MD Zamirul Islam
Senior Reporter
ধানের শীষ বনাম বিদ্রোহী: বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা যেসব আসনে বিপদে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির অভ্যন্তরে অস্বস্তি ও উদ্বেগের ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত ‘হেভিওয়েট’ নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা এবং শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে দলীয় বিদ্রোহীদের অনড় অবস্থান বিএনপিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিপরীতে দলেরই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতারা ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ায় মাঠপর্যায়ে চরম বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
বিদ্রোহী দমনে তারেক রহমানের ‘সরাসরি’ তৎপরতা
দলীয় সূত্রমতে, বিদ্রোহ দমনে বিএনপি বর্তমানে ‘কঠোরতা ও সমঝোতা’—এই দুই কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে। লন্ডনে অবস্থানরত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ং গুলশান কার্যালয়ের মাধ্যমে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। তবে যারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের খড়্গ নামিয়ে আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ৯ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিএনপির পদধারী অন্তত ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে এবং আরও ২০ জন নেতা দলীয় সিদ্ধান্তে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে এখনো অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয়। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন নেতাকে ‘হেভিওয়েট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যারা স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছেন।
মাঠে অনড় প্রভাবশালী বিদ্রোহীরা: চ্যালেঞ্জের মুখে ধানের শীষ
তৃণমূলের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনসহ বিগত ১৫ বছরের কঠিন সময়ে রাজপথে থাকা অনেক নেতাই এবার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন। তাদের যুক্তি—দীর্ঘদিন জেল-জুলুম সহ্য করেও তারা জনগণের সঙ্গে ছিলেন, তাই এখন ভোটারদের চাপে তারা মাঠ ছাড়তে পারছেন না।
নাটোর-১: এখানে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। তিনি দাবি করেছেন, জনগণের জনপ্রিয়তার প্রমাণ ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটেই পাওয়া যাবে।
মুন্সীগঞ্জ-৩: কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতনের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, রাজপথে জেল-নির্যাতন সহ্য করা কর্মীদের কথা ভেবেই তিনি প্রার্থিতা ছাড়ছেন না।
নোয়াখালী-৬: এই আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনবারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিমসহ আরও দুজন প্রভাবশালী নেতা।
টাঙ্গাইল-৫: কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। বহিষ্কারের তোয়াক্কা না করে তিনি ভোটের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।
অন্যান্য আসন: এছাড়াও মানিকগঞ্জ-১ আসনে জিন্নাহ কবীরের বিপক্ষে তোজাম্মেল হক তোজা, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আতাউর রহমান আতা এবং সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডা. শহিদুল আলম ধানের শীষের প্রার্থীদের ব্যাপক চাপের মুখে রেখেছেন।
শরিকদের আসনেও বিএনপির ‘স্বতন্ত্র’ দুশ্চিন্তা
যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের ১৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এর মধ্যে ৮টি আসনেই মিত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির পদধারী নেতারা। এর ফলে ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া যারা নিজ দলীয় প্রতীকে লড়ছেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: এখানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি জুনায়েদ আল হাবিবের বিপরীতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মামুন।
ঢাকা-১২: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে টিকে আছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব।
বগুড়া-২ ও ঝিনাইদহ-৪: মাহমুদুর রহমান মান্না এবং রাশেদ খানের বিপরীতেও বিএনপির প্রভাবশালী বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনি সমীকরণ বদলে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাইকমান্ডের কঠোর বার্তা
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বিএনপির মতো বড় দলে যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। আমরা আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান না দেখালে অবশ্যই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনড় অবস্থানের কারণে তৃণমূলের ভোটার ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের তৎপরতা কতটা কাজে আসে এবং বিদ্রোহীরা মাঠ ছাড়েন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
সোহেল/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ১৪ ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে সুখবর দিল বিএসইসি
- আজ চট্টগ্রাম বনাম নোয়াখালী ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে লাইভ দেখবেন
- বিএসসিতে ৫৪ বছরের রেকর্ড মুনাফা: বিএসসিকে নতুন লক্ষ্য দিলেন ইউনূস
- মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা: কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ছে?
- বড় লাভের আশায় শেয়ার ছাড়ছেন না বিনিয়োগকারীরা: ডিএসইতে সূচকের জয়যাত্রা
- বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটালো ৪ কোম্পানির শেয়ার
- ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে ফেরাতে বিএসইসির নতুন আইপিও রুলস
- ভারত বনাম বাংলাদেশ: গোলের বন্যা, শেষ ৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- চলছে ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ: প্রথমার্ধে ৪ গোল, খেলাটি সরাসরি দেখুন Live
- বিশ্বকাপে ভারত সফরে অনড় আপত্তি বিসিবির, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে কি হলো?
- শেয়ারবাজারে আজ সূচকের চমক, বিক্রেতা সংকটে হল্টেড ৮ কোম্পানি
- আজ ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ২য় ওয়ানডে ম্যাচ:সরাসরি Liveদেখবেন যেভাবে
- আজকের সোনার দাম: (বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬)
- মার্কেট মুভারে বড় রদবদল: লেনদেনের শীর্ষে নতুন ৪ কোম্পানি, সূচক ঊর্ধ্বমুখী
- নতুন রেকর্ড: সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে সোনা-রুপা