Alamin Islam
Senior Reporter
শেয়ারবাজারে ফুরফুরে মেজাজ: চাঙা লেনদেনে আশা জাগাচ্ছে সূচক
টানা দু'দিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক হাওয়া বইছে। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এসে সূচকের ধারাবাহিক উত্থান এবং লেনদেনের উল্লেখযোগ্য স্ফীতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এই ফুরফুরে মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে বাজার আবারও তার গতি ফিরে পাচ্ছে।
সূচকের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন:
মঙ্গলবার যেখানে প্রধান সূচক ৪৫ পয়েন্টের বেশি বেড়েছিল, বুধবার সকালে সেই ধারা আরও জোরালো হয়। এক পর্যায়ে প্রধান সূচক ৬২ পয়েন্ট পর্যন্ত উল্লম্ফন দেখালেও, দিনের শেষে ডিএসইএক্স ২২.৪৮ পয়েন্টের ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখে ৫ হাজার ৪১৫.১৩ পয়েন্টে স্থির হয়। অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৫.৯৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৭১.৪৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১১.৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৩.০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এই সূচক বৃদ্ধি বাজারের টেকসই উন্নতির বার্তা দিচ্ছে।
চাঙ্গা লেনদেন, সক্রিয় বিনিয়োগকারীরা:
লেনদেনের চিত্রও আজ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ মোট ৭০৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের ৫৭৬ কোটি টাকার তুলনায় ১৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বেশি। এই বিশাল লেনদেন বৃদ্ধি প্রমাণ করে, বিনিয়োগকারীরা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে বাজারে ফিরছেন এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ছে।
অধিকাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি, সুদৃঢ় বাজার:
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫টির দর বেড়েছে, ১৫৭টির দর কমেছে এবং ৬৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি বাজারের অন্তর্নিহিত শক্তিকে প্রতিফলিত করে।
চট্টগ্রামেও একই চিত্র, বাড়ছে আস্থা:
দেশের আরেক প্রধান পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে, এবং লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
সিএসইতে আজ ২১ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকার দ্বিগুণেরও বেশি। লেনদেন হওয়া ২১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৯টির দর বেড়েছে, ৬২টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৫.৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৮৮.৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গতকালের মাত্র ২ পয়েন্ট বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল।
অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার প্রভাব:
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক সংকেত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনছে। এই আত্মবিশ্বাসই পুঁজিবাজারে নতুন প্রাণের সঞ্চার করছে এবং আগামী দিনগুলোতে বাজারের আরও সমৃদ্ধির পথ দেখাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, নতুন নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান
- মক্কা-মদিনায় জমি কিনতে কত টাকা লাগে? জানুন বর্তমান বাজারদর
- একসঙ্গে ৪ মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃ'ত্যু
- বেনজীর ও হাদী হত্যা মামলায় বড় আপডেট
- পরিচালনা বোর্ডে ফিরতে চান পিপলস লিজিংয়ের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডাররা
- প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হত্যা মামলার আসামি নিয়ে বড় তথ্য দিল সেনাবাহিনী
- আমদানি বাণিজ্যে নতুন নিয়ম জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের
- আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ফাইনাল: জেনে নিন সময়সূচি, পরিসংখ্যান ও লাইভ দেখার উপায়
- ফ্রান্স দলের নতুন কোচ, চুক্তিতে সই সম্পন্ন