অর্ণব ঘূর্ণিঝড় কবে হবে? সর্বশেষ পূর্বাভাসে যা আছে
এখনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়নি, কিন্তু উত্তর আন্দামান সাগরের একটি আবহাওয়া ব্যবস্থা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। থাইল্যান্ড উপকূলের কাছাকাছি তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তটি শক্তি সঞ্চয় করলে প্রথমে নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এরপর পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সেটি ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য সেই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের দেওয়া। তবে কেবল ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলেই এই নাম ব্যবহার করা হবে না। আবহাওয়া ব্যবস্থাটি নির্ধারিত মাত্রায় শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে পৌঁছালেই নামটি কার্যকর হবে।
এখনো নিশ্চিত নয় ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়া
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটির ভবিষ্যৎ শক্তি ও গতিপথ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া মডেল জিএফএসের হিসাবে পরবর্তী সময়ে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) এখন পর্যন্ত নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
অর্থাৎ একই আবহাওয়া ব্যবস্থাকে ঘিরে পরবর্তী পর্যায়ে শক্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
২১-২২ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে
আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের দিকে সিস্টেমটি আরও সংগঠিত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এর সম্ভাব্য অগ্রসর হওয়ার দিক হিসেবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের কথা বলা হয়েছে।
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের পূর্ব উপকূলের কয়েকটি অঞ্চলে এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাব দেখা যেতে পারে। তবে প্রভাবের বিস্তৃতি এখনই নির্দিষ্ট নয়। সেটি অনেকটাই নির্ভর করবে ঘূর্ণাবর্তটি পরবর্তী সময়ে কতটা শক্তি অর্জন করে এবং কোন পথে এগোয় তার ওপর।
বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার আশঙ্কা
সম্ভাব্য সিস্টেমটির প্রভাবের অংশ হিসেবে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতা রয়েছে। ওই সময়ে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া হতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বাইরে ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে বৃষ্টি
এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে থাকা ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবের সঙ্গে আরও দুটি আবহাওয়াগত রেখার প্রভাব যুক্ত হয়েছে। সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা এবং সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
শনিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টির ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি রাখা হয়েছে।
‘অর্ণব’ নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়
বর্তমান অবস্থায় ‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় কবে আঘাত হানবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না। কারণ আবহাওয়া ব্যবস্থাটি এখনো ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য ধারাবাহিকতা হলো—ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিম্নচাপ, এরপর গভীর নিম্নচাপ এবং পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা পরবর্তী আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
সিস্টেমটি যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তখন এর সম্ভাব্য গতিপথ, শক্তি এবং প্রভাব সম্পর্কে পরবর্তী পূর্বাভাসে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মুনাফার ধারাবাহিকতার পর বিএসআরএম স্টিলে আসছে বড় সিদ্ধান্ত
- Vivo V80 কেনার আগে জেনে নিন এর ভালো-মন্দ, কার জন্য সেরা
- Vivo V80: ৭,২০০mAh ব্যাটারি ও ZEISS ক্যামেরার চমক
- আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন ম্যাচ কখন, কোথায় কীভাবে লাইভ দেখবেন
- OPPO F35 Pro 5G: ৮,০০০mAh ব্যাটারি ও ১৪৪Hz AMOLED
- আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন ম্যাচ: সময়, একাদশ ও লাইভ দেখার উপায়
- ডোমিনেজ স্টিলে মালিকানা বদল, এবার পর্ষদেও বড় রদবদল
- আয়-সম্পদে বড় উত্থান অ্যাপেক্স ফুডসের, ডিভিডেন্ড কেন একই?