MD Zamirul Islam
Senior Reporter
একলাফে বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফের অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের ভোজ্যতেলের বাজার। নতুন সরকারকে চাপে ফেলে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নতুন করে কারসাজি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলারদের মাধ্যমে খুচরা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে বাজার থেকে কার্যত উধাও হয়ে যাচ্ছে বোতলজাত সয়াবিন তেল।
বাজারে কৃত্রিম সংকট ও বর্তমান চিত্র
রাজধানীর জিনজিরা ও নয়াবাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট। বিশেষ করে ৫ লিটারের বোতল বাজারে মেলাই ভার। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, রোজা শুরুর পর থেকেই কোম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। যেখানে দিনে ২০ কার্টন তেলের চাহিদা থাকে, সেখানে ডিলাররা সরবরাহ করছেন মাত্র ২ থেকে ৩ কার্টন।
জিনজিরা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. সাক্কুর আলম বলেন, "কোম্পানিগুলো ডিলারদের মাধ্যমে কারসাজি করছে। তাদের টার্গেট ঈদের আগেই দাম বাড়ানো। পরিস্থিতি এভাবে চললে বাজার থেকে বোতলজাত তেল পুরোপুরি উধাও হয়ে যাবে।"
চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন
বোতলজাত তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে একলাফে ১৪ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার সরকার নির্ধারিত মূল্য ছিল ১৭৬ টাকা। অন্যদিকে, এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া গেলেও তা সীমিত। ৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের নির্ধারিত মূল্য (MRP) ৯৫৫ টাকা হলেও ডিলার পর্যায় থেকে দাম বাড়িয়ে দেয়ায় খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কমে গেছে বলে তারা অভিযোগ করছেন।
সরকারকে পাশ কাটিয়ে মুনাফা লোটার কৌশল
তথ্যে জানা গেছে, গত ১০ ও ২৪ নভেম্বর সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। মন্ত্রণালয় সাড়া না দিলেও তারা নিজেরাই লিটারে ৯ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করে বাজারে তেল সরবরাহ শুরু করে। পরবর্তীতে বাণিজ্য উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে এবং শোকজ নোটিশের পর বৈঠকে ৬ টাকা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়। অভিযোগ আছে, সরকারকে পাশ কাটিয়ে কৌশলে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেয়ার এটি একটি পুরনো কৌশল।
ব্যবসায়ী ও কোম্পানির অজুহাত
তেল সরবরাহ কমার পেছনে পরিবহণ ও বৈশ্বিক সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছে কোম্পানিগুলো। টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম জানান, পরিবহণ সংকটে পণ্যবাহী ট্রাক সঠিক সময়ে ডিজেল পাচ্ছে না। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রপ্তানিতে শুল্ক আরোপ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
ক্যাব ও ভোক্তা অধিকারের বক্তব্য
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, সার্বিক তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, "ব্যবসায়ীরা সব সময় সুযোগ খোঁজে। ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণে প্রভাব পড়তে সময় লাগবে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা তার আগেই দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে।"
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল আশ্বস্ত করে বলেন, "বাজারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে। কেন সংকট তৈরি হচ্ছে তা খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের আগে কোনো পণ্য নিয়ে যেন ক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।"
ব্যবসায়ীদের এই কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়ানোর ছক সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মার্কশীটসহ এসএসসি রেজাল্ট ২০২৬ দেখবেন যেভাবে
- ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ কবে কখন জেনে নিন দুটি প্রীতি ম্যাচের পূর্ণ সূচি
- অনলাইনে এসএসসি ফল ২০২৬ দেখার নিয়ম, রইল অফিসিয়াল লিংক
- SSC Result 2026: মার্কশীটসহ এসএসসি রেজাল্ট ২০২৬ দেখবেন যেভাবে
- SSC Result 2026:অনলাইনে এসএসসি ফল ২০২৬ দেখার নিয়ম, রইল অফিসিয়াল লিংক