ডিএসইতে টেক্সটাইলের ছয় কোম্পানি, ২০০ কোটি ছাড়াল তিনটি
সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একদিকে যেমন হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, অন্যদিকে প্রধান সূচক হারিয়েছে ১২৫ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। এই সময়ের বাজারচিত্রে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে টেক্সটাইল খাতের কোম্পানিগুলোর সক্রিয়তা। শীর্ষ ২০ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একসঙ্গে ছয়টি কোম্পানি জায়গা করে নিয়েছে, যার তিনটির শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা পেরিয়েছে।
ডিএসইর পাক্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানির পাশাপাশি শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় রয়েছে মালেক স্পিনিং মিলস, এনভয় টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন মিলস ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
১১ দিনে গড় লেনদেন ৫৮০ কোটি টাকা
সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মোট ৬ হাজার ৩৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ওই সময়ের ১১ কার্যদিবসের হিসাব করলে প্রতিদিন গড়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৮০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
কিন্তু লেনদেনের এই পরিমাণের সঙ্গে সূচকের গতিপথ মেলেনি। ১৫ সেপ্টেম্বর দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স ১২৫ দশমিক ৬২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে নেমে আসে।
অর্থাৎ, বাজারে লেনদেনের সক্রিয়তা থাকলেও প্রথমার্ধের শেষে প্রধান সূচক ছিল নিম্নমুখী।
শীর্ষ লেনদেনে টেক্সটাইলের ছয় কোম্পানি
টেক্সটাইল খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ সবচেয়ে বেশি লেনদেনের অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির পর রয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরির মালেক স্পিনিং মিলস ও এনভয় টেক্সটাইল।
এ তালিকায় আরও আছে ‘বি’ ক্যাটাগরির সায়হাম টেক্সটাইল ও সায়হাম কটন মিলস। টেক্সটাইল খাতের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে শীর্ষ লেনদেনকারীদের তালিকায় জায়গা পেয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরির প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের হাতবদল ১২ কোটি ৪ লাখ শেয়ার
প্রথমার্ধে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে মোট ২৪৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৪ শতাংশ এসেছে এই একটি কোম্পানি থেকে।
শেয়ার হাতবদলের সংখ্যার হিসাবেও প্রতিষ্ঠানটি ছিল সবার ওপরে। এই সময়ে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ১২ কোটি ৪ লাখ শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হওয়া শেয়ারের প্রায় ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশই ছিল কোম্পানিটির।
এর পরের অবস্থানে থাকা মালেক স্পিনিং মিলসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার। এনভয় টেক্সটাইলের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ২০৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
২০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করা অন্য কোম্পানি সায়হাম টেক্সটাইল। তাদের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০১ কোটি ২৪ লাখ টাকার।
এদিকে সায়হাম কটন মিলসের লেনদেন ছিল ১৯০ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ১৫৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
দর বৃদ্ধির তালিকায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স
লেনদেনের বাইরে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে শেয়ারদরের পরিবর্তনেও বেশ কিছু কোম্পানি আলোচনায় এসেছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের।
মাসের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ছিল ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা। ১৫ সেপ্টেম্বর সেই দর বেড়ে ১৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছায়। এতে প্রথমার্ধে শেয়ারটির মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
দর বাড়ার পরের অবস্থানে রয়েছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিটদর ২৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে ১৭ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর বেড়েছে ২৫ দশমিক ৪২ শতাংশ; ১৫ সেপ্টেম্বর তা দাঁড়ায় ৭ টাকা ৪০ পয়সায়।
একই সময়ে মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ২৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ৫০ টাকা ৪০ পয়সায় এবং এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর ২২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে।
লেনদেনে শীর্ষ কোম্পানির দরই কমেছে সবচেয়ে বেশি
প্রথমার্ধের বাজারচিত্রে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শার্প ইন্ডাস্ট্রিজই শেয়ারদর পতনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১৮ টাকা ৩০ পয়সায় নেমেছে।
এরপর দরপতনের তালিকায় রয়েছে ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৩ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ৪২ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদরও কমেছে ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রথমার্ধ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে দাঁড়ায় ১৭৬ টাকা ৭০ পয়সায়। তবে বর্মানে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর চাঙ্গাভাবে রয়েছে।
তানভির ইসলাম/