MD. Razib Ali
Senior Reporter
স্বর্ণের দামে বড় পতন, কারণ কি, সোনার ভরি কত
বিশ্ব বাজারে নতুন চূড়ায় আরোহণের পরপরই স্বর্ণের দামে একটি উল্লেখযোগ্য পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং ডলারের অবস্থানের দৃঢ়তার প্রভাবে মূল্যবান ধাতুটির মূল্য এক ধাক্কায় ২ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।
রেকর্ড গড়ার পর হঠাৎ নিম্নমুখী
এই আকস্মিক মূল্যহ্রাসের ঠিক আগ পর্যন্ত, বৃহস্পতিবার অবধি, স্বর্ণের মূল্যমান ছিল ঊর্ধ্বে। প্রতি আউন্সে দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলারের ঐতিহাসিক সীমা অতিক্রম করে। ২০০৮ সালের পর এই সপ্তাহে স্বর্ণের সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ।
এক পর্যায়ে সেশন চলাকালীন মূল্য ৪ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছালেও, এই ব্যাপক দরপতনের পরেও সপ্তাহান্তে সামগ্রিক বৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই প্রথমবারের মতো স্বর্ণ ৪ হাজার ৩০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল।
পতনের কারণ: ট্রাম্পের নরম সুর ও শক্তিশালী ডলার
স্বর্ণের দামে এই বড়সড় পরিবর্তনের পেছনে দুটি মূল প্রভাবক কাজ করেছে:
১. বাণিজ্য উদ্বেগ প্রশমন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন যে তিনি শীঘ্রই চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে বসতে চলেছেন। এই ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সংঘাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা কিছুটা লাঘব করেছে।
বিশ্লেষক তাই ওয়ং উল্লেখ করেছেন, প্রেসিডেন্টের আগের কঠোর অবস্থানের তুলনায় এই 'নরম সুর' বাজারে বিদ্যমান উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সফল হয়েছে। স্বর্ণকে যেহেতু সাধারণত অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই উত্তেজনা কমার অর্থই হলো এর চাহিদা হ্রাস পাওয়া।
২. ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: অন্যদিকে, ডলার সূচক (ডিএক্সওয়াই) ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ডলারের মূল্য দৃঢ় হয়েছে। এর ফলে বিদেশী ক্রেতাদের জন্য ডলারের ভিত্তিতে নির্ধারিত স্বর্ণ কিনতে বেশি খরচ পড়ে, যা চাহিদা এবং দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বর্তমান বাজার চিত্র
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার দুপুরে (ইস্টার্ন টাইম ১টা ৩৮ মিনিটে), স্পট গোল্ডের মূল্য ২ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ২১১ দশমিক ৪৮ ডলারে অবস্থান করে।
একই ধারায়, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার চুক্তিও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে গিয়ে ৪ হাজার ২১৩ দশমিক ৩০ ডলারে বন্ধ হয়েছে।
স্বর্ণ কেন এত মূল্যবান?
চলতি বছর ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা, ডলার থেকে বিনিয়োগকারীদের অন্য দিকে সরে যাওয়া, ইটিএফ ফান্ডে প্রবাহের বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা— এই সবগুলো কারণ মিলিয়ে স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই মূল্যবান ধাতুটিকে বরাবরই অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম (প্রতি ভরি):
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৭৭ হাজার ১ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫১ টাকা
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রুপার দাম
দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ২০৫ টাকায়। যা দেশের ইতিহাসে এক ভরি রুপার সর্বোচ্চ দাম।
বিভিন্ন ক্যারেটের রুপার দাম (প্রতি ভরি):
২২ ক্যারেট: ৬ হাজার ২০৫ টাকা
২১ ক্যারেট: ৫ হাজার ৯১৪ টাকা
১৮ ক্যারেট: ৫ হাজার ৭৪ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ৩ হাজার ৮০২ টাকা
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় খবর, যে কারণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- কোল্ড ড্রিংকস খেলে অ্যাসিডিটি কমে, নাকি বাড়ে? জানুন সত্য
- সংযোগ নেই, মিটারও নেই—তবুও হাতে বিদ্যুৎ বিল!
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান