ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতালি ওয়ার্ক পারমিটে ১৬ ইউরো ফি, ৮–১২ লাখ কেন?

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০১ ১৫:১৫:৪৯
ইতালি ওয়ার্ক পারমিটে ১৬ ইউরো ফি, ৮–১২ লাখ কেন?

ইতালিতে কাজের সুযোগ পেতে সরকারি প্রক্রিয়ায় Nulla Osta আবেদনের ফি মাত্র ১৬ ইউরো। অথচ বাংলাদেশে এই একটি নথির জন্য ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে—এমন দাবি তুলে ইতালির ওয়ার্ক পারমিটের পুরো প্রক্রিয়াটি নিজে করার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতালির কাজের ভিসার জন্য মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; মূল বিষয় হলো সঠিক ওয়েবসাইট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং কোন ধাপে কার আবেদন করতে হবে, তা জানা।

২০২৭ সালের ইতালি ওয়ার্ক পারমিটের Click Day সামনে থাকায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। Click Day ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় চাকরির অফার, নিয়োগকর্তার মাধ্যমে Nulla Osta আবেদন, সরকারি যাচাই এবং পরবর্তী সময়ে ইতালির কনস্যুলেট বা বাংলাদেশ থেকে VFS-এর মাধ্যমে ভিসার আবেদন—সবগুলো ধাপ আলাদা।

২০২৭ সালের আবেদন নিয়ে এখন কেন প্রস্তুতি

ইতালির নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের কোটা সম্পর্কিত তথ্য দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৭ সালের প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কারা আবেদন করতে পারবেন, সেই তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মলদোভা ও মন্টেনেগ্রোর মতো বর্তমানে নন-শেনজেন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও আবেদন করতে পারবেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

তবে শুধু আবেদন করতে চাইলেই প্রক্রিয়া শুরু হয় না। প্রথমে প্রয়োজন একটি চাকরির অফার। এরপর ইতালির যে নিয়োগকর্তা ওই কর্মীকে নিয়োগ করবেন, তাকেই তার পক্ষে Nulla Osta বা কাজের অনুমোদনের আবেদন করতে হবে।

Nulla Osta আবেদন করবে নিয়োগকর্তা

ইতালির সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালের প্রথম পাতায় ‘Request for Authorization for Work’ লেখা থাকে। এই জায়গা থেকেই নিয়োগকর্তা কর্মীর জন্য কাজের অনুমোদনের আবেদন করেন।

আবেদন করতে প্রয়োজন SPID অথবা CIE ID। এই পরিচয়পত্র নিয়োগকর্তার কাছেই থাকে। ফলে বাংলাদেশে বসে কোনো আবেদনকারী নিজে সরাসরি এই আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে কোনো বাংলাদেশি এজেন্সি বা সাধারণভাবে কোনো আইনজীবীও নিজের পক্ষ থেকে আবেদন করতে পারবেন না।

তবে কোনো কোম্পানি চাইলে তাদের অনুমোদনের অধীনে একজন আইনজীবীকে দিয়ে আবেদন করাতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইনজীবী কোম্পানির দেওয়া অনুমোদনের ভিত্তিতে কাজটি করবেন।

অর্থাৎ কর্মীর জন্য চাকরির অফার দেওয়া ইতালীয় কোম্পানিই Nulla Osta প্রক্রিয়ার মূল দায়িত্ব পালন করবে।

আবেদন করতে কোন কাগজপত্র লাগে

প্রক্রিয়াটিকে মূলত তিন ধরনের নথির ওপর ভাগ করা হয়েছে—কর্মীর কাগজপত্র, থাকার জায়গার প্রমাণ এবং নিয়োগকর্তার কাগজপত্র।

কর্মীর পক্ষ থেকে প্রধান নথি হিসেবে পাসপোর্ট প্রয়োজন। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। এরপর রয়েছে আবাসনের প্রমাণ বা housing contract।

অন্যদিকে নিয়োগকর্তাকে তাদের কোম্পানির tax ID এবং নিজের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করতে হয়।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সেটি পোর্টালে pending অবস্থায় থাকে। Click Day এলে সরকারি কর্তৃপক্ষ সেখানে জমা থাকা আবেদনগুলো যাচাই করে।

Click Day-তে কী হয়

ইতালির ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ায় Click Day হলো আবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট দিন। আগে থেকে প্রস্তুত করা আবেদন সেই দিন পোর্টালের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় সরকারি যাচাই। কর্মীর নথি, আবাসনের কাগজ এবং নিয়োগকর্তার কাগজ—তিন ধরনের তথ্যই পরীক্ষা করা হয়।

শুধু কাগজপত্র জমা পড়লেই অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর নির্দিষ্ট কাজের জন্য শ্রমবাজারে প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয়।

কোনো নথি অসম্পূর্ণ থাকলে সেটি আবেদনকারীর কাছে নয়, নিয়োগকর্তার কাছে চাওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকেই প্রয়োজনীয় কাগজ পোর্টালে আপলোড করতে হবে।

অনুমোদন মিললে সাত দিনের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে

Nulla Osta অনুমোদিত হলে নিয়োগকর্তার জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তাকে নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সত্যিই নিয়োগ করছেন।

অন্যদিকে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে একই বছরে আবার আবেদন করার সুযোগ থাকবে না। পরবর্তী বছরের Click Day পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ একটি আবেদন ব্যর্থ হলে পরবর্তী সুযোগ পেতে এক বছর পিছিয়ে যেতে হবে।

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর নিজের নথির তুলনায় আবাসন ও নিয়োগকর্তার কাগজপত্র এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব নথিতে সমস্যা থাকলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

Nulla Osta পাওয়ার পর ভিসার আবেদন

কাজের অনুমোদন বা Nulla Osta হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপ হলো ইতালির কাজের ভিসার আবেদন।

বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলে VFS-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীকে সেখানে নিজের তথ্য দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার পর VFS-এ গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এই ভিসা পাওয়ার পর সেটির ভিত্তিতে ইতালিতে যাওয়া সম্ভব হবে।

চাকরি খুঁজবেন কীভাবে

ইতালিতে চাকরির অফার পাওয়ার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন চাকরির ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। দেওয়া উদাহরণে Indeed Italy-সহ ইতালির স্থানীয় চাকরির পোর্টালের কথা বলা হয়েছে।

এসব ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কোম্পানি ও হোটেল চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কোনো নির্দিষ্ট চাকরি পছন্দ হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তথ্য দেখা যায়। এরপর কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের কার্যক্রম ও যোগাযোগের তথ্য বের করা সম্ভব।

হোটেলের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতিতে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Career বা Contact বিভাগ থেকে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।

দেওয়া পদ্ধতিতে সরাসরি কোম্পানি বা হোটেলের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় যতগুলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা হোটেলে চাকরির সুযোগ রয়েছে, সেগুলোতে আবেদন করার কথাও বলা হয়েছে।

তবে চাকরি পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। একই পদের জন্য অনেক আবেদনকারী থাকতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত নিয়োগকর্তাই কাকে নিয়োগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

১৬ ইউরোর ফি কীভাবে ৮–১২ লাখ টাকায় পৌঁছায়

ইতালির Nulla Osta আবেদনের সরকারি ফি ১৬ ইউরো। এই অর্থ Click Day-তে দিতে হয়।

এর বাইরে Italy National Visa D Type-এর ভিসা আবেদন ফি ১১৬ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা।

VFS-এর জন্য আরও প্রায় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে Nulla Osta-এর জন্য ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও এর সরকারি ফি মাত্র ১৬ ইউরো। এই অতিরিক্ত অর্থকে ভিসার সরকারি খরচ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না; তথ্যটিতে এটিকে সিন্ডিকেটের খরচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোট খরচ কত হতে পারে

সাধারণ কর্মীদের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় অতিরিক্ত নথি সত্যায়নের প্রয়োজন হয় না বলে দেওয়া তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট দিয়েই ভিসা পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হয় না।

ভিসা-সংক্রান্ত সরকারি ফি, VFS এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচ মিলিয়ে মোট আনুমানিক ব্যয় ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা হতে পারে।

এর সঙ্গে বিমান টিকিট, অন্যান্য আবাসন এবং ভিসার আগে প্রয়োজনীয় জনবলসংক্রান্ত খরচ ধরলে মোট ২ থেকে ৩ লাখ টাকার বাজেটের মধ্যে ইতালির এই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব বলে দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়ায় মূল দায়িত্ব কার

পুরো ব্যবস্থাটিকে তিনটি বড় ধাপে দেখা যায়। প্রথমে আবেদনকারীকে চাকরির সুযোগ খুঁজে নিতে হবে এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে Job Offer পেতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ইতালির নিয়োগকর্তা SPID বা CIE ID ব্যবহার করে কর্মীর হয়ে Nulla Osta-এর আবেদন করবেন। এরপর Click Day-তে আবেদন জমা, সরকারি যাচাই, শ্রমবাজার যাচাই এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সবশেষে Nulla Osta অনুমোদিত হলে আবেদনকারী ইতালির কাজের ভিসার জন্য আবেদন করবেন। বাংলাদেশে সেই প্রক্রিয়ায় VFS ব্যবহার করতে হবে।

ফলে পুরো ব্যবস্থায় কোন কাজটি আবেদনকারী করবেন আর কোন অংশটি নিয়োগকর্তার দায়িত্ব—এই পার্থক্যটি বোঝাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় চাকরির অফার দেওয়া কোম্পানিই Nulla Osta-এর আবেদন করবে; আবেদনকারী নিজে বা সাধারণ কোনো এজেন্সি সেই আবেদন করতে পারবে না।

FAQ

প্রশ্ন: ইতালির Nulla Osta আবেদনের ফি কত?

উত্তর: দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, Nulla Osta আবেদনের ফি ১৬ ইউরো এবং Click Day-তে এই ফি দিতে হয়।

প্রশ্ন: Nulla Osta-এর আবেদন কে করবেন?

উত্তর: ইতালির যে নিয়োগকর্তা কর্মীকে নিয়োগ করবেন, তিনিই কর্মীর হয়ে Nulla Osta-এর আবেদন করবেন। এর জন্য নিয়োগকর্তার SPID অথবা CIE ID প্রয়োজন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে ইতালির ওয়ার্ক ভিসার আবেদন কোথায় করতে হবে?

উত্তর: Nulla Osta অনুমোদনের পর বাংলাদেশ থেকে ভিসার আবেদন VFS-এর মাধ্যমে করতে হবে।

প্রশ্ন: ইতালির ওয়ার্ক পারমিটের জন্য কী কী নথি প্রয়োজন?

উত্তর: দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য, আবাসনের প্রমাণ বা housing contract এবং নিয়োগকর্তার কোম্পানির tax ID ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি প্রয়োজন।

প্রশ্ন: ২০২৭ সালের ইতালি ওয়ার্ক পারমিটের Click Day কবে?

উত্তর: দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের Click Day জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে হওয়ার কথা।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ