বিমার টাকা ফেরত: ৫ কোম্পানির ৫ হাজার গ্রাহক পাচ্ছেন অর্থ
বছরের পর বছর আটকে থাকা বিমার টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ২২ হাজার ৩০ জন গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংস্থাটির মধ্যস্থতায় চার ধাপে গ্রাহকদের মোট ৮৪ কোটি ৬ লাখ টাকা পরিশোধের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে প্রথম তিন ধাপে ১৬ হাজার ৫৮ জন গ্রাহক ইতোমধ্যে ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা পেয়েছেন। বাকি ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা আগামীকাল (০৮ নভেম্বর) চতুর্থ ধাপে পাঁচটি জীবন বিমা কোম্পানির ৫ হাজার ৯৭২ জন গ্রাহককে দেওয়ার কথা রয়েছে।
চতুর্থ ধাপের অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন হলে চার পর্যায়ে মোট ২২ হাজার ৩০ জন গ্রাহকের কাছে ৮৪.০৬ কোটি টাকা পৌঁছানোর লক্ষ্য পূরণ হবে।
চতুর্থ ধাপে কোন কোম্পানি কত টাকা দেবে
শেষ ধাপের অর্থ পরিশোধে সবচেয়ে বেশি টাকা দিচ্ছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৭৪ জন গ্রাহকের বিমা দাবি বাবদ ৮.৩৭ কোটি টাকা পরিশোধ করবে।
এ ছাড়া হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ হাজার ১৬৩ জন গ্রাহক পাবেন ৫.০৪ কোটি টাকা। পদ্মা ইসলামী লাইফ ১ হাজার ৩৫০ জন গ্রাহককে দেবে ৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, প্রগ্রেসিভ লাইফের ৩৪৪ জন গ্রাহকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১.৬৭ কোটি টাকা। বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪১ জন গ্রাহককে পরিশোধ করবে ৭ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে চতুর্থ পর্যায়ে পাঁচটি কোম্পানির ৫ হাজার ৯৭২ জন গ্রাহকের মধ্যে ২০.১৫ কোটি টাকা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আগের তিন ধাপে টাকা পেয়েছেন ১৬ হাজারের বেশি গ্রাহক
আইডিআরএর মধ্যস্থতায় এর আগে তিন দফায় বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২ হাজার ৫৪৯ জন গ্রাহকের মধ্যে বিতরণ করা হয় ১৪.৫১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ৫ হাজার ৮৬৮ জন পান ২৩.০৪ কোটি টাকা।
তৃতীয় পর্যায়ে ৭ হাজার ৬৪১ জন গ্রাহকের কাছে পৌঁছায় ২৬.৩৭ কোটি টাকা। এই তিন ধাপ মিলিয়ে ১৬ হাজার ৫৮ জন গ্রাহক মোট ৬৩.৯১ কোটি টাকা পেয়েছেন।
সাত বিমা কোম্পানির কাছেই পাওনা ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
বিমা খাতে দীর্ঘদিনের অনাদায়ী দাবি নিষ্পত্তির বিষয়টি অগ্রাধিকার পায় ২০২৬ সালের জুনে মীর নাদিয়া নিভিন আইডিআরএর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর। চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮২টি বিমা কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি অনাদায়ী ছিল। এর মধ্যে আর্থিক সংকটে থাকা সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির কাছেই গ্রাহকদের পাওনা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া পরিশোধের জন্য অর্থের সংস্থান তৈরিতে একাধিক পথ অনুসরণ করছে আইডিআরএ। এর মধ্যে রয়েছে বিমা কোম্পানির জমি ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি, সরকারি সিকিউরিটিজ ভাঙানো এবং ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত বা এফডিআর উদ্ধার। এসব উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পুরোনো বিমা দাবিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিমা খাতে আস্থা ফেরানোর লক্ষ্য
বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি বিমা খাতের প্রতি তাঁদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে খাতটিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজও চলছে।
দেশে বিমা দাবি পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা, অনাদায়ী দায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ধাপে ধাপে বকেয়া দাবি পরিশোধের এই কার্যক্রম গ্রাহকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিমা খাতের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. চার ধাপে কতজন বিমা গ্রাহক টাকা পাবেন?
আইডিআরএর উদ্যোগে চার ধাপে মোট ২২ হাজার ৩০ জন গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধের কার্যক্রম চলছে।
২. চার ধাপে মোট কত টাকা পরিশোধের লক্ষ্য রয়েছে?
চার ধাপে মোট ৮৪.০৬ কোটি টাকা পরিশোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. চতুর্থ ধাপে কতজন গ্রাহক কত টাকা পাবেন?
চতুর্থ ধাপে পাঁচটি জীবন বিমা কোম্পানির ৫ হাজার ৯৭২ জন গ্রাহককে ২০.১৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।
৪. চতুর্থ ধাপে কোন কোম্পানি সবচেয়ে বেশি টাকা দেবে?
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ৮.৩৭ কোটি টাকা পরিশোধ করবে।
৫. দেশের বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে গ্রাহকদের কত টাকার দাবি অনাদায়ী ছিল?
আইডিআরএর চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮২টি বিমা কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি অনাদায়ী ছিল।
তানভির ইসলাম/