‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ থেকে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে
একদিকে রাজধানীর যানজট, অন্যদিকে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘ সময়—দুই সমস্যার সমাধানে বড় অবকাঠামো হয়ে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় পূর্ণাঙ্গ চালুর আগে এর সুফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের আগেই বাইপাইল থেকে সিপক পর্যন্ত বাকি অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে পুরো প্রকল্প কার্যকরভাবে চালু করতে নির্ধারিত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে।
৩৫ মিনিটে ৪৪ কিলোমিটার
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল আকর্ষণগুলোর একটি হলো যাতায়াতে সময় কমানোর সম্ভাবনা। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৪ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে প্রায় ২০ মিনিট এবং ৪৪ কিলোমিটার যেতে প্রায় ৩৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে সাভার, আশুলিয়া ও ইপিজেড এলাকার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগে দীর্ঘ যানজট নিত্যদিনের বড় সমস্যা। শিল্পাঞ্চল থেকে রাজধানী কিংবা দেশের উত্তরাঞ্চলের দিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও যানজটের কারণে বাড়তি সময় প্রয়োজন হয়।
নতুন এই যোগাযোগ অবকাঠামো চালু হলে সেই সময়ের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রকল্পের যে অংশ ইতোমধ্যে চালু
পুরো এক্সপ্রেসওয়ে এখনো চালু না হলেও ধৌরমোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পৃথক সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অবকাঠামোগত অগ্রগতি এখন প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্মাণকাজের উল্লেখযোগ্য অংশ এগোলেও পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের জন্য আরও কাজ বাকি রয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে বাইপাইল থেকে সিপক পর্যন্ত অংশ চালুর লক্ষ্য রয়েছে ঈদুল ফিতরের আগে।
কারা বেশি সুবিধা পেতে পারে
এই প্রকল্পের সুবিধা শুধু সাভার বা আশুলিয়ার সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। ওই এলাকার শিল্পকারখানাগুলো থেকে উৎপাদিত পণ্য দ্রুত রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের পণ্যবাহী কভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনকে বর্তমানে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে এসব সড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিবহনে সময় কমলে জ্বালানি ব্যয়ও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে
ঢাকা-আশুলিয়া প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যমান ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে এর সংযোগ।
এই সংযোগ কার্যকর হলে সাভার, আশুলিয়া, ইপিজেড ও নবীনগরের শিল্পাঞ্চল থেকে পণ্য রাজধানীর ভেতর দিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় তুলনামূলক দ্রুত পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ফলে রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ থাকতে পারে।
অর্থনীতিতে পড়তে পারে প্রভাব
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট হিসাব বলছে, এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাতেই পরিবর্তন সীমাবদ্ধ থাকবে না; দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে জিডিপিতে প্রায় শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পণ্য পরিবহনে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমতে পারে। বিশেষ করে পোশাকশিল্পসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী খাত দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুবিধা পেলে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
১৭ হাজার ৫৫৪ কোটি থেকে ব্যয় ২৭ হাজার ৮৫ কোটি
প্রকল্পটির আর্থিক দিকেও বড় পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। বিভিন্ন কারণে সেই ব্যয় বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অর্থাৎ প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে সহায়তা করছে।
কাজের পথে ছিল একাধিক জটিলতা
প্রকল্পের কাজ শুরু থেকেই পুরোপুরি বাধাহীন ছিল না। ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং নকশা পরিবর্তনসহ বেশ কিছু জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সমস্যার বড় একটি অংশ সমাধান হওয়ায় বর্তমানে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।
বিমানবন্দর ও মেট্রোরেলের সঙ্গেও সমন্বয়ের পরিকল্পনা
ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও প্রকল্প পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিমানবন্দরে যাতায়াত আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে মেট্রোরেল ব্যবস্থার সঙ্গেও সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক, বিমানবন্দর ও গণপরিবহনকে একই যোগাযোগ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা গেলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
সামনে এখন পূর্ণাঙ্গ চালুর অপেক্ষা
প্রায় ৪৪ কিলোমিটারের এই প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল নতুন একটি উড়ালসড়ক তৈরি করা নয়। সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল, ঢাকা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত।
ধৌরমোড়-আশুলিয়ার প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এরপর বাইপাইল থেকে সিপক পর্যন্ত অংশ ঈদুল ফিতরের আগে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত পুরো নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে এক্সপ্রেসওয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হলে যাতায়াতের সময় কমানো, পণ্য পরিবহনে গতি আনা এবং শিল্পাঞ্চলের ওপর সড়ক যোগাযোগের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ কবে, কখন; কোথায় দেখবেন লাইভ
- কম দামে কেনা শেয়ারে মুনাফার সুযোগ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা
- ঢাকা থেকে সারাদেশে নতুন বাসভাড়া, কোন রুটে কত টাকা
- জনতা ব্যাংকের বোর্ড ভাঙার উদ্যোগ, সামনে এলো বড় অনিয়ম
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ কবে, কখন, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- আজ ৯/২৩/২০২৬ তারিখ: ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- সামান্য ভুলেই আটকে যেতে পারে নতুন পে স্কেলের বেতন
- শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন, এনডিটিভিকে যা বললেন