ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোটে বাংলাদেশের নতুন অগ্রগতি

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ২১:০৭:২২
বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোটে বাংলাদেশের নতুন অগ্রগতি

বাংলাদেশের রপ্তানি ও বাণিজ্যের সামনে বড় আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য ব্লক আরসেপে সদস্য হওয়ার আবেদনের পর বাংলাদেশকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ জন্য চার আবেদনকারী অর্থনীতিকে নিয়ে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অনুমোদন দিয়েছে আরসেপের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ সদস্যপদ পাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে—এমন নয়। বরং আবেদন পরবর্তী যে আনুষ্ঠানিক ও কারিগরি ধাপ রয়েছে, সেটির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর ম্যানিলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ২১ সেপ্টেম্বর বসে আরসেপের পঞ্চম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। সেখানেই বাংলাদেশসহ চার আবেদনকারী অর্থনীতির সদস্যপদসংক্রান্ত কারিগরি পর্যালোচনা এগিয়ে নিতে নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এসেছে আরসেপের জয়েন্ট কমিটির (আরজেসি) সুপারিশের ভিত্তিতে।

বৈঠকে যৌথ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি।

একই প্রক্রিয়ায় চিলি, শ্রীলঙ্কা ও হংকং

বাংলাদেশ একা নয়; একই প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরও তিন আবেদনকারী অর্থনীতি। এগুলো হলো চিলি, শ্রীলঙ্কা এবং হংকং (চীন)।

নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে এসব আবেদনকারী অর্থনীতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

আরসেপের যৌথ বিবৃতিতেও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুসরণ করে আবেদনকারী অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

১৫ অর্থনীতির এই জোটের আকার কত

আরসেপে বর্তমানে আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ রয়েছে। এর সঙ্গে আছে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। সব মিলিয়ে জোটটির সদস্য অর্থনীতির সংখ্যা ১৫।

২০২২ সালে আরসেপ কার্যকর হয়। ২০২৫ সালের হিসাবে জোটভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতির আকার প্রায় ৩২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম বড় বাজার।

বাংলাদেশের সামনে এখন কী

সদস্যপদের আবেদন করার পর বাংলাদেশের সামনে এখন সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি কাজের ধাপ। এই আলোচনায় বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।

পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাজারে প্রবেশের শর্ত নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি স্বার্থ, শুল্ক সুবিধা এবং দেশের শিল্পের সক্ষমতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

তবে এসব আলোচনার পাশাপাশি আরসেপের বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিও সামনে থাকবে।

এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য আরসেপে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশ যে বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা পায়, তার একটি অংশ পরিবর্তিত হওয়ার পর বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি ধরে রাখতে নতুন বাণিজ্য সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আরসেপের সদস্যপদ বাংলাদেশকে শুল্ক সুবিধা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

পাশাপাশি বড় আঞ্চলিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতাও বড় বিষয়

সম্ভাব্য বাণিজ্য সুবিধার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পের সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আরসেপের সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশের দেশীয় শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতা সক্ষম করে তুলতে হবে।

জোটটির বাণিজ্যিক নিয়মের সঙ্গে দেশের সামঞ্জস্য তৈরির প্রয়োজনও থাকবে। বিশেষ করে আমদানি বাড়লে স্থানীয় শিল্প সেই প্রতিযোগিতার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে।

২০২৭ সালে পরবর্তী অগ্রগতির তথ্য

ম্যানিলার বৈঠকে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আরসেপের বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য বাধা কমানোর বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারেও সমর্থন পুনরায় জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া আরসেপ চুক্তির ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা ও উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী অগ্রগতি ২০২৭ সালের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখন মূল দৃষ্টি থাকবে নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে শুরু হতে যাওয়া আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়ার দিকে। সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক শর্তে আলোচনাই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: