MD. Razib Ali
Senior Reporter
১৮ মাস ধরে নেই আইপিও! ইতিহাসের বিরল সংকটে দেশের শেয়ারবাজার
দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে লেনদেনের গতি ফিরতে শুরু করেছে। জাতীয় নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়লেও সূচকের ওঠানামা এখনও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে এবং বাজারকে বড় কোনো পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে শক্তিশালী ও ভালো মানের কোম্পানির শেয়ার বাজারে আনা প্রয়োজন।
দেড় বছর ধরে স্থবির আইপিও বাজার
শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়াতে নতুন শেয়ারের সরবরাহ অপরিহার্য হলেও দেশের বাজারে বর্তমানে এক বিরল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ২০২৪ সালের জুনে সর্বশেষ ‘টেকনো ড্রাগস’ আইপিও’র মাধ্যমে মূলধনী বাজারে এলেও এরপর দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে নতুন কোনো কোম্পানির দেখা মেলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন নতুন কোনো বিকল্প না থাকায় বাজারে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগে মিশ্র চিত্র
ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ার কেনা-বেচার আগ্রহ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করেছেন, যার বিপরীতে বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ, মাস শেষে নিট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি টাকার বেশি।
তবে সামগ্রিক চিত্র কিছুটা ভিন্ন। টানা কয়েক মাস বিক্রির চাপ বেশি থাকায় বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও (BO) হিসাবের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যেখানে ৫৫,৫১২টি সচল বিও হিসাব ছিল, বর্তমানে তা ১২,৪০৬টি কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩,১০৬টিতে। তবে সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা দেখে বাজারসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিদেশিদের অংশগ্রহণ আবারও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: বাজারকে দিতে হবে ‘নতুন রক্ত’
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম মনে করেন, একটি গতিশীল বাজারের জন্য আইপিও অনেকটা ‘নতুন রক্ত’ (New Blood) সরবরাহের মতো। বাজারে পর্যাপ্ত ভালো শেয়ারের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসম্পন্ন কোম্পানির আইপিও এলে বাজারে নতুন তহবিল ও নতুন বিনিয়োগকারী উভয়ই আকৃষ্ট হবে।
অন্যদিকে, ডিএসইর সাবেক পরিচালক মো. শাকিল রিজভী জোর দিয়েছেন কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতার ওপর। তার মতে, বাজারে দীর্ঘস্থায়ী আস্থা ফেরাতে হলে কেবল নামমাত্র আইপিও নয়, বরং শক্তিশালী আর্থিক ভিত আছে এমন কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসার সুযোগ করে দিতে হবে।
লেনদেনে গতি ফিরলেও কাটছে না অস্বস্তি
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা ৮ কার্যদিবস লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার ঘরে থাকলেও এর বড় একটি সময় জুড়ে ছিল অস্থিরতা। এই আট দিনের মধ্যে তিন দিন লেনদেন হাজার কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করলেও ৬ দিনই বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের দরপতন প্রত্যক্ষ করেছেন। বিশ্লেষকদের স্পষ্ট বার্তা—বাজারকে কেবল লেনদেনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, টেকসই উন্নয়নের জন্য মানসম্পন্ন শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজারে চীনের বিশাল বিনিয়োগ: ডিএসইর বড় খবর
- বিশাল বিনিয়োগ ৩ লাখ ২ হাজার শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা খাতের বিনিয়োগকারীদের নজর ১৬ এপ্রিল: বড় লভ্যাংশের আভাস
- বিএসইসির বড় অ্যাকশন: নিষিদ্ধ ফারইস্ট লাইফের অডিটর
- ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম
- সুস্থ থাকতে দিনে ঠিক কয়টি খেজুর খাবেন? জানুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ
- ২ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার উপহার
- শেয়ারবাজারে কারসাজি রুখতে আসছে বিশেষ কমিশন
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬)
- বার্জার পেইন্টসের রাইট শেয়ার তহবিলের সময় বাড়াল বিএসইসি
- আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুই ম্যাচের সময়সূচি ঘোষণা দেখুন প্রতিপক্ষ যারা
- আর কত দিন চলবে পেট্রল-অকটেনে, জানাল জ্বালানি বিভাগ
- ৮০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৫ বিভাগে সতর্কবার্তা
- সাকিবকে ফেরানো নিয়ে আসিফ আকবরের ‘গোপন খেলা’ ফাঁস!
- আজকের খেলার সময়সূচী:কোয়েটা বনাম রাওয়ালপিন্ডি