ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

Md. Mithon Sheikh

Senior Reporter

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির পাঁচ নেতা

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৬:৩৯:৫১
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির পাঁচ নেতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ও জোটগত ঐক্য বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। শরিক দলগুলোর সাথে আসন সমঝোতা নির্বিঘ্ন করতে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন দলের পাঁচ প্রভাবশালী নেতা।

গুলশান কার্যালয়ে জরুরি তলব

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপির একাধিক নেতা মাঠে থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে অস্বস্তি তৈরি হয়। এই সংকট নিরসনে সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওই নেতাদের তলব করা হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে সরাসরি আলোচনার পর প্রার্থীরা স্বেচ্ছায় নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।

যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১: সৈয়দ একে একরামুজ্জামান

সাবেক এই খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘ ২০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দল ও নেত্রীর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। এখন থেকে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।

সুনামগঞ্জ-৫: মিজানুর রহমান চৌধুরী

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সমর্থকদের আবেগ ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দলের স্বার্থ তার কাছে বড়। তাই দলীয় প্রধানের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন।

মাদারীপুর-৩: আসাদুজ্জামান পলাশ

যুবদলের এই নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগপূর্ণ স্ট্যাটাসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেই তার এই সিদ্ধান্ত।

ঝিনাইদহ-৪: মুর্শিদা খাতুন (পপি)

জেলা বিএনপির এই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ ও নারায়ণগঞ্জ-২: নেতৃত্বের কড়া নির্দেশনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি গণসংহতি আন্দোলনকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা এমএ খালেক গুলশানে তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের পর ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। একইসাথে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুরকেও গুলশানে ডেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএনপির এই কড়া অবস্থান জোটের শরিকদের মধ্যে আস্থা বাড়াবে। তারেক রহমানের এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটে যাবে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপি একক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে।

এই পদক্ষেপের ফলে সারা দেশের অন্যান্য আসনেও যারা বিদ্রোহী হিসেবে রয়েছেন, তাদের জন্য একটি শক্ত বার্তা পৌঁছাল বলে মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ