জমি নামজারির সরকারি ফি কত, আবেদন করবেন যেভাবে
জমি কেনা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কিংবা হেবা-দান হিসেবে জমির মালিকানা পাওয়ার পর নতুন মালিকের নামে সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করাকে নামজারি বা মিউটেশন বলা হয়। এ কাজের জন্য জমির মালিককে নির্দিষ্ট সরকারি ফি দিতে হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ ই-নামজারিতে সব মিলিয়ে খরচ ১ হাজার ১৭০ টাকা। আবেদন থেকে শুরু করে নামজারি অনুমোদনের পর খতিয়ান সংগ্রহ—প্রতিটি ধাপে কোন খাতে কত টাকা দিতে হবে, তা জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সম্ভব।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, নামজারির ফি চারটি খাতে নির্ধারিত। এর মধ্যে আবেদন করার সময় ৭০ টাকা এবং নামজারি অনুমোদনের পর বাকি ১ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। নির্ধারিত ফির বাইরে অন্য কোনো ফি প্রযোজ্য নয় বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
নামজারির সরকারি ফি কত?
সাধারণ ই-নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি নিচে দেওয়া হলো-
সাধারণ ই-নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত মোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। এর মধ্যে আবেদনের সময় কোর্ট ফি হিসেবে ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি হিসেবে ৫০ টাকা দিতে হয়। নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি বাবদ ১ হাজার টাকা এবং খতিয়ানের প্রতি কপি সরবরাহের জন্য ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। সব মিলিয়ে নামজারির সরকারি খরচ ১ হাজার ১৭০ টাকা।
অর্থাৎ, নামজারির আবেদন জমা দেওয়ার সময় ২০ টাকা কোর্ট ফি ও ৫০ টাকা নোটিশ জারি ফি দিতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে রেকর্ড সংশোধনের জন্য ১ হাজার টাকা এবং খতিয়ান সরবরাহের জন্য ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে সরকারি খরচ দাঁড়ায় ১ হাজার ১৭০ টাকা।
কখন কত টাকা পরিশোধ করতে হয়?
নামজারির পুরো টাকা একসঙ্গে দিতে হয় না। আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রাথমিক ফি পরিশোধ করতে হয়। পরে আবেদন মঞ্জুর হলে বাকি ফি দিতে হয়।
আবেদনের সময়: অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার সময় কোর্ট ফি ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা দিতে হয়। এই দুই খাতে মোট খরচ ৭০ টাকা।
নামজারি অনুমোদনের পর: আবেদন মঞ্জুর হলে রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি ১ হাজার টাকা এবং খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এই পর্যায়ে মোট ১ হাজার ১০০ টাকা দিতে হবে।
নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে
জমির নামজারির আবেদন এখন অনলাইনে করা যায়। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।
১. প্রথমে ই-নামজারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. অনলাইনে নামজারির আবেদন করার অপশন নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করুন।
৩. জমির পরিচিতি, মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট দলিলের তথ্য সঠিকভাবে দিন।
৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি বা ছবি নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করুন।
৫. কোর্ট ফি ২০ টাকা ও নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করে আবেদন জমা দিন।
৬. আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে ওয়েবসাইটে আবেদনের অবস্থা দেখা যাবে।
আবেদনের তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। আবেদন মঞ্জুর হলে নির্ধারিত বাকি ফি পরিশোধ করে নামজারির খতিয়ান সংগ্রহ করা যাবে।
নামজারির টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভূমিসেবার নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। ই-নামজারি সিস্টেমে আবেদন ফি ও নোটিশ জারি ফি দেওয়ার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং ও অন্যান্য অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান সরবরাহের ফিও অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। ভূমি অফিসে সরাসরি নগদ টাকা দেওয়ার পরিবর্তে সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং লেনদেনের রসিদ সংরক্ষণ করা উচিত।
নামজারির জন্য অতিরিক্ত টাকা চাইলে কী করবেন?
সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ১৭০ টাকার বাইরে সাধারণ ই-নামজারির জন্য অতিরিক্ত কোনো ফি প্রযোজ্য নয়। কেউ নামজারির কাজ করে দেওয়ার কথা বলে সরকারি ফির বাইরে টাকা দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন:
খতিয়ান নম্বর দিয়ে জমির তথ্য বের করার নিয়ম
পুরনো জমির মালিকানা ও খতিয়ান অনলাইনে খুঁজবেন যেভাবে
দাগ নম্বর না জানলেও মৌজার নাম দিয়ে জমি খুঁজবেন যেভাবে
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অতিরিক্ত ফি দাবি বা হয়রানির শিকার হলে ১৬১২২ নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানো যাবে। এ ছাড়া ভূমি অফিসে প্রদর্শিত সরকারি সেবামূল্যের তালিকা দেখে নির্ধারিত ফির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায়।
নামজারির ফি ছাড়াও কি অন্য খরচ হতে পারে?
নামজারির ১ হাজার ১৭০ টাকা হলো সাধারণ ই-নামজারি প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সরকারি ফি। জমি কেনার দলিল নিবন্ধন, বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, দলিল বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের খরচ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। এসব খরচের ধরন ও পরিমাণ আলাদা হতে পারে।
এ ছাড়া রাজউক বা অন্য কোনো বিশেষ কর্তৃপক্ষের অধীন জমির মালিকানা হালনাগাদের প্রক্রিয়া ও ফি সাধারণ ই-নামজারি থেকে আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে জমিটি কোন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
জমির মালিকানা হালনাগাদ করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়াতে সরকারি ফি সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন। আবেদন নিজে অনলাইনে করা এবং প্রতিটি পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করলে অতিরিক্ত টাকা দাবি বা মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি কমে।
প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও উত্তর
১. বাংলাদেশে জমির নামজারি করতে মোট কত টাকা লাগে?
সাধারণ ই-নামজারিতে সরকার নির্ধারিত মোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। এর মধ্যে কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন ফি ১ হাজার টাকা এবং খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা।
২. নামজারির আবেদন করার সময় কত টাকা দিতে হয়?
আবেদনের সময় কোর্ট ফি ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ শুরুতে মোট ৭০ টাকা পরিশোধ করতে হয়।
৩. নামজারি অনুমোদনের পর কত টাকা দিতে হয়?
নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন ফি ১ হাজার টাকা এবং খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা দিতে হয়। মোট ১ হাজার ১০০ টাকা।
৪. নামজারির জন্য কি ভূমি অফিসে নগদ টাকা দিতে হয়?
না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমিসেবার নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়। পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করা উচিত।
৫. নামজারির জন্য অতিরিক্ত টাকা চাইলে কোথায় অভিযোগ করবেন?
সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি বা হয়রানির শিকার হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৬১২২ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে।
আল-মামুন/