ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

ইরান নিয়ে মহানবীর ভবিষ্যৎবাণী: মিলছে বর্তমানের সাথে?

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ০২ ১৭:১২:০৪
ইরান নিয়ে মহানবীর ভবিষ্যৎবাণী: মিলছে বর্তমানের সাথে?

বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে ইরান একটি আলোচিত নাম। একদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক, অন্যদিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে দেশটির অবস্থান। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইরান বা পারস্য সম্পর্কে এমন কিছু ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, যা আজ বাস্তবে দৃশ্যমান? হাদিসের আলোকে ইরানের অতীত, বর্তমান এবং শেষ জামানায় দেশটির ভূমিকা নিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ সব তথ্য।

ঐক্যই মুসলিম উম্মাহর প্রধান শক্তি

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইর মতে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি সতর্ক করেছেন যে, আমরা বিভক্ত হয়ে পড়লে শত্রুরা আমাদের দুর্বল করে ফেলবে। শহীদ মোতাহহারী (রহ.)-এর মতে, ইরানের ইতিহাস ইসলামের ইতিহাস থেকে আলাদা নয়। ইরানিরা প্রথমে মুসলিম, তারপর তারা ইরানি। ইমাম খোমেনী শিখিয়েছেন, ইসলামে আরব ও অনারবদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই; বরং তাকওয়াই হলো শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ইমাম মাহদীর শাসন

ইরানের তেল ও গ্যাস সম্পদ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম। হাদিসে বর্ণিত ইমাম মাহদীর শাসন আমলের বৈশিষ্ট্যের সাথে এই সম্পদের এক আধ্যাত্মিক যোগসূত্র পাওয়া যায়। বলা হয়েছে, ইমাম মাহদীর সময়ে আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, জমিনে ফসলের প্রাচুর্য দেখা দেবে এবং সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বন্টন হবে। অনেকে মনে করেন, ইরানের এই প্রাকৃতিক সম্পদ যদি ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা হাদিসের সেই ভবিষ্যৎবাণীরই প্রতিফলন ঘটাবে।

পারস্যের জ্ঞান ও মেধা: ঈমান যদি সুরাইয়া তারকায় থাকে

ইরানিদের মেধা সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস রয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী (সা.) সালমান ফারসি (রা.)-এর ওপর হাত রেখে বলেছিলেন, "যদি ঈমান সুরাইয়া (Pleiades) তারকার কাছেও থাকে, তবে পারস্যের কিছু লোক তা অর্জন করবে।" (সহীহ মুসলিম)।

ইতিহাস এর সাক্ষী। ইসলামের স্বর্ণযুগে ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিযী এবং ইমাম আবু হানিফার মতো মহান মনীষীরা পারস্য বংশোদ্ভূত ছিলেন। বিজ্ঞান ও দর্শনে ইবনে সিনা, আল-ফারাবি, আল-বিরুনী ও আল-খোয়ারিজমির অবদান অনস্বীকার্য।

শেষ জামানার আলামত ও ইরান

শেষ জামানা বা কেয়ামতের বেশ কিছু আলামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা ইরানের সাথে সম্পর্কিত:

১. কালো পতাকাবাহী বাহিনী: হাদিস অনুযায়ী, শেষ জামানায় খোরাসান (প্রাচীন পারস্যের অংশ) থেকে কালো পতাকাবাহী একটি দল বের হবে। তারা ইমাম মাহদীর আগমনের পথ প্রশস্ত করবে।

২. সুফিয়ানীর আবির্ভাব: এক ধ্বংসাত্মক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যিনি ইরানসহ বিভিন্ন দেশে বিপর্যয় চালাবেন, যার পর ইমাম মাহদীর আগমন ঘটবে।

৩. দাজ্জালের অনুসরণ: সহীহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, আসফাহানের (ইরানের একটি শহর) ৭০ হাজার ইহুদি দাজ্জালের অনুসারী হবে। বর্তমানেও আসফাহানে একটি প্রাচীন ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করে।

৪. ইয়াজুজ-মাজুজ: খোরাসানের দিক থেকে ইয়াজুজ-মাজুজের বের হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় আলোচনা রয়েছে।

সালমান ফারসি (রা.) ও পারস্যের মর্যাদা

ইসলামের প্রথম ইরানি মুসলিম সালমান ফারসি (রা.)। সত্যের সন্ধানে তিনি নিজ দেশ ছেড়ে সিরিয়া হয়ে আরবে পৌঁছেছিলেন। নবীজী (সা.) তাকে এতটাই ভালোবাসতেন যে বলেছিলেন, "সালমান আমাদের আহলে বায়তের (পরিবারের) অন্তর্ভুক্ত।" তার মাধ্যমেই পারস্য সম্পর্কে নবীজীর প্রথম ভবিষ্যৎবাণীগুলো প্রকাশিত হয়।

কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে। তবে আলামতগুলো নিয়ে গবেষণা করা মুমিনের কাজ। ইরানের ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঈমান ও তাকওয়ার পথে অবিচল থাকাই সাফল্যের চাবিকাঠি। মুসলিম উম্মাহর উচিত বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ