয়কটের কোনো উদাহরণ আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কা সফর করেনি এবং ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছিল। ওই দেশগুলোও তাদের সরকারের নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

৫. ম্যাচটি কবে হওয়ার কথা ছিল এবং সিদ্ধান্তটি কে নিয়েছে?

উত্তর: হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যকার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান সরকার।

আল-মামুন/

ট্যাগ: ক্রিকেট নিউজ শেহবাজ শরিফ মহসিন নাকভি Cricket News World Cup Boycott পিসিবি বনাম আইসিসি PCB vs ICC ভারত পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সংবাদ বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের ভারত বর্জন পাকিস্তানের আর্থিক লোকসান ভারত ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানের কত ক্ষতি হবে? কেন ভারত ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান? কেন শাস্তি দিতে পারবে না আইসিসি? বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত সরকার নির্দেশিত ম্যাচ বয়কটের আইনি দিক ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল আইসিসির নিষেধাজ্ঞা ও পাকিস্তান ক্রিকেট ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপ বয়কটের ইতিহাস আইসিসির দ্বিচারিতা Pakistan boycotts India match Ind vs Pak World Cup match news Pakistan financial loss India match India vs Pakistan match cancellation Why Pakistan will not play against India? ICC sanctions on Pakistan for match boycott Will PCB lose money for boycotting India? Pakistan solidarity with Bangladesh cricket Government mandated boycott ICC rules Mohsin Naqvi on India match boycott 1996 World Cup Australia West Indies boycott 2003 World Cup Zimbabwe boycott history ICC revenue share Pakistan

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ