ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়া ভিসায় নতুন অগ্রাধিকার, বাংলাদেশিদের যা জানা দরকার

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১২:৫৭:৩২
অস্ট্রেলিয়া ভিসায় নতুন অগ্রাধিকার, বাংলাদেশিদের যা জানা দরকার

অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মী হিসেবে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার পর কার ভিসার ফাইল আগে এগোবে, সেই প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু হওয়া নতুন ব্যবস্থায় আবেদনগুলো শুধু জমা দেওয়ার সময় বা সাধারণ ক্রমানুসারে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না। আবেদনকারীর পেশা, সংশ্লিষ্ট কর্মখাত, আবেদনের সময় তার অবস্থান এবং ভিসার ধরন—সবকিছু মিলিয়ে নির্ধারিত হবে প্রক্রিয়াকরণের অগ্রাধিকার।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ভিসার যোগ্যতার মাপকাঠি বদলানো হয়নি। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় কে ভিসার জন্য যোগ্য হবেন, সেটি নির্ধারণ করা হচ্ছে না; বরং যোগ্য আবেদনগুলোর মধ্যে কোন ফাইল আগে বিবেচনায় আসবে, সেই অগ্রাধিকার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নিয়মটি আগের মন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা ১১৯-এর প্রক্রিয়াকরণ অগ্রাধিকারকে সরিয়ে কার্যকর হয়েছে।

কোন পেশা ও খাত এগিয়ে থাকবে

অস্থায়ী দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে নতুন অগ্রাধিকার কাঠামোর শুরুতেই রয়েছে কয়েকটি নির্দিষ্ট খাত। মন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা ১২১ অনুযায়ী নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা ও শিক্ষা, কৃষি, অ্যাকুয়াকালচার বা জলজ চাষ, মৎস্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ বা রিসোর্স-সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

এর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রতিরক্ষা খাতের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত আবেদনও অগ্রাধিকারভুক্ত করা হয়েছে।

ফলে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির উদ্দেশ্যে আবেদন করতে চান এমন ব্যক্তিদের জন্য নিজের পেশা কোন খাতের আওতায় পড়ে, সেটি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৪৮২ ভিসায় অগ্রাধিকারের পরের ধাপ

প্রথম সারির অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আবেদনগুলোর পর রয়েছে স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা বা সাবক্লাস ৪৮২-এর স্পেশালিস্ট স্কিলস স্ট্রিম।

এরপর বিবেচনায় আসবে আবেদনকারীর অবস্থান। অর্থাৎ আবেদন করার মুহূর্তে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে ছিলেন, নাকি দেশের বাইরে—সেটিও ভিসা ফাইল প্রক্রিয়াকরণের ক্রম নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীদের আবেদন আগে প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিবেচিত হবে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করা আবেদন পরবর্তী ধাপে থাকবে।

এর ফলে বাংলাদেশে অবস্থান করে আবেদন করা একজন দক্ষ কর্মীর ফাইল একই ধরনের অন্য কোনো আবেদনের তুলনায় পরে প্রক্রিয়াকরণের পর্যায়ে যেতে পারে, যদি অন্য আবেদনকারী তখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে আবেদন করে থাকেন।

তবে বিদেশে থাকা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই অগ্রাধিকার প্রযোজ্য হওয়ার জন্য তার আবেদন অন্য কোনো ব্যক্তির আবেদনের সঙ্গে একত্রিত থাকা যাবে না। নির্ধারিত অগ্রাধিকার শ্রেণির আবেদনগুলো বিবেচনার পর বাকি আবেদনগুলো প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

পুরোনো সাবক্লাস ৪৮২ নিয়েও রয়েছে উল্লেখ

নতুন নির্দেশনায় বর্তমান স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা (সাবক্লাস ৪৮২)-এর পাশাপাশি আগের টেম্পোরারি স্কিল শর্টেজ ভিসা (সাবক্লাস ৪৮২)-এর কথাও রয়েছে।

তবে দুই ভিসাকে একই সময়ের চালু ভিসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে টেম্পোরারি স্কিল শর্টেজ ভিসার পরিবর্তে স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা চালু হয়েছে।

স্থায়ী ভিসার আবেদনেও অগ্রাধিকারের নতুন কাঠামো

নতুন ব্যবস্থা কেবল অস্থায়ী দক্ষ কর্মীদের ভিসার মধ্যেই সীমিত নয়। স্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রেও আবেদন কোন ক্রমে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে, তার জন্য একই ধরনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা, কৃষি, অ্যাকুয়াকালচার, মৎস্য ও রিসোর্স খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো অগ্রাধিকার পাবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রতিরক্ষা খাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আবেদনও এই তালিকায় থাকবে।

এরপর বিবেচনা করা হবে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে জমা দেওয়া আবেদন। তার পরের পর্যায়ে থাকবে এমন আবেদন, যার প্রধান আবেদনকারী আবেদন করার সময় অস্ট্রেলিয়ার বাইরে ছিলেন।

এখানেও একটি শর্ত রয়েছে। কোনো আবেদন অন্য ব্যক্তির আবেদনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

আগে আবেদন করলেও নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে

নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা শুধু ওই দিন বা তার পরের আবেদনেই সীমাবদ্ধ নয়।

এর আগে জমা পড়া যেসব আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন প্রক্রিয়াকরণ অগ্রাধিকার প্রযোজ্য হবে। ফলে আগে আবেদন করে অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ফাইলও নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রভাবিত হতে পারে।

অগ্রাধিকার মানেই নির্দিষ্ট সময়ে ভিসা নয়

নতুন নিয়মে কোনো আবেদন অগ্রাধিকার পেলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেটির প্রক্রিয়াকরণ শেষ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, একটি আবেদন শেষ করতে কত সময় লাগবে, তা একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব নথি দেওয়া হয়েছে কি না, অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হলে আবেদনকারী কত দ্রুত তা সরবরাহ করছেন এবং স্বাস্থ্য ও চরিত্র যাচাই শেষ হতে কতটা সময় লাগছে—এসব বিষয় এর মধ্যে রয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন হলে সেটি করতে কত সময় লাগছে, আবেদনের জটিলতা কেমন এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে কতসংখ্যক আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে—এসবও প্রক্রিয়াকরণের সময়কে প্রভাবিত করতে পারে।

স্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আওতায় নির্ধারিত ভিসার স্থান কতটা রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

বাংলাদেশিদের জন্য কী বোঝা যাচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মী হিসেবে যাওয়ার প্রস্তুতিতে এখন শুধু নিজের পেশা ভিসার যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে কি না, তা দেখলেই হবে না। সেই পেশা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের অন্তর্ভুক্ত কি না, আবেদন করার সময় আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন নাকি দেশের বাইরে ছিলেন এবং আবেদনটি প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিসহ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা কোনো আবেদনকে ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভিসার যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণের বিষয়গুলো আলাদাভাবে প্রযোজ্য থাকবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ