ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা থেকে সারাদেশে নতুন বাসভাড়া, কোন রুটে কত টাকা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৭:১৫:২৩
ঢাকা থেকে সারাদেশে নতুন বাসভাড়া, কোন রুটে কত টাকা

ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন করে বাসভাড়ার হিসাব নির্ধারণ করেছে সরকার। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দূরপাল্লার বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে একই গন্তব্যের জন্য ৫১ আসন ও ৪০ আসনের বাসে আলাদা ভাড়া রাখা হয়েছে।

নতুন হিসাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসের মূল ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪০ পয়সা। তবে যাত্রাপথে সেতু, ফেরি কিংবা অন্য কোনো প্রযোজ্য টোল থাকলে সেটি মূল ভাড়ার সঙ্গে যোগ হবে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু রুটে যাত্রীকে কিলোমিটারভিত্তিক হিসাবের চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

কোন পথে কত টাকা লাগবে

নতুন তালিকায় ঢাকার সায়দাবাদ ও মহাখালী—দুই আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যের ভাড়া উল্লেখ করা হয়েছে। রুটভেদে দূরত্ব ও টোলের পরিমাণ আলাদা হওয়ায় যাত্রীভাড়াতেও পার্থক্য রয়েছে।

সায়দাবাদ থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা

সায়দাবাদ থেকে বরিশাল যেতে পথের দূরত্ব ১৭১ কিলোমিটার। এই পথে টোলসহ ৫১ আসনের বাসে জনপ্রতি ভাড়া ৪৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪০ আসনের বাসে একই যাত্রার জন্য ভাড়া প্রায় ৬২৯ টাকা।

পটুয়াখালী রুটের দূরত্ব ২১০ কিলোমিটার। সেখানে ৫১ আসনের বাসে টোলসহ যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৬০৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে প্রায় ৭৭২ টাকা।

কুয়াকাটার ক্ষেত্রে দূরত্ব আরও বেশি—২৮০ কিলোমিটার। এ পথে ৫১ আসনের বাসে জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৭৮১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে প্রায় ৯৯৬ টাকা।

বরগুনার ২৫৩ কিলোমিটার রুটে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া প্রায় ৭১৭ টাকা। ৪০ আসনের বাসে যাত্রীকে দিতে হবে প্রায় ৯১৪ টাকা।

সায়দাবাদ থেকে এসব রুট ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যের ভাড়া নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিলেট ও জকিগঞ্জের পথে ভাড়ার হিসাব

সায়দাবাদ থেকে সিলেটের দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। নতুন তালিকায় টোলসহ ৫১ আসনের বাসের জনপ্রতি ভাড়া ৬২৪ টাকা রাখা হয়েছে। ৪০ আসনের বাসে এ পথে ভাড়া প্রায় ৭৯৬ টাকা।

জকিগঞ্জ রুটে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া প্রায় ৮৪৮ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসের ভাড়া প্রায় ১ হাজার ৮১ টাকা।

সায়দাবাদ থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটও পুনর্নির্ধারিত ভাড়ার তালিকায় রয়েছে।

মহাখালী থেকে উত্তরাঞ্চল ও অন্যান্য রুট

মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক নতুন তালিকাতেও রয়েছে একাধিক দীর্ঘ ও স্বল্প দূরত্বের গন্তব্য। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের পাশাপাশি রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের ভাড়াও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

রংপুর যেতে মহাখালী থেকে দূরত্ব ২৯৭ কিলোমিটার। টোলসহ ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৭৪১ টাকা। ৪০ আসনের বাসের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৯৪৫ টাকা।

নীলফামারী রুটের দূরত্ব ৩৫৭ কিলোমিটার। এ পথে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া প্রায় ৮৮৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে প্রায় ১ হাজার ১২৮ টাকা।

পঞ্চগড়ের দূরত্ব ৪৩৮ কিলোমিটার। টোলসহ ৫১ আসনের বাসে জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ১ হাজার ৭৯ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে প্রায় ১ হাজার ৩৭৬ টাকা।

মহাখালী থেকে সিলেটের দূরত্ব ২৪৫ কিলোমিটার। ৫১ আসনের বাসে জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৫৯৯ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে প্রায় ৭৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের ক্ষেত্রে মহাখালী থেকে দূরত্ব ৩৯৬ কিলোমিটার। টোলসহ ৫১ আসনের বাসে ভাড়া প্রায় ৯৬৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে প্রায় ১ হাজার ২৩৩ টাকা।

কেন একই পথে ভাড়ার পরিমাণ এক নয়

নতুন ভাড়ার তালিকায় বাসের আসনসংখ্যার পাশাপাশি যাত্রাপথে থাকা টোলও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। কোনো রুটে সেতু, ফেরি কিংবা অন্য কর্তৃপক্ষের টোল থাকলে সেই অর্থ যাত্রীভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু রুটে পদ্মা বহুমুখী সেতু ব্যবহারের কারণে সেতুর টোল মূল ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ব্যবহার করা বাসের জন্যও আলাদা টোল ধরা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ৯ টাকা হারে এই টোল যুক্ত করার কথা রয়েছে।

যে হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে নতুন তালিকা

বিআরটিএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভাড়া তৈরির সময় বিভিন্ন রুটের দূরত্ব নির্ধারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি টোল ও ফেরি ভাড়ার হিসাব নেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে।

এ জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ভাড়ার তালিকা প্রকাশের পর কোনো রুটের দূরত্ব কিংবা নির্ধারিত ভাড়ায় অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে সেটি সংশোধনের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিআরটিএ জানিয়েছে, যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুপাতে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সারাদেশের ভাড়ার তালিকা দেখতে এখানেক্লিক করুন।

ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে সারাদেশের ভাড়ার তালিকা দেখতে এখানেক্লিক করুন।

ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সারাদেশের ভাড়ার তালিকা দেখতে এখানেক্লিক করুন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: