আয়কর রিটার্নে তথ্য গোপন করলে হতে পারে যে শাস্তি
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শুধু করের অঙ্ক ঠিক থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একজন করদাতার আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় সম্পর্কে যে তথ্য রিটার্নে দেওয়া হচ্ছে, তার যথার্থতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই রিটার্নই রাষ্ট্রের কাছে করদাতার আর্থিক অবস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য আড়াল করে কর কমানোর চেষ্টা করলে তার জন্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে।
২০২৬–২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় শুরু হয়েছে। এবারও বিপুলসংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দেবেন। কেউ নিজেরাই হিসাব প্রস্তুত করবেন, আবার কেউ কর পরামর্শক, কর আইনজীবী কিংবা হিসাববিদের সহায়তা নেবেন। তবে রিটার্ন কে তৈরি করছেন, তার ওপর তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা কমে না।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভুল এবং ইচ্ছাকৃত তথ্য গোপনকে এক করে না দেখা।
পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান কখন প্রযোজ্য
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩১২ অনুযায়ী, কেউ যদি জেনেশুনে করদায় এড়ানোর চেষ্টা করেন, সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। এ ধরনের অপরাধে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি জরিমানা হতে পারে, আবার কারাদণ্ড ও জরিমানা—দুই দণ্ডই হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে রিটার্নে কোনো ভুল হলেই পাঁচ বছরের জেল হবে। আইন অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির চেষ্টাকে একইভাবে বিবেচনা করে না।
হিসাব করতে গিয়ে ভুল, কোনো নথি হাতে না থাকায় ভুল তথ্য চলে আসা, ব্যাংক হিসাবের তথ্য স্থানান্তরের সময় ভুল হওয়া কিংবা সম্পদের মূল্য নির্ধারণে অসাবধানতা—এসব অনিচ্ছাকৃত ঘটনার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে তথ্য গোপন করা এক নয়।
কোন কাজগুলো কর ফাঁকির ইচ্ছাকৃত চেষ্টা হিসেবে ধরা হতে পারে
ধারা ৩১২-এর উপধারা (২)-এ কয়েক ধরনের কর্মকাণ্ডকে করদায় এড়ানোর ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টার মধ্যে রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে আয়ের বিশেষ বিবরণ লুকানো। একইভাবে করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে সম্পদ, দায় বা ব্যয় সম্পর্কে জেনেশুনে অসত্য তথ্য দেওয়াও এর আওতায় পড়ে।
কোনো হিসাব বা সংশ্লিষ্ট নথিতে মিথ্যা তথ্য বা বিবৃতি দেওয়া, মিথ্যা হিসাব বা বিবৃতি তৈরি করা কিংবা অন্যকে দিয়ে তৈরি করানোও শাস্তির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হিসাব বা বিবৃতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া এবং আয়কর পরিশোধ এড়াতে অন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও একই ধারায় বিবেচিত হতে পারে।
শুধু আয় নয়, সম্পদের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ
রিটার্ন তৈরির সময় অনেকের প্রধান মনোযোগ থাকে আয় ও করের অঙ্কে। কিন্তু বাড়ি, জমি, গাড়ি, ব্যাংক আমানত, বিনিয়োগসহ সম্পদের তথ্য এবং দায়ের বিবরণও গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তির প্রকৃত সম্পদ ২ কোটি টাকা হলেও তিনি যদি রিটার্নে ১ কোটি টাকা দেখান, তাহলে বিষয়টি কেবল সংখ্যার ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—যদি সেটি করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকে।
একইভাবে ব্যাংকে থাকা আমানত, বিনিয়োগ বা অন্য সম্পদের অস্তিত্ব জেনেও তা গোপন করা, প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় দেখিয়ে আয় কমিয়ে দেওয়া কিংবা দায়ের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রকৃত সম্পদের অবস্থাকে আড়াল করার চেষ্টাও আইনি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
‘জিরো রিটার্ন’ নিয়ে যে বিষয়টি জানা জরুরি
রিটার্ন নিয়ে আরেকটি বিভ্রান্তি হলো ‘জিরো রিটার্ন’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ধারণা ছড়িয়েছে যে আয়, সম্পদ, ব্যয় ও দায় যা-ই থাকুক, রিটার্নের ঘরগুলোতে শূন্য বসিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ ধরনের প্রবণতা সম্পর্কে করদাতাদের সতর্ক করেছে। আয়কর আইন, ২০২৩-এ ‘জিরো রিটার্ন’ নামে কোনো আলাদা রিটার্নের বিধান নেই।
আইন অনুযায়ী করদাতাকে নিজের প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য ঘোষণা করতে হবে। কারও প্রকৃত আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকলে তাকে কর দিতে নাও হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত আয় বা সম্পদ থাকার পরও সেগুলোর জায়গায় মিথ্যা শূন্য বসানো বৈধ পদ্ধতি নয়।
অর্থাৎ করযোগ্য আয় না থাকা এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করে সব ঘরে শূন্য দেখানো—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
বৈধ সুবিধা নিলে সেটি কর ফাঁকি নয়
আইন মেনে করদায় কমানোর সুযোগ করদাতার রয়েছে। কর অব্যাহতি, বিনিয়োগজনিত সুবিধা, গ্রহণযোগ্য ব্যয়, কর রেয়াত বা কর আইনে অনুমোদিত অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করা বৈধ।
সমস্যা তৈরি হয় যখন এসব আইনসম্মত সুবিধার বাইরে গিয়ে কর কমানোর জন্য মিথ্যা তথ্য, গোপন তথ্য কিংবা কৃত্রিম হিসাব ব্যবহার করা হয়।
আয়কর কর্তৃপক্ষের নোটিশ উপেক্ষা করলেও শাস্তি হতে পারে
রিটার্নের তথ্যের বাইরে আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য বা কাগজপত্র চাইলে সেটিও সময়মতো দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জোগাড় করে যথাযথ আইনি ব্যাখ্যাসহ তা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া উচিত। কোনো কারণে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হলে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কারণ উল্লেখ করে সময় বাড়ানোর আবেদন করার কথা বলা হয়েছে।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩১১ অনুযায়ী, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়া, তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো, পরিদর্শনে বাধা সৃষ্টি করা বা প্রয়োজনীয় নথি দিতে না চাওয়ার মতো কর্মকাণ্ড অপরাধ হতে পারে।
এ ছাড়া আয়কর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, তাদের আদেশ অমান্য করা কিংবা আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
মিথ্যা হিসাব ও সনদপত্রের ক্ষেত্রেও আলাদা বিধান
ধারা ৩১৩-এ জেনে-বুঝে মিথ্যা হিসাব বা বিবৃতি দেওয়ার জন্য পৃথক শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি এমন হিসাব বা বিবৃতি দিলে, যেটিকে তিনি মিথ্যা বলে জানেন বা বিশ্বাস করেন কিংবা সত্য বলে বিশ্বাস করেন না, তাহলে অর্থদণ্ডসহ সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।
এখানেও উদ্দেশ্য ও জ্ঞানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অনিচ্ছাকৃত হিসাবের ভুল আর মিথ্যা জেনেও তথ্য দেওয়ার মধ্যে আইনগত পার্থক্য রয়েছে।
অন্যদিকে ধারা ৩১৪ অনুযায়ী, জেনেশুনে মিথ্যা সনদপত্রে স্বাক্ষর করা বা সেটি জারি করাও অপরাধ হতে পারে। এর জন্য সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ভুল ধরা পড়লে কী করবেন
রিটার্ন প্রস্তুতের সময় সতর্ক থাকলেও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বেতন বিবরণী, বিনিয়োগের কাগজপত্র, সম্পত্তির দলিল, ঋণের হিসাব, উৎসে করের সনদসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে আয়, সম্পদ, ব্যয় ও দায়ের তথ্য ঠিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত।
রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভুল নজরে এলে সেটি গোপন না রেখে সংশোধনের আইনি সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮০(২) অনুযায়ী, আয় দেখানো, কর অব্যাহতি বা ক্রেডিট, রেয়াত দাবি কিংবা অন্য কোনো কারণে কর সঠিকভাবে হিসাব না হলে বা সঠিক পরিমাণ পরিশোধ না হলে কারণ উল্লেখ করে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে এই সুযোগের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ধারা ১৮০(৩) অনুযায়ী, প্রথম সংশোধিত রিটার্নের পর আবার সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যায় না। মূল রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরও এই সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি মূল রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিন পার হয়ে গেলে এই ধারার অধীনে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ নেই।
রিটার্ন তৈরিতে করদাতারও সক্রিয় থাকা প্রয়োজন
পেশাদার সহায়তা নিয়ে রিটার্ন তৈরি করলেও করদাতার উচিত নিজের রিটার্নে কী তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তা বুঝে নেওয়া। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে সেই তথ্য মিলিয়ে দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে কর পরামর্শক, কর আইনজীবী বা হিসাববিদদেরও করদায় কমানোর নামে মিথ্যা তথ্য, কৃত্রিম ব্যয় বা গোপন সম্পদ দেখানোর পরামর্শ না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে মূল বিষয়টি হলো, আয়কর রিটার্নকে শুধু একটি প্রশাসনিক কাগজ হিসেবে দেখলে চলবে না। এতে একজন করদাতার আর্থিক অবস্থার তথ্য রাষ্ট্রের কাছে ঘোষণা করা হয়। তাই ভুল হলে তা সংশোধনের আইনি পথ অনুসরণ করা এবং করদায় কমানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন বা মিথ্যা হিসাব না দেওয়াই রিটার্ন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
FAQ
১. আয়কর রিটার্নে ভুল হলেই কি জেল হয়?
না। অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে জেনেশুনে তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া এক বিষয় নয়।
২. কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে তথ্য গোপন করলে কী শাস্তি হতে পারে?
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩১২ অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। জরিমানা বা উভয় দণ্ডও হতে পারে।
৩. আয়কর আইনে ‘জিরো রিটার্ন’ আছে কি?
না। আয়কর আইন, ২০২৩-এ ‘জিরো রিটার্ন’ নামে আলাদা কোনো রিটার্নের বিধান নেই। প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য ঘোষণা করতে হয়।
৪. রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে কী করা যায়?
নির্দিষ্ট শর্ত ও সময়সীমার মধ্যে ধারা ১৮০(২) অনুযায়ী কারণ উল্লেখ করে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়া যেতে পারে।
৫. আয়কর কর্তৃপক্ষের চাওয়া তথ্য না দিলে কী হতে পারে?
ধারা ৩১১ অনুযায়ী, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়া বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড অপরাধ হতে পারে। এর জন্য সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ আজ, সময় ও লাইভ দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- bangladesh vs malaysia live: গোল, গোল, সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, মোবাইলে লাইভ দেখবেন যেভাবে
- কিছুক্ষণ পর ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, সরাসরি দেখুন Live
- আজ বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- চলছে বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: গোল, গোল, সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচসহ আশিয়ান কাপ লাইভ দেখবেন যেভাবে
- চলছে ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- অস্ট্রেলিয়া বনাম ব্রাজিল: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে কে জিতল?
- কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ: ফ্রিতে মোবাইলে লাইভ দেখবেন যেভাবে
- ঢাকা থেকে সারাদেশে নতুন বাসভাড়া, কোন রুটে কত টাকা
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া আজকের খেলা লাইভ