দুই বছর আইপিও নেই, নতুন কোম্পানি আনতে ডিএসইর দুই উদ্যোগ
দুই বছরের বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্য কোনো আইপিও না আসায় শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি প্রবেশের পথ সহজ করতে বিকল্প কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরির পাশাপাশি ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ভালো কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ডাইরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর আবেদন করলে লিস্টিং ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএসইর পরিকল্পনায় শুধু দেশীয় কোম্পানি নয়, সরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকেও সরাসরি শেয়ারবাজারে আনার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কোম্পানি আনার উদ্যোগ
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসইর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার এবং ডিএসইর ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমও বক্তব্য দেন।
মমিনুল ইসলাম জানান, দুই বছরের বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্য কোনো আইপিও বাজারে আসেনি। এই সময়ে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিও হয়নি। ফলে ভালো কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে সহজ করার লক্ষ্যেই সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য নতুন বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
২০২৭ সালের মধ্যে ১০ কোম্পানি
ডিএসইর নতুন পরিকল্পনায় ২০২৭ সালকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে অন্তত ১০টি ভালো কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে সরকারি, বহুজাতিক এবং দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানির সরাসরি শেয়ারবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে আইপিওর বাইরে সরাসরি তালিকাভুক্তির একটি পথ কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে।
লিস্টিং ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড়
কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসতে উৎসাহিত করতে খরচের দিক থেকেও সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ডাইরেক্ট লিস্টিং অথবা আইপিওর জন্য আবেদন করা হলে লিস্টিং ফি অর্ধেক করে দেওয়া হবে।
অর্থাৎ ওই সময়সীমার মধ্যে আবেদন করা কোম্পানিগুলো লিস্টিং ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে। নতুন প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারমুখী করার পাশাপাশি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও লিস্টিং ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইপিওর নিয়মেও আসছে পরিবর্তনের উদ্যোগ
ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পাশাপাশি আইপিও প্রক্রিয়াকেও সহজ করার প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ করছে ডিএসই।
মমিনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিধিমালা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হতে পারে। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে বিধিমালা চূড়ান্ত করা, জনমত যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও নজর
শুধু নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করাই নয়, শেয়ারবাজারে বিদেশি অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়টিও পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক আনার বিষয়ে সরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে বাজারে নতুন অর্থপ্রবাহ তৈরির সুযোগ থাকবে।
অর্থনীতির চাপ কাটলে বাজার আরও গতিশীল হওয়ার আশা
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের চাপ থাকলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মমিনুল ইসলাম। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা যাচ্ছে।
নতুন সিকিউরিটিজ বাজারে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে শেয়ারবাজারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
একসঙ্গে কাজ করবে ডিএসই, সিডিবিএল ও সিসিবি
শেয়ারবাজারকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ডিএসইর পাশাপাশি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ (সিসিবি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে ডিএসইতে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে বাকি কয়েকটি ধাপ
ডিএসইর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ১০টি কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ে আনার পরিকল্পনা এখনই কার্যকর হচ্ছে না।
নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত করার পর জনমত যাচাই করতে হবে। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়াও শেষ করতে হবে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই ডাইরেক্ট লিস্টিং ও আইপিও নিয়ে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল: কিছুক্ষণ পর ম্যাচ, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- অ্যাটলেটিকো-রিয়াল ম্যাচ চলছে: লাল কার্ড ও গোল দেখুন Live
- চলছে অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল মাদ্রিদ: লাল কার্ড, ২ গোলের ম্যাচে ফলাফল কী
- দুই বছরের বেশি আর্থিক প্রতিবেদন নেই, সিঅ্যান্ডএতে ডিএসইর পরিদর্শন
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের দাম কত
- ভ্যাট রিটার্নে নতুন নিয়ম, ১১ খাতে অনলাইন দাখিল বাধ্যতামূলক
- ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে মিরসরাইয়ে এমইপির নতুন কারখানা
- বাংলাদেশ বনাম ভারত সেমিফাইনালে কে জিতল? জানুন ফলাফল
- উৎপাদন দ্বিগুণ, বাড়ছে মুনাফা-নগদ প্রবাহ; সুখবরের অপেক্ষায়
- অ্যাতলেটিকো বনাম রিয়াল: সম্ভাব্য একাদশ, প্রিভিউ ও লাইভ দেখবেন যেভাবে
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট(২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- কমার পর বাড়লো আজকের সৌদি রিয়াল রেট (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- আজকের টাকার রেট কত(২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সান্ডারল্যান্ড: ৮ গোলের ম্যাচে শেষ হাসি কার?