MD. Razib Ali
Senior Reporter
নবম পে স্কেল সর্বশেষ যা জানা গেল
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত নবম পে স্কেল প্রবর্তন নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা লাখ লাখ কর্মচারীর জন্য এটি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে, তবে পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে।
সচিবালয়ে নীতি-নির্ধারণী বৈঠক
গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে কর্মচারী নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে গেলে বেতন স্কেলের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুল খালেক এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক এম এ হান্নানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল জানায়, প্রতিমন্ত্রী তাদের দাবিগুলো অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে শুনেছেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, কর্মচারীরা অবশ্যই নতুন পে স্কেলের সুফল পাবেন। তবে রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতিগত কারণে এটি দ্রুত কার্যকর করা চ্যালেঞ্জিং, তাই তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
পে কমিশনের প্রতিবেদন ও বর্তমান বাস্তবতা
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশন নির্ধারিত ছয় মাস সময়ের মধ্যেই তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কর্মচারী নেতারা জানান, নির্বাচনের আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কর্মচারী সংগঠনের আলটিমেটাম ও ক্ষোভের কারণ
এদিকে, বেতন বৈষম্য ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কর্মচারীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মতে, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের কারণে বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। গত এক দশকে নিত্যপণ্যের দাম, ঘর ভাড়া এবং শিক্ষা ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও বেতন না বাড়ায় সাধারণ কর্মচারীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে পে স্কেল বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। অন্যথায়, তারা রাজপথে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
কর্মসূচির রূপরেখা
দাবি আদায়ে কর্মচারীরা ধাপে ধাপে আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে:
স্মারকলিপি প্রদান: ৫ মার্চের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি পৌঁছে দেওয়া হবে।
রমজান মাসের কার্যক্রম: এই সময়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সভা ও সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
চূড়ান্ত ঘোষণা: যদি ১৫ মার্চের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না দেখা যায়, তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর অর্থাৎ ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
সরকারি কর্মচারীদের এই দাবির মুখে সরকার এখন কোন পথে এগোয় এবং কত দ্রুত পে স্কেলের ঘোষণা আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- এক লাফে বাড়লো তেলের দাম
- বাংলাদেশ বনাম চীন: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: ৮ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
- চলছে বাংলাদেশ বনাম চীন ম্যাচ: ৮০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন সর্বশেষ ফলাফল
- ১৮ মার্চ কি সাধারণ ছুটি? ঈদের ছুটির বড় খবর বৃহস্পতিবার
- দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড: কার কপালে দ্বিতীয় ফাইনাল?
- বাংলাদেশ বনাম চীন: চরম উত্তেজনায় শেষ হলো ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- এক লাফে কমলো স্বর্ণে দাম: জানুন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম
- চলছে বাংলাদেশ বনাম চীন ম্যাচ: ৭০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন সর্বশেষ ফলাফল
- এএফসি নারী এশিয়ান কাপ পয়েন্ট টেবিল: জানুন বাংলাদেশের অবস্থান
- বাড়লো আজকের সৌদি রিয়াল রেট (৩ মার্চ ২০২৬)
- দুই লাখ শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা
- মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা কি অন্য কেউ রাখতে পারবে? জানুন
- স্থগিত বৃত্তি পরীক্ষা এপ্রিলে: বড় সুযোগ বেসরকারি শিক্ষার্থীদের
- ১৬ মার্চ শেষ অফিস, টানা ৭ দিন ঈদের ছুটির পরিকল্পনা