ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতে মিসর-অ্যাঙ্গোলা ম্যাচ, পূর্বাভাস, একাদশ ও মুখোমুখি রেকর্ড

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ১২:২৭:৪৯
রাতে মিসর-অ্যাঙ্গোলা ম্যাচ, পূর্বাভাস, একাদশ ও মুখোমুখি রেকর্ড

রেকর্ড অষ্টম আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স শিরোপার পথে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম পরীক্ষা মিসরের। ২০২৭ আফকনের বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে কায়রো ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অ্যাঙ্গোলার মুখোমুখি হবে তারা। ঘরের মাঠে নামার আগে মিসরের জন্য স্বস্তির একটি জায়গা হলো—নথিভুক্ত আগের মুখোমুখিগুলোতে অ্যাঙ্গোলার কাছে কখনো হারেনি দলটি।

তবে পরিসংখ্যান একপাশে রেখে অ্যাঙ্গোলাও এই ম্যাচ থেকে পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে চাইবে। টানা তৃতীয়বার আফকনের মূলপর্বে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে নামা দলটির সাম্প্রতিক চার ম্যাচের কোনোটিতেই হার নেই।

কায়রোর ম্যাচে নজর থাকবে মুখোমুখি ইতিহাসে

দুই দলের এখন পর্যন্ত আটবার দেখা হয়েছে। এর মধ্যে চারবার মিসরকে আটকে দিয়েছে অ্যাঙ্গোলা। গত বছরের আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের গ্রুপপর্বেও দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল এবং ম্যাচটি ড্র হয়েছিল।

আরও সাম্প্রতিক হিসাবও অ্যাঙ্গোলাকে কিছুটা আশাবাদী করতে পারে। দুই দলের সর্বশেষ দুটি সাক্ষাৎ অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে। শেষ পাঁচ মুখোমুখির তিনটিতেই জয়-পরাজয়ের পরিবর্তে ড্র হয়েছে।

অন্যদিকে মিসর নিজেদের মাঠে এই ম্যাচে নামছে আফকনের নতুন অভিযানের শুরু হিসেবে। ২০২৭ সালের আসরে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি রেকর্ড বাড়িয়ে অষ্টমবার মহাদেশীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য তাদের।

বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ফিরে মিসরের নতুন চ্যালেঞ্জ

গত বছরের আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে মিসরের অভিযান থেমেছিল চতুর্থ স্থানে। সেমিফাইনালে রানার্সআপ সেনেগালের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে পরাজয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয় হোসাম হাসানের দলকে।

এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে অবশ্য গ্রুপপর্ব পেরিয়েছিল মিসর। বেলজিয়ামের সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গ্রুপে দ্বিতীয় হয় তারা।

শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে আরও বড় চমক দেখিয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দলটি। একপর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও বিতর্কে ভরা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিসর। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও দলটি মাথা উঁচু করেই দেশে ফেরে।

এবার লক্ষ্য ২০২৭ আফকন। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে অতীত রেকর্ডও মিসরকে আত্মবিশ্বাস দিতে পারে।

অ্যাঙ্গোলার সামনে আবারও আফকনের টিকিট

উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি অ্যাঙ্গোলা। কিন্তু আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে দলটির অংশগ্রহণের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ।

১৯৯৬ সালে প্রথমবার মূলপর্বে খেলার পর এখন পর্যন্ত নয়বার মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছে স্যাবল অ্যান্টিলোপসরা। ২০২৫ সালের আসরে গ্রুপপর্বেই তাদের পথচলা শেষ হয়েছিল। এবার সেই গণ্ডি পেরিয়ে আরও দূর যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

আলিউ সিসের দলের বর্তমান ফর্মও একেবারে খারাপ নয়। সর্বশেষ চার ম্যাচে একটি জয় ও তিনটি ড্র নিয়ে অপরাজিত তারা।

কায়রো থেকে একটি পয়েন্ট আদায় করতে পারলে পরের ম্যাচের আগে সেটি অ্যাঙ্গোলাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে। কারণ দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচেই আগামী সপ্তাহে ঘরের মাঠে মালাওয়ির মুখোমুখি হবে তারা।

দুই দলের সাম্প্রতিক ফল কী বলছে

মিসরের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের ফল ড্র, জয়, ড্র, হার, জয়।

অ্যাঙ্গোলার সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের ফল হার, ড্র, ড্র, ড্র, জয়।

বিশেষ করে মিসরের শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিই ৯০ মিনিটের মধ্যে জয়ে শেষ হয়নি। অন্যদিকে অ্যাঙ্গোলার সাম্প্রতিক চার ম্যাচে অপরাজিত থাকার ধারাটিও ম্যাচের আগে আলোচনায় রয়েছে।

সালাহকে নিয়ে মিসরের দল

হোসাম হাসান এই বাছাইপর্বের জন্য ২৪ জনকে নিয়ে স্কোয়াড সাজিয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জনই ২০২৬ বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে খেলেছেন।

দলের তালিকায় রয়েছেন মোহামেদ সালাহ, ওমর মারমুশ ও মোহামেদ আবদেলমোনেম। গোলরক্ষকদের দলে আবারও জায়গা পেয়েছেন আবদেলআজিজ এল-বালুতি।

তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাওয়া যাচ্ছে না। মোহামেদ এল-শেনাওয়ি নেই। চোটের কারণে বাইরে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মাহমুদ ত্রেজেগুয়েত।

মারওয়ান আতিয়া স্কোয়াডে থাকলেও অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। গত বছরের আফকনে পাওয়া দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিনি একটি ম্যাচে তা ভোগ করেছেন। ফলে আরও একটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এই ম্যাচে কার্যকর হবে।

অ্যাঙ্গোলার একাদশে বড় পরিবর্তনের শঙ্কা নেই

অ্যাঙ্গোলার জন্য ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন আলিউ সিসে। ম্যাচের আগে গুরুতর কোনো সমস্যার খবর নেই দলটির।

গোলরক্ষক হিসেবে নেব্লুর শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। তার সামনে রক্ষণ সামলানোর দায়িত্বে থাকতে পারেন ডেভিড কারমো ও কিয়ালোনদা গাসপার।

মিসরের রক্ষণে আক্রমণ শানাতে সামনের সারিতে দেখা যেতে পারে জিতো লুভুম্বো, দেপু ও মাবুলুলুকে।

সম্ভাব্য একাদশে যারা

মিসর:

শোবেইর; হানি, রাবিয়া, আবদেলমোনেম, ফাত্তোহ; লাশিন, সাবের; আশুর, সালাহ, জিকো; মারমুশ।

অ্যাঙ্গোলা:

নেব্লু; বন্ডো, গাসপার, কারমো, ফার্নান্দো; কেলিয়ানো, মুকেন্দি, মিলসন; লুভুম্বো, দেপু, মাবুলুলু।

ম্যাচের ফল নিয়ে কী পূর্বাভাস

মিসর ঘরের মাঠে খেলবে এবং অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে আগের নথিভুক্ত ম্যাচগুলোতে অপরাজিত। তারপরও সাম্প্রতিক ফল পুরোপুরি একতরফা চিত্র দিচ্ছে না।

মিসরের শেষ পাঁচ ম্যাচে তিনটি ড্র হয়েছে ৯০ মিনিটের মধ্যে। আবার অ্যাঙ্গোলার সর্বশেষ দুটি মুখোমুখিও ড্র হয়েছে। শেষ পাঁচ সাক্ষাতের তিনটিতে জয়-পরাজয়ের বদলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া পূর্বাভাসে দুই দলকেই সমতায় রাখা হয়েছে।

পূর্বাভাস: মিসর ১-১ অ্যাঙ্গোলা।

FAQ

মিসর-অ্যাঙ্গোলা ম্যাচ কবে?

ম্যাচটি শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

মিসর-অ্যাঙ্গোলা ম্যাচ কোথায় হবে?

কায়রো ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

মিসরের স্কোয়াডে মোহামেদ সালাহ কি আছেন?

হ্যাঁ। ২০২৭ আফকনের বাছাইপর্বের জন্য ঘোষিত ২৪ সদস্যের দলে মোহামেদ সালাহ রয়েছেন।

অ্যাঙ্গোলার সর্বশেষ চার ম্যাচের ফল কী?

অ্যাঙ্গোলা সর্বশেষ চার ম্যাচে অপরাজিত। এর মধ্যে একটি জয় ও তিনটি ড্র রয়েছে।

মিসর-অ্যাঙ্গোলা ম্যাচের পূর্বাভাস কী?

দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: