Md Razib Ali
Senior Reporter
অস্ট্রেলিয়া বনাম ব্রাজিল: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে কে জিতল?
জয় থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল অস্ট্রেলিয়া। ৭০ মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডার দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ বাঁশি পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষদিকে এসে ম্যাচের চিত্র বদলে দিল ব্রাজিল। ৯৫ মিনিটে রায়ানের হেডে গোল করে সমতা ফেরায় তারা। ফলে নর্থ কুইন্সল্যান্ড স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের লড়াই শেষ হয়েছে ১-১ গোলে।
শুক্রবারের এই ম্যাচটি ছিল সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির অংশ। শুরুতে কয়েক মিনিটের বিলম্বের পর স্টেডিয়ামের লাইট শো শেষ হলে মাঠে নামে দুই দল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটক জমে ওঠে শেষ কয়েক মিনিটে।
ইরানকুন্ডার গোলের পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র
ম্যাচের ৭০ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই বৈধ গোলের দেখা পায়নি। এরপর ওকন-এংস্টলার বক্সের প্রান্তে বল পাওয়ার পর ডগলাস লুইজের ফাউলের শিকার হন। অস্ট্রেলিয়া পায় ফ্রি-কিক।
সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি ইরানকুন্ডা। তার নেওয়া ফ্রি-কিক সরাসরি ব্রাজিলের গোলের ওপরের ডান কোণে গিয়ে জড়ায়। হুগো সুজার পক্ষে বলটি ঠেকানোর সুযোগ ছিল না। দুর্দান্ত সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর ম্যাচে সমতা ফেরাতে আক্রমণের চাপ বাড়াতে থাকে ব্রাজিল। ৭৫ মিনিটে দুই দলেই পরিবর্তন আসে। অস্ট্রেলিয়া ইরানকুন্ডাকে তুলে ম্যাকগ্রিকে মাঠে পাঠায়। ব্রাজিল ভিটর রেইস, এস্তেভাও ও ডগলাস সান্তোসকে তুলে মাউরো জুনিয়র, রায়ান ও জাইরকে নামায়।
শেষ দিকে ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ
৮০ মিনিটে কর্নার থেকে রাফিনহার ক্রস পেয়ে জাইর হেড করেন। বল ডিফ্লেক্ট হয়ে আবার কর্নারে যায়। পরে সেই কর্নারও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ক্লিয়ার করে দেয়। তখন ব্রাজিল একের পর এক পাসে আক্রমণ সাজিয়ে ম্যাচের গতি নিজেদের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
৫ মিনিট পর অস্ট্রেলিয়া একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করে। মেটকাফ, ইতালিয়ানো ও ওকন-এংস্টলার মাঠ ছাড়েন। তাদের জায়গায় নামেন ও'নিল, জেরিয়া ও ইউনিস।
৯০ মিনিটে আরও চার মিনিট যোগ করার ঘোষণা আসে। এই সময় অস্ট্রেলিয়া ইরভাইনকে তুলে প্যাট্রিক ইয়াজবেককে নামায়। অন্যদিকে ব্রাজিল সমতা ফেরানোর জন্য আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে।
অবশেষে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাঁ দিকের কর্নার রাফিনহা বক্সে পাঠালে রায়ান উঁচুতে উঠে হেড করেন। তার নেওয়া বল ক্রসবারে আঘাত করে জালে ঢুকে যায়। ৯৫ মিনিটের সেই গোলেই ১-১ সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
প্রথমার্ধে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণ
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে। প্রথম ১৫ মিনিটে তারা বল দখলে রেখে পাসের মাধ্যমে খেলছিল এবং ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকিয়ে নিজেদের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছিল।
৫ মিনিটে এস্তেভাওর শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বিচের কাছে চলে যায়। এরপর ইরানকুন্ডা দূরপাল্লার শট নিলে হুগো সুজা তা ঠেকিয়ে কর্নারের জন্য পাঠান। অস্ট্রেলিয়ার কর্নার অবশ্য ব্রাজিলের রক্ষণ ক্লিয়ার করে।
১০ মিনিটে মেটকাফের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ডগলাস সান্তোস ও ইতালিয়ানোর মাথায় সংঘর্ষ হলে চিকিৎসার জন্য খেলা থামাতে হয়। ডগলাস দ্রুত ফিরে এলেও ইতালিয়ানোর মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়। পরে তিনিও মাঠে ফেরেন।
১৫ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে মেটকাফের নেওয়া শট ব্রাজিলের গোলরক্ষক ঠেকান। ২০ মিনিটে এন্ড্রিককে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ইরভাইন। এরপর ব্রুনো গিমারায়েস বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শট নিলেও বিচ তা প্রতিহত করেন।
২৫ মিনিটে এন্ড্রিকের দূরপাল্লার প্রচেষ্টা সরাসরি বিচের হাতে যায়। এরপর এস্তেভাওর শটও বাইরে চলে যায়। ৩০ মিনিটে ইরানকুন্ডার শক্তিশালী প্রচেষ্টা ব্রাজিলের রক্ষণ আটকে দেয়।
এস্তেভাওর গোল বাতিল হওয়ায় এগোতে পারেনি ব্রাজিল
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শুরু করে। ৩৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার কর্নার ক্লিয়ার করার পর পাল্টা আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দূর থেকে শট নেন, তবে বিচ সেটি ধরে ফেলেন।
৪০ মিনিটে রাফিনহার শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়। সেই সুযোগ থেকেও গোল আসেনি। পাল্টা আক্রমণে অস্ট্রেলিয়া কর্নার পেলে সারকাতির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিল গোল পেয়ে গিয়েছিল। এন্ড্রিকের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করে বক্সে ঢুকে এস্তেভাও শট নেন এবং বিচকে পরাস্ত করেন। কিন্তু পর্যালোচনার পর এস্তেভাওর ফাউল ধরা পড়ে। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলের দেখা মেলেনি
বিরতির পর কোনো দলই পরিবর্তন ছাড়া মাঠে ফেরে। ৫০ মিনিটে এস্তেভাও আবার দূর থেকে শট নেন, কিন্তু বল বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর অংশে ম্যাচের গতি কিছুটা কম ছিল। ব্রাজিল আক্রমণভাগে চাপ তৈরি করলেও অস্ট্রেলিয়া নিচে নেমে রক্ষণ সামলে রাখে।
৬০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোরালো নিচু শট বিচের হাতে যায়। এরপর ব্রাজিল ব্রুনো গিমারায়েসকে তুলে ডগলাস লুইজকে মাঠে পাঠায়। রাফিনহা দূর থেকে চেষ্টা করলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এরপর ৬৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের আরেকটি শট বিচ ঠেকান। এস্তেভাওও গোলের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বল বাইরে চলে যায়। একই সময় ব্রাজিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এন্ড্রিককে তুলে পেদ্রো ও স্যামুয়েল লিনোকে মাঠে নামায়।
শেষ পর্যন্ত ফল ১-১
এভাবে ৭০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার পাওয়া লিড ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে ছিল। কিন্তু ৯৫ মিনিটে রায়ানের হেডে ব্রাজিল সমতা ফেরানোর পর আর কোনো দল ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।
ফলে নর্থ কুইন্সল্যান্ড স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া-ব্রাজিল ম্যাচের চূড়ান্ত ফল ১-১। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭০ মিনিটে গোল করেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা, আর ব্রাজিলের সমতাসূচক গোলটি আসে রায়ানের কাছ থেকে ৯৫ মিনিটে।
দুই দলের শুরুর একাদশ
ব্রাজিল ৪-২-৩-১ ফরমেশনে শুরু করে। গোলরক্ষক হুগো সুজার সামনে ছিলেন মাতেউজিনহো, মারকিনহোস, ভিটর রেইস ও ডগলাস সান্তোস। মাঝমাঠে ছিলেন দানিলো ও ব্রুনো গিমারায়েস। আক্রমণভাগে এস্তেভাও, রাফিনহা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে ছিলেন এন্ড্রিক।
অস্ট্রেলিয়া ৩-৪-৩ ছকে মাঠে নামে। গোলরক্ষক বিচের সামনে ছিলেন সারকাতি, সাউতার ও হ্যারিংটন। মাঝমাঠে ইতালিয়ানো, ইরভাইন, ওকন-এংস্টলার ও বেহিচ এবং আক্রমণে মেটকাফ, ইরানকুন্ডা ও ইয়েঙ্গি ছিলেন।
ব্রাজিলের বেঞ্চ
পেদ্রো মরিসকো, ওতাভিও, আর্তুর দিয়াস, জাইর, ভান্ডারসন, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মাউরো জুনিয়র, আন্দ্রে সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো, ব্রেনো বিদন, মার্টিনেলি, রায়ান, ডগলাস লুইজ, স্যামুয়েল লিনো ও পেদ্রো।
অস্ট্রেলিয়ার বেঞ্চ
জ্যাকব চ্যাপম্যান, পল ইজ্জো, জেসন জেরিয়া, কেসি বস, ডিলান লিওনার্ড, কিলি অ্যাডামসন, মিলোস দাগেনেক, এইডেন ও'নিল, এলি অ্যাডামস, মার্কাস ইউনিস, প্যাট্রিক ইয়াজবেক, নিশান ভেলুপিল্লাই, ইয়ায়া ডুকুলি ও রাইলি ম্যাকগ্রি।
FAQ
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের ম্যাচের ফল কী?
উত্তর: ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কে গোল করেন?
উত্তর: ৭০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে নেস্টরি ইরানকুন্ডা গোল করেন।
প্রশ্ন: ব্রাজিলের সমতাসূচক গোলটি কে করেন?
উত্তর: ৯৫ মিনিটে রায়ান হেডে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান।
প্রশ্ন: ব্রাজিলের এস্তেভাওর গোল কেন বাতিল হয়েছিল?
উত্তর: প্রথমার্ধের শেষ দিকে এস্তেভাও গোল করলেও পর্যালোচনার পর তার ফাউল ধরা পড়ে। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
প্রশ্ন: ম্যাচটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার নর্থ কুইন্সল্যান্ড স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ আজ, সময় ও লাইভ দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ কবে, কখন; কোথায় দেখবেন লাইভ
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- bangladesh vs malaysia live: গোল, গোল, সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, মোবাইলে লাইভ দেখবেন যেভাবে
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ কবে, কখন, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- আজ বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- কিছুক্ষণ পর ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচের সময়সূচি ও হেড টু হেড রেকর্ড
- চলছে বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: গোল, গোল, সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচসহ আশিয়ান কাপ লাইভ দেখবেন যেভাবে
- চলছে ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ: ফ্রিতে মোবাইলে লাইভ দেখবেন যেভাবে