বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা, ব্র্যাক ব্যাংকে উল্টো চিত্র
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহারের চিত্রের মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নতুন মূলধন প্রবেশ করেছে। অক্টোবর মাসে বাজার থেকে বিদেশিদের নিট ১৮১ কোটি টাকা চলে গেলেও বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংকে তাদের বিনিয়োগ বেড়েছে। একই সময়ে প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
দেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতার মধ্যে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের এমন অবস্থান দেখা গেছে। ডিএসইর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৮৩ কোটি টাকা। বিপরীতে শেয়ার কেনায় ব্যয় হয়েছে ১০২ কোটি টাকা। ফলে মাসটিতে তাদের মোট কেনাবেচার পরিমাণ প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা হলেও নিট বিনিয়োগ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক।
বিনিয়োগকারীদের নজর সরেছে তিন বড় প্রতিষ্ঠান থেকে
অক্টোবর মাসে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে। এই তিন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোট ১৪৩ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।
এর মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি টাকা। বিদেশিদের এই বিক্রির প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির মালিকানার পরিসংখ্যানেও। সেপ্টেম্বর শেষে প্রাইম ব্যাংকে বিদেশিদের শেয়ারধারণের হার ছিল ৫.১৪ শতাংশ। অক্টোবর শেষে তা কমে ৩.৬৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সিটি ব্যাংক থেকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়েছে ৪৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে। এর পর ব্যাংকটিতে বিদেশি মালিকানার হার নেমে এসেছে ৭.০৮ শতাংশে।
ওষুধ খাতের শীর্ষ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস থেকেও অক্টোবর মাসে ৪৬ কোটি টাকার বিদেশি মূলধন বেরিয়ে গেছে। কোম্পানিটিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ারধারণের হার দাঁড়িয়েছে ১৩.৮৯ শতাংশে।
আরও কয়েকটি কোম্পানিতে কমেছে বিদেশি অংশগ্রহণ
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির তালিকায় আরও রয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারিকো বাংলাদেশ, রেনাটা ও লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট। অক্টোবর মাসে মারিকো বাংলাদেশ থেকে ৭ কোটি টাকা, রেনাটা থেকে ৪ কোটি টাকা এবং লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট থেকে ১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে।
এ ছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ডেসকো, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, এনসিসি ব্যাংক ও প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে বিক্রির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অল্প।
ব্র্যাক ব্যাংকে বাড়ল বিদেশি শেয়ারধারণ
অক্টোবর মাসের বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানে ব্র্যাক ব্যাংক ছিল উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। শেয়ার বিক্রির সামগ্রিক প্রবণতার বিপরীতে ব্যাংকটিতে নতুন করে ১৩.৬০ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।
এর ফলে ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশিদের মালিকানার হারও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকটির শেয়ারে বিদেশিদের অংশগ্রহণ ছিল ৩২.৩৫ শতাংশ। অক্টোবর শেষে তা বেড়ে ৩২.৪৪ শতাংশ হয়েছে।
নতুন বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংকের পাশাপাশি আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। ওষুধ খাতের বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসে ৩.৫ কোটি টাকা এবং বস্ত্র খাতের প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলে ১৩ লাখ টাকার নতুন বিদেশি অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিদেশি ফান্ড
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। এসব বিবেচনায় বিদেশি ফান্ডগুলো তাদের পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করছে।
শেয়ারের দাম আকর্ষণীয় পর্যায়ে থাকলেও বাজারের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সময় নিচ্ছেন।
অক্টোবরের লেনদেনে একদিকে যেমন ডিএসই থেকে বিদেশি মূলধন প্রত্যাহারের প্রবণতা দেখা গেছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানে নতুন বিনিয়োগও এসেছে।
আল-মামুন/