ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

১০ মিনিটেই জমির খতিয়ান, জানুন অনলাইনে পর্চা পাওয়ার নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৬:২২:৪৬
১০ মিনিটেই জমির খতিয়ান, জানুন অনলাইনে পর্চা পাওয়ার নিয়ম

জমির খতিয়ান পেতে আগে ভূমি অফিসে ছুটতে হতো, অপেক্ষা করতে হতো দীর্ঘ সময়। অনেকের ক্ষেত্রে দালালের সহায়তা নেওয়া কিংবা একাধিকবার অফিসে যাওয়ার ঝামেলাও ছিল। সেই প্রচলিত পদ্ধতির বদলে এখন অনলাইনেই মিলছে জমির পর্চা বা খতিয়ানের কপি। বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল ভূমি সেবার আওতায় ePorcha.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ঘরে বসে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে খতিয়ান ডাউনলোড করা সম্ভব।

এই সেবায় আবেদন থেকে শুরু করে ফি পরিশোধ—প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো অনলাইনেই সম্পন্ন করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য ও জমির বিবরণ দিয়ে খতিয়ান খুঁজে নেওয়ার পর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কপি ডাউনলোডের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে খতিয়ান সংগ্রহে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভূমি অফিসে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াতও কমছে।

যে তথ্যগুলো আগে প্রস্তুত রাখবেন

অনলাইনে খতিয়ান সংগ্রহের আগে জমিটির বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য জানা থাকতে হবে। একই সঙ্গে কোন ধরনের খতিয়ান প্রয়োজন সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। ওয়েবসাইটে ‘সার্ভে খতিয়ান’ এবং ‘নামজারি খতিয়ান’—দুই ধরনের অপশন রয়েছে।

খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বি.আর.এস, বি.এস, সি.এস, আর.এস, এস.এ, দিয়ারা ইত্যাদি অপশন থেকে সংশ্লিষ্টটি বেছে নিতে হবে। এরপর জমির মৌজা নির্ধারণ করে খতিয়ান অনুসন্ধানে যেতে হবে।

খতিয়ান খুঁজবেন যেভাবে

মৌজা নির্বাচন করার পর খতিয়ান নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে। অনুসন্ধানের ফলাফলে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নম্বরের সঙ্গে মালিকের নামও দেখা যাবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় খতিয়ানটি শনাক্ত করে সেটিতে ক্লিক করতে হবে।

এরপর আবেদন করার সুযোগ আসবে। আবেদন প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই হয়ে গেলে আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে।

অর্থাৎ, খতিয়ান খোঁজার পর ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের কাজটিও একই অনলাইন প্রক্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন করা যায়।

খতিয়ানের কপি পেতে কত টাকা লাগবে

আবেদনের পর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। খতিয়ানের ধরন অনুযায়ী নয়, এখানে কপির ধরন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত রয়েছে।

অনলাইন কপি (তাৎক্ষণিক) সংগ্রহের জন্য দিতে হবে ১০০ টাকা। আর সার্টিফাইড কপি পেতেও ফি ১০০ টাকা। তবে সার্টিফাইড কপি ডাকযোগে নেওয়ার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে আরও ৪০ টাকা দিতে হবে।

ফি পরিশোধের জন্য আলাদা করে ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও একপেসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অনলাইনেই পেমেন্ট করা যাবে।

পেমেন্টের পর কী হবে

ফি পরিশোধ সফল হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। কয়েক মিনিটের মধ্যেই খতিয়ানের কপি ডাউনলোড করা যাবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি ঘরে বসেই প্রিন্ট করে ব্যবহার করা সম্ভব।

এই পুরো ব্যবস্থায় জমির খতিয়ান সংগ্রহের জন্য আগে যে দীর্ঘ অপেক্ষা ও বারবার ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হতো, সেটি এড়িয়ে অনলাইনেই কাজ শেষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কেন এই সেবা নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

জমির একটি খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করতে আগে অনেক সময় সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেত। সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ এবং দালালের ঝামেলাও ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খতিয়ান সংগ্রহ অনেক সময় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত।

অনলাইন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়াকে অপেক্ষাকৃত দ্রুত ও সহজ করা হয়েছে। এখন জমির প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান, আবেদন, পরিচয় যাচাই এবং ফি পরিশোধের পর অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যায়। এতে একদিকে নাগরিকের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে ভূমি অফিসে সরাসরি সেবাগ্রহীতার চাপও কমছে।

সব মিলিয়ে, ePorcha.gov.bd-এর মাধ্যমে জমির পর্চা সংগ্রহের সুযোগ ভূমি সেবাকে ঘরে বসে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে খতিয়ানের কপি পাওয়ার এই প্রক্রিয়ায় নাগরিককে দীর্ঘ সময় ধরে অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হচ্ছে না।

FAQ

প্রশ্ন: অনলাইনে জমির খতিয়ান পেতে কোন ওয়েবসাইটে যেতে হবে?

উত্তর: ePorcha.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে জমির খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করা যাবে।

প্রশ্ন: অনলাইন কপির জন্য কত টাকা দিতে হয়?

উত্তর: তাৎক্ষণিক অনলাইন কপির ফি ১০০ টাকা।

প্রশ্ন: সার্টিফাইড কপি ডাকযোগে নিতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: সার্টিফাইড কপির ফি ১০০ টাকা। ডাকযোগে নিতে চাইলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিতে হবে।

প্রশ্ন: খতিয়ানের ফি কীভাবে পরিশোধ করা যাবে?

উত্তর: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও একপেসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ফি দেওয়া যাবে।

প্রশ্ন: খতিয়ান ডাউনলোডের আগে কী কী তথ্য প্রয়োজন?

উত্তর: জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা, খতিয়ানের ধরন ও মৌজা নির্বাচন করতে হবে। আবেদন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ