ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

বাংলাদেশ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা! এগিয়ে এল চীন-পাকিস্তান!

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৫:৫৩:৪০
বাংলাদেশ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা! এগিয়ে এল চীন-পাকিস্তান!

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া। সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন— "দক্ষিণ এশিয়ায় কোনো একতরফা আধিপত্য চলবে না।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা সরাসরি ভারতের আঞ্চলিক প্রভাবকে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বেইজিং বৈঠকের নেপথ্যে: ঢাকা-বেইজিং-ইসলামাবাদ নতুন ত্রিভুজ?

বেইজিংয়ের সেই কনফারেন্স হলে চীন ও পাকিস্তানের পতাকার পাশাপাশি দেখা গেছে বাংলাদেশের মানচিত্রের রূপরেখা। বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশে আসা নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের ১৫ বছরের একচেটিয়া প্রভাব থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ও স্বাধীন বিদেশনীতি গ্রহণ করেছে। এই শূন্যস্থানে এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে চীন ও পাকিস্তান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কোনো একক রাষ্ট্রের খবরদারি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সমান সম্মান জানাতে হবে।

ভারতের জন্য 'কূটনৈতিক দুঃস্বপ্ন'?

দিল্লির দীর্ঘদিনের নীতি ছিল— "ভারতই কেন্দ্র, বাকিরা উপগ্রহ।" শেখ হাসিনা সরকারের আমল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিল দিল্লির সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক ও কৌশলগত মিত্র। ট্রানজিট, রেল সংযোগ এবং বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ করিডোরের মতো কাজ করত।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি এখন 'রিজিওনাল এনসার্কেলমেন্ট' বা চারদিক থেকে ঘেরাও হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। পশ্চিমে পাকিস্তান, উত্তরে চীন এবং এখন পূর্বে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় (সেভেন সিস্টার্স) রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা এখন দিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের লড়াই

চীন কেবল কূটনীতি নয়, অর্থনীতিকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (BRI)-এর মাধ্যমে তারা পাকিস্তানে গওয়াদর বন্দরের পর এখন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, পায়রা ও কক্সবাজারের বন্দরগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। বেইজিং বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেছেন, তারা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক রুটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সামরিক সহায়তা দিতেও প্রস্তুত।

এর পাশাপাশি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সখ্য এই নতুন অক্ষকে আরও শক্তিশালী করেছে।

পরিবর্তিত ঢাকা: আর কারও ছায়ায় নয়

ভিডিওর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার আকাশে এখন নতুন ভোরের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর কারও ছায়ায় নয়, বরং নিজের স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মেরুকরণ করছে। বেইজিংয়ের এই নতুন সমীকরণ দিল্লির আধিপত্যবাদের দেওয়ালে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে এখন এক নতুন গল্প শুরু হয়েছে। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঢাকা, যার নেপথ্যে চীন এবং দিগন্তে বেইজিংয়ের প্রভাব। এই পরিবর্তন কেবল ভারতের জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং এক নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতার সূচনা।

আল-মামুন/

ট্যাগ: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ২০২৬ ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন মোড় চীন পাকিস্তান বাংলাদেশ নতুন জোট বেইজিং বৈঠক দক্ষিণ এশিয়া দিল্লির আধিপত্য কি শেষ? বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতি ২০২৬ জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সেভেন সিস্টার্স ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাংলাদেশের ওপর ভারতের প্রভাব ট্রানজিট ও করিডোর চুক্তি বাংলাদেশ ভারত চীন পাকিস্তান বাংলাদেশ ত্রিভুজ সম্পর্ক বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ২০২৬ চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরে চীনের প্রভাব বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন বন্ধুত্ব রিজিওনাল এনসার্কেলমেন্ট ভারত দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য ভারতের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বাংলাদেশ ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট দক্ষিণ এশিয়া দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের নতুন আধিপত্য South Asia Geopolitics 2026 China-Pakistan-Bangladesh Axis New Power Balance in South Asia End of Indian Dominance in South Asia Beijing Diplomatic Meeting on South Asia Bangladesh Foreign Policy after July Revolution Bangladesh India Relations 2026 news Bangladesh China Pakistan Alliance

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ