ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জনতা ব্যাংকের বোর্ড ভাঙার উদ্যোগ, সামনে এলো বড় অনিয়ম

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৪:১৬:২৯
জনতা ব্যাংকের বোর্ড ভাঙার উদ্যোগ, সামনে এলো বড় অনিয়ম

একটি-দুটি বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের দেশ-বিদেশের কার্যক্রমে উঠে এসেছে নানা ধরনের গুরুতর অসংগতি। কোথাও অদাবিকৃত আমানতের হিসাবই ঠিকমতো শনাক্ত করা যাচ্ছে না, কোথাও নস্ট্রো হিসাবের দায় পড়ে আছে হাজার কোটি টাকার ওপরে, আবার কোথাও সময়মতো ঋণ সৃষ্টি না করায় হাজার হাজার কোটি টাকার সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়েছে ব্যাংক। বিদেশি কার্যক্রমেও মিলেছে অনুমোদনহীন নিয়োগ ও অস্তিত্বহীন ল্যাপটপ কেনার তথ্য।

এসব অনিয়মের পর এবার জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুসন্ধানে অনিয়ম-দুর্নীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই নেওয়া হচ্ছে এই কঠোর পদক্ষেপ। দেশের ইতিহাসে কোনো সরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার এমন উদ্যোগ এটাই প্রথম।

ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার ওপরও এরই মধ্যে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। জনতা ব্যাংকের ৭৫ শতাংশ ঋণ এখন খেলাপি। এর পাশাপাশি তদন্তে সামনে এসেছে রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আত্মসাৎ, এলসির ভুয়া কমিশন, কেন্দ্রীয়ভাবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার, শত শত কোটি টাকা লোপাটের সুযোগ তৈরি করা বৈদেশিক হিসাবের অসংগতি, হলমার্কসহ হাজারো গ্রাহকের অদাবিকৃত অর্থ কুক্ষিগত করা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের মতো ঘটনা।

২০০৯ থেকে ২০২৫, সঠিক তথ্যই মিলছে না

জনতা ব্যাংকের একটি বড় দুর্বলতা ধরা পড়েছে অদাবিকৃত আমানতের হিসাব ব্যবস্থাপনায়। ব্যাংকের নিজস্ব তথ্য বলছে, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ইন-অপারেটিভ থাকা হিসাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারছে না কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস)।

ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা অদাবিকৃত আমানতের তথ্য চিহ্নিত করার কাজও যথাযথভাবে এগোয়নি। শাখাভিত্তিক অদাবিকৃত আমানতের তথ্য পেতেও বর্তমান সিবিএসের সীমাবদ্ধতা কাটেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিবিএসে অদাবিকৃত আমানত শনাক্ত করার ব্যবস্থা না থাকায় জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের সঠিক তথ্যও সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে এ অবস্থাকে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ঘাটতি এবং বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার প্রতীয়মানতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

আরও নির্দিষ্টভাবে পাওয়া গেছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের ৫৮টি শাখার ৪৮৮টি হিসাবে ১০ বছর ও তার বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত আমানতের পরিমাণ ছিল ৯৪ কোটি টাকা। তবে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সরবরাহ করা এই তালিকায় স্থানীয় কার্যালয়সহ অনেক শাখার তথ্যই ছিল না।

হাজার কোটি টাকার দায়, সঙ্গে সুদ হারানোর হিসাব

ব্যাংকের নথিপত্রের আরেকটি অংশে উঠে এসেছে নস্ট্রো হিসাব এবং ডিমান্ড লোন সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি।

জনতা ভবন করপোরেট শাখা নস্ট্রো হিসাব থেকে অর্থ ডেবিট করার পর তার বিপরীতে নির্ধারিত সময়ে ফোর্সড বা ডিমান্ড লোন তৈরি করেনি। এর ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যাংকের যে অর্থ পাওয়ার কথা, তার দায় যথাসময়ে তৈরি হয়নি। একই কারণে শাখার সুদ আয়ও সঠিকভাবে হিসাবের মধ্যে আসেনি।

ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেডের ক্ষেত্রেও প্রাপ্য অর্থ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকে আদায়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ পর্যাপ্ত ছিল না বলে নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

বিপিডিবির সম্মতিপত্রের ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত ঋণসীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আমদানির জন্য বিশেষ এলসি খোলা হয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটির বিলের মাধ্যমে দায় সমন্বয় করা হয়। কিন্তু গ্রাহকের এগ্রো হিসাবে বকেয়া ৮ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা সৃষ্টি হওয়ার পরও তা পরিশোধ হয়নি।

এর ফলে গ্রাহকের হিসাবে তৈরি হওয়া নস্ট্রো ডেবিটের ৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার দায়ও সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি।

শুধু ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেড নয়, বেক্সিমকো গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও সময়মতো ডিমান্ড লোন তৈরি না করার প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের সুদ আয়ে। এ কারণে প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়েছে জনতা ব্যাংক।

ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কারণে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা সুদ আদায়ের সুযোগ নষ্ট হয়েছে।

দুই হিসাব মিলিয়ে, যথাযথ ব্যাংকিং নিয়ম অনুসরণ না করার কারণে প্রায় ৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকার সুদ আদায় হয়নি।

ইডিএফের ৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের বেশি অসমর্থিত এন্ট্রি

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ নিয়েও নিয়ম অনুসরণে ঘাটতির তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইডিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের এফসি ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট ডেবিট করা অথবা শাখার মাধ্যমে ঋণপত্রের মেয়াদ শেষে নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট নগদায়নের পর গ্রাহকের নামে দায় তৈরির যে নিয়ম রয়েছে, তা জনতা ব্যাংক অনুসরণ করেনি।

একইভাবে ইডিএফের অসমর্থিত এন্ট্রিগুলোও যথাযথভাবে সমন্বয় করা হয়নি।

গত ৩০ জুন স্থানীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো অ্যাডভাইসের মাধ্যমে অসমর্থিত ৪ কোটি ৯৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৩ মার্কিন ডলারের মধ্যে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬৪ হাজার মার্কিন ডলার সমন্বয় করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে এ ঘটনাতেও ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদের অদক্ষতা এবং অকার্যকারিতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ইউএইতে শ্রেণিকৃত ঋণ ও ৩০৪ কোটি টাকা অবলোপন

জনতা ব্যাংকের বিদেশি কার্যক্রমেও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাংকটির দুটি শাখায় শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন আমিরাতি দিরহাম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এর পাশাপাশি শেখ খলিফা ফান্ডের ফাইন্যান্স মার্জিন, মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজ এবং শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের নামে দীর্ঘমেয়াদি ১৪২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন বা ৩০৪ কোটি টাকা অবলোপন করা হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে এ বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২১ হাজার ৮৯২ দিরহামের ছয় ল্যাপটপের হদিস নেই

ইউএইতে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনুমোদিত সীমা অতিক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত সর্বোচ্চ ব্যয়ের তুলনায় প্রকৃত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি ছিল।

আরও একটি ঘটনা নজরে এসেছে ২০২০ সালের ২৭ মে। ওই দিন লিবার্টি কম্পিউটার্স এলএলসি থেকে ২১ হাজার ৮৯২ দিরহামে ছয়টি ল্যাপটপ কেনা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একই দেশে জনতা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১২ কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিককে অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

ইতালির রোমে অফিস আলাদা করার কারণও অস্পষ্ট

ইতালির রোমে পরিচালিত জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত।

কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয় এবং রোম শাখা একসময় একই এলাকায় ছিল। ২০১৭ সালে কোনো বোধগম্য কারণ ছাড়াই দুটি অফিস পৃথক করা হয়।

এদিকে ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এসআরএল থেকে পাঠানো বৈদেশিক রেমিট্যান্স জনতা ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখার ‘সান্দ্রি অ্যাকাউন্ট-অ্যাডভান্স পেমেন্ট টু ট্রান্সফার’ খাত থেকে অগ্রিম পরিশোধ করা হয়েছে।

শুধু অনিয়ম নয়, রেমিট্যান্স ও অদাবিকৃত অর্থ নিয়েও অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রমে আরও যেসব বিষয় উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আত্মসাৎ এবং এলসির ভুয়া কমিশন। কেন্দ্রীয়ভাবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার, বৈদেশিক হিসাবে লেনদেনের সমন্বয়হীনতা এবং গোঁজামিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে।

হলমার্কসহ হাজারো গ্রাহকের অদাবিকৃত বিপুল অর্থ কুক্ষিগত থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

ব্যাংকের এসব অনিয়মের নেপথ্যে পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এসব অনিয়মের দায় প্রমাণিত হওয়ার পর পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।

জুনের তদন্ত থেকে বোর্ড ভাঙার উদ্যোগ

জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্তের বর্তমান অবস্থার শুরু গত জুনে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল তখন ব্যাংকটির বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখা শুরু করে। পরে একাধিক দফায় অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

তদন্তের ফল নিয়ে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক বৈঠক করে। কিন্তু সেখানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যথাযথ কারণ ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়।

এরপর গভর্নর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং বোর্ডকে আবারও জবাব দেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত সময়েও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ার পর তদন্ত দল পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করে।

পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি গভর্নর গত সপ্তাহে জনতা ব্যাংককে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠান।

তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদ কিংবা ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়নি।

এমডি বলছেন, জবাব দেওয়া হয়েছে

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান ব্যাংকের অদক্ষতা ও ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আগামীর সময়কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপের বিষয়টি সবার জানা। আমরা জবাব দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে আপত্তির বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। পরে ভালো করে জবাব দেওয়া হবে।’

হলমার্কের অদাবিকৃত অর্থের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আর হলমার্কের ৮০ কোটি টাকার মতো অদাবিকৃত অর্থ আদালতে মামলা থাকায় ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না। আদালতের আদেশ পেলে তা সমন্বয় করা হবে।’

নস্ট্রো হিসাবের অনিয়ম প্রসঙ্গে এমডির বক্তব্য, ‘আর নস্ট্রো হিসাবে যে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তা সিস্টেমের ত্রুটির কারণে হয়েছে। এটা সামনে দূর করা হবে। যদিও এভাবে ব্যাংক চালাতে ঝুঁকি থাকে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাংকের মূলধন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে মূলধন বাড়ানো হয়েছে। মাদার ব্যাংক হিসাবে ২ বিলিয়ন দিরহাম সমপরিমাণ অর্থ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তাতে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। আমরা খেলাপি আদায়ে মনোযোগ দিচ্ছি। এক্সিট পলিসির মাধ্যমে আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক: ‘কোনো অপরাধী যেন পার না পায়’

জনতা ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় অনিয়মের বিপক্ষে। সেটা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী কিংবা পরবর্তী হোক। আর বিদেশে অনিয়ম হলে তা তো পার পাবে না। আইন মেনে সব করা হবে। কোনো অপরাধী যেন পার না পায়। অপরাধীর কোনো পরিচয় দেখে না বাংলাদেশ ব্যাংক।’

এদিকে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ এগোলেও গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই কমিটির কোনোটিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়নি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: