ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় ধাক্কা, মঙ্গলবারও চাপে শেয়ারবাজার

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৫:৩২:১২
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় ধাক্কা, মঙ্গলবারও চাপে শেয়ারবাজার

লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বাড়লেও মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শেয়ারবাজারে স্বস্তির চিত্র ফেরেনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২৭টির শেয়ারদর কমেছে। এর সঙ্গে প্রধান সূচকের পতনও বাজারের চাপের দিকটি স্পষ্ট করেছে। যদিও অপর দুই সূচক সামান্য বেড়েছে এবং মোট লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়েছে।

দিনটির এমন পরস্পরবিরোধী চিত্রে বাজারে একদিকে লেনদেন অব্যাহত ছিল, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ও দ্বিধাও ছিল। আগের দিনের দর সংশোধনের পর বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, মঙ্গলবারের গতিপথে তার উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন দেখা যায়নি।

৭৯১ কোটি টাকার লেনদেন, বেড়েছে মাত্র ২ কোটি ৭৮ লাখ

অর্থমূল্যের হিসাবে ডিএসইর মঙ্গলবারের লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৯১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সেখানে এক দিনের ব্যবধানে পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

অর্থাৎ বাজারে লেনদেন পুরোপুরি স্থবির ছিল না। তবে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের দরচিত্রে সেই সক্রিয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়নি।

৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৩টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ২২৭টির দর কমেছে এবং ৫৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রধান সূচকে পতন, অন্য দুই সূচকে সামান্য উত্থান

দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০.১৭ পয়েন্ট হারিয়েছে। এতে সূচকটির অবস্থান হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০.৩২ পয়েন্ট।

তবে বাজারের অন্য দুই সূচক একই পথে হাঁটেনি। ডিএসইএস ১.৫৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৮.৫৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ০.২৫ পয়েন্ট বেড়ে দিনশেষে অবস্থান করেছে ২ হাজার ১০৬.১৭ পয়েন্টে।

ফলে মঙ্গলবারের বাজারকে কোনো একক প্রবণতায় ব্যাখ্যা করা যায়নি। প্রধান সূচকের পতনের বিপরীতে দুই সূচকের সামান্য বৃদ্ধি এবং লেনদেনের পরিমাণ বাড়ায় সামগ্রিক চিত্রে মিশ্রতা ছিল।

আগের দিনের সংশোধনের পরও ফেরেনি প্রত্যাশিত গতি

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের দিনের দর সংশোধনের পর মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে কিছুটা পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দিনের লেনদেনে সেই প্রত্যাশা বাস্তব রূপ নেয়নি।

দিনের বিভিন্ন সময়ে সূচকের ওঠানামা বাজারের স্থিরতার অভাবকে সামনে এনেছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার কেনাবেচায় যুক্ত থাকলেও অন্য অংশ বাজারের গতিপথ বুঝতে পর্যবেক্ষণে থেকেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে টানা দরপতনের প্রভাবও বিনিয়োগকারীদের আচরণে রয়েছে। নিজেদের পুঁজি সুরক্ষিত রাখাকে গুরুত্ব দিয়ে অনেকে হিসাব-নিকাশ করে লেনদেনে যাচ্ছেন। ফলে বাজারে একই সঙ্গে দুটি মনোভাব কাজ করছে—একদিকে আতঙ্ক, অন্যদিকে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা।

স্থিতিশীলতার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থাকা আতঙ্ক কমতে পারে। তখন তারা আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে লেনদেনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে মঙ্গলবারের বাজারে সক্রিয়তা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধি পাওয়াই তার প্রমাণ। কিন্তু দর হারানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে।

সিএসইতে কমেছে লেনদেন, নেমেছে সূচক

ডিএসইর তুলনায় দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মঙ্গলবার লেনদেন ও সূচক—দুই ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী চিত্র দেখা গেছে।

সিএসইতে দিনটিতে মোট ১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২১ কোটি ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে।

এদিন সিএসইতে ১৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৮৫টির দর কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআইও দিনশেষে নিম্নমুখী ছিল। সূচকটি ৬.৩৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮১৫.৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। এর আগের কার্যদিবসে সিএএসপিআই কমেছিল ৩৪.০৮ পয়েন্ট।

বাজারে এখনো স্পষ্ট ঘুরে দাঁড়ানোর সংকেত নেই

মঙ্গলবারের লেনদেনে তাই শেয়ারবাজারের দুই প্রধান প্ল্যাটফর্মে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও প্রধান সূচক কমেছে এবং অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দর নেমেছে। বিপরীতে সিএসইতে লেনদেনের পাশাপাশি সার্বিক সূচকও কমেছে।

সব মিলিয়ে আগের দিনের দর সংশোধনের পর বাজারে যে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, মঙ্গলবার তা পূরণ হয়নি। সূচকের ওঠানামা, দর হারানো প্রতিষ্ঠানের আধিক্য এবং সাম্প্রতিক দরপতনের প্রভাব বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে সতর্কতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের পরিস্থিতি বদলানোর প্রত্যাশাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ