MD. Razib Ali
Senior Reporter
বিদেশি বিনিয়োগে বড় স্বস্তি: ১০০ কোটি ফেরতে সহজ নিয়ম
বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনিবাসী বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিক্রির অর্থ নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে ১০ গুণ বেশি সুবিধা ভোগ করবেন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা অর্থ বিদেশে পাঠাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো অনাপত্তি বা পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন দিগন্ত
এতদিন এই লেনদেনের সীমা ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা। ফলে বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত নিতে দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের। রোববার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে কর্মরত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সহজ নিয়ম কার্যকর হবে। মূলত বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে হয়রানি মুক্ত ও বিশ্বমানের করতেই এ উদ্যোগ।
স্বচ্ছতা রক্ষায় কড়া নজরদারি
লেনদেনের সীমা বাড়লেও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর গাইডলাইন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে অভিজ্ঞ সিএফও (CFO) বা পেশাদার সনদধারী সদস্যরা থাকবেন। স্বতন্ত্র মূল্য নির্ধারকের দেওয়া ন্যায্য মূল্যের প্রতিবেদনটি এই কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করবে। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো স্বতন্ত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড
শেয়ারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ‘আইভিএস ২০২৫’ (IVS 2025) অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনটি পদ্ধতিতে শেয়ারের দাম যাচাই করা যাবে:
১. সম্পদের নিট মূল্য (NAV)
২. বাজার যাচাই (Market Approach)
৩. ভবিষ্যৎ আয়ের বর্তমান মূল্য (DCF)
শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, যে আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হবে, তা কোনোভাবেই ৬ মাসের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। প্রয়োজনে হালনাগাদ অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
সময়সীমার কড়াকড়ি
বিনিয়োগকারীদের অর্থ যাতে আটকে না থাকে, সেজন্য দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে:
কাগজপত্রে ভুল না থাকলে ব্যাংকগুলোকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ বিদেশে পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
বিশেষ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতির দরকার পড়লে তা ৩ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে।
শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।
পুরো লেনদেনের তথ্য পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজারে আতঙ্কের মধ্যেই যা বললেনবিএসইসি চেয়ারম্যান
- বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬ কোম্পানির সুখবর
- অবশেষে sscresult 2026ফল প্রকাশের দিন-তারিখ জানাল বোর্ড
- সপ্তাহের শুরুতেই ফের পতন শেয়ারবাজারে, কারণ যা জানা গেল
- তিন বিমা কোম্পানির লাফ, বোর্ড সভা থেকে আর্থিক ফলাফল একনজরে
- সূচক পড়লেও যে ১০ শেয়ারে ক্রেতার হুড়োহুড়ি
- ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক
- সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর, ডিএসই আনল নতুন সুবিধা
- এক ক্যাচেই বেঁচে গেল আফ্রিদির ৩০ বছরের রেকর্ড
- মুনাফায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুই কোম্পানির ইপিএস
- ৩০ জুলাই নয়, এসএসসির ২০২৬ এর রেজাল্ট নিয়ে নতুন তথ্য
- প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় চাঙ্গা জুলাই, এগিয়ে যে ব্যাংক
- সূর্যবংশীর ঝড়ে রানের পাহাড় গড়ল ভারত
- মেসির অবসর নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন পারেদেস
- সূর্যবংশীর ঝড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় সংগ্রহের পথে ভারত