ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

কম দামে কেনা শেয়ারে মুনাফার সুযোগ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৪:৪০:৪৩
কম দামে কেনা শেয়ারে মুনাফার সুযোগ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

কয়েক দফা দরপতনের পর দেশের শেয়ারবাজারে আবারও ক্রেতাদের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। বুধবারের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের চেয়ে ৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা বেড়েছে। দিনের লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪৬টির শেয়ারদর বাড়ার চিত্রও বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে স্পষ্ট করেছে।

এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক পতনের সময় তুলনামূলক কম দামে কেনা ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোতে বাজারের গতি অব্যাহত থাকলে মুনাফার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এক দিনে বদলে গেল বাজারের চিত্র

গত সোমবার স্বাভাবিক দর সংশোধনের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে। পরদিন মঙ্গলবার সূচক ছিল মিশ্র অবস্থানে। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে সেই চিত্র বদলে গেছে। বুধবার ইতিবাচক প্রবণতায় দিন শেষ করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই।

শুধু প্রধান সূচক নয়, এদিন ডিএসইর তিন সূচকেই পয়েন্ট যোগ হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক দরপতনের পর বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখা দিয়েছে।

বুধবারের লেনদেনে ডিএসইএক্স ৫৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৯৬ দশমিক ২১ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

একই দিনে ডিএসইএস সূচকের অবস্থান হয়েছে ১ হাজার ১১৯ দশমিক ৩২ পয়েন্ট। আগের অবস্থান থেকে সূচকটি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট।

অন্যদিকে ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বাড়ায় তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২২ দশমিক ৭২ পয়েন্টে।

দর বেড়েছে ২৪৬ প্রতিষ্ঠানের

বুধবারের বাজারে কতটা বিস্তৃত ছিল এই উত্থান, তার আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দরের হিসাবে।

ডিএসইতে দিনটিতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেন করেছে। এর মধ্যে ২৪৬টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ১০২টির দর কমেছে। আর ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

অর্থাৎ দিনের লেনদেনে দর বাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই ছিল বেশি।

৮৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার লেনদেন

সূচকের সঙ্গে লেনদেনের গতিও বেড়েছে ডিএসইতে।

বুধবার দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অথচ মঙ্গলবার আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭৯১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

এক দিনের ব্যবধানে বাজারে টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।

চট্টগ্রামেও ইতিবাচক লেনদেন

ঢাকার বাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বুধবারের চিত্র ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

দিনটিতে সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে মোট ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। মঙ্গলবার এর পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

সিএসইতে বুধবার মোট ১৯১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ৫৮টির দর কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দিনের লেনদেন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৯১ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। এর আগের দিন এই সূচক ৬ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমেছিল।

দরপতনের মধ্যেও কেন মুনাফার সুযোগ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

বাজার সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যায়, ধারাবাহিক দরপতনের একটি দিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনার জায়গাও তৈরি করতে পারে। কারণ বাজার কমার সময়ে ভালো অনেক শেয়ার তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ আসে।

পরবর্তী সময়ে বাজারের প্রবণতা ঘুরে দাঁড়ালে কম দামে সংগ্রহ করা এসব শেয়ার বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

তাদের মতে, বুধবারের ইতিবাচক বাজারচিত্র যদি সামনে অব্যাহত থাকে, তাহলে সাম্প্রতিক দরপতনের সময়ে কেনা শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীরা ভালো মুনাফা পেতে পারেন।

তবে বাজারের এই ইতিবাচক গতি ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং আরও জোরদার করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: