ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৩ জন হাসপাতালে

সারাদেশ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৭:২৯:৫৮
গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৩ জন হাসপাতালে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের (তড়কা) উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জন হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও তিনজন। একই সময়ে রোগটির বিস্তার রোধে গবাদিপশুর টিকাদান এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

নতুন করে উপসর্গ দেখা দেওয়া তিনজনের পরিচয়ও জানা গেছে। তারা হলেন সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটি গ্রামের শাহিনুর বেগম (৩৫), আনছার আলী (৬৪) ও জবেদ আলী (৪৫)।

টিকার আওতায় ১৯ হাজার গবাদিপশু

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে গবাদিপশুকে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য আরও ১০ হাজার টিকার প্রয়োজন হওয়ায় সে অনুযায়ী চাহিদা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দাওয়াত থেকে ফেরার পর অসুস্থ তিনজন

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের হায়দার আলী, তার স্ত্রী আমিনা বেগম এবং তাদের চার বছরের ছেলে আদিল আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে যান। সেখানে তারা গরুর মাংস খান।

ওই রাতেই তাদের জ্বর ও মাথাব্যথা শুরু হয়। এরপর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোস্কা দেখা দেয়।

এই ঘটনার পাশাপাশি সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটি গ্রামের আরও তিনজনের শরীরে মঙ্গলবার অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয় এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের আশ্বাস

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ জন হাসপাতালে এসেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

তার বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ ভালো হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোগ ঠেকাতে যেসব বিষয়ে সতর্কতা

অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার বন্ধে আক্রান্ত কিংবা অসুস্থ পশু জবাই না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসব পশুর মাংস বিক্রি থেকে বিরত থাকতে এবং মৃত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোনো ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

শুধু চিকিৎসা ও টিকাদান নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য উঠান বৈঠক আয়োজনের পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ