৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট: নবম ব্যালন ডি’অরের পথে মেসি?
৩৯ বছর বয়সেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে ৮ গোলের পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। অর্থাৎ দলটির করা ১৯ গোলের মধ্যে ১২টিতেই সরাসরি অবদান রয়েছে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার। বিশ্বকাপের শিরোপা শেষ পর্যন্ত হাতে না উঠলেও এমন পারফরম্যান্সের পর ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর নিয়ে মেসির নাম আবারও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।
স্পেনের কাছে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে ২০২২ সালের পর আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগ মেসির হাতছাড়া হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে বিশ্বকাপ ও ক্লাব ফুটবল—দুই জায়গাতেই তার পরিসংখ্যান ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রেখেছে।
ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও মেসির দাপট
২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এই আসরে ৮ গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার মোট গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১-এ।
বিশ্বকাপে এর আগে ১৬ গোল নিয়ে রেকর্ডটি ছিল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের দখলে। মেসি সেই রেকর্ড ভাঙলেও পরে কিলিয়ান এমবাপ্পে তাকে ছাড়িয়ে যান।
তবে শুধু গোলের হিসাবেই মেসির পারফরম্যান্সের গুরুত্ব শেষ হচ্ছে না। ৮ গোলের সঙ্গে ৪টি অ্যাসিস্ট মিলিয়ে আর্জেন্টিনার ১৯ গোলের মধ্যে ১২টিতে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। অর্থাৎ বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার পুরো অভিযানে দলের আক্রমণভাগে মেসির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩৯ বছর বয়সেও গোল ও সৃষ্টিশীলতায় সামনে
মেসির এবারের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক তার বয়স। ৩৯ বছর বয়সে তিনি ছিলেন বড় আক্রমণাত্মক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী।
তারপরও আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি একই সঙ্গে গোল করার এবং আক্রমণ তৈরি করার দায়িত্ব পালন করেছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সাধারণত যে ধরনের শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা সামনে আসে, তার মধ্যেও মেসি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
শুধু গ্রুপপর্ব নয়, ফাইনাল পর্যন্ত যাত্রায় অবদান
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মেসির আরেকটি দিক সামনে আসে—আর্জেন্টিনা শুধু গ্রুপপর্ব পেরিয়েই থেমে থাকেনি, বরং ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে।
শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হয়। মেসিও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে জেতা শিরোপার পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের সুযোগ পাননি।
তবে ফাইনালে পৌঁছানোর পথে নকআউট পর্বের একাধিক ম্যাচে অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ফলে তার বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সকে শুধু গ্রুপপর্বের পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
ইন্টার মায়ামিতেও ছিল দুর্দান্ত পরিসংখ্যান
২০২৬ ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে মেসির পক্ষে শুধু বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সই নয়, ক্লাব ফুটবলের পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যালন ডি’অরের বিবেচ্য সময়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩০টি MLS ম্যাচ খেলেছেন মেসি। সেখানে তার গোল ২৯টি এবং অ্যাসিস্ট ২৩টি। অর্থাৎ মাত্র ৩০ ম্যাচে মোট ৫২টি গোল অবদানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি।
Opta-র তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে MLS-এ গোল, অ্যাসিস্ট এবং তৈরি করা সুযোগ—তিন ক্ষেত্রেই শীর্ষে ছিলেন মেসি।
ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় অর্জনও এসেছে তার হাতে। তিনি টানা দ্বিতীয়বার Landon Donovan MLS MVP পুরস্কার জেতেন। একই সঙ্গে ইন্টার মায়ামিকে ২০২৫ সালের MLS Cup জেতাতেও ভূমিকা রাখেন।
Golden Ball না পাওয়াটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন শিরোপা জেতার পর টুর্নামেন্টের Golden Ball পুরস্কার পান স্পেনের রদ্রি। ফলে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার মেসির হাতে না ওঠা তার ব্যালন ডি’অর দাবির আলোচনায় একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে ব্যালন ডি’অর কেবল বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না। পুরো মৌসুমে একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও বিবেচনায় আসে। সেই হিসাবে মেসির সামনে বিশ্বকাপের পাশাপাশি ইন্টার মায়ামির হয়ে করা ৫২ গোল অবদানের পরিসংখ্যানও রয়েছে।
নবম ব্যালন ডি’অরের জন্য মেসির সামনে কী আছে?
২০২৬ সালে মেসির ব্যালন ডি’অর দাবির পেছনে মূলত চারটি বিষয় সামনে আসে—বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট, ৩৯ বছর বয়সে সেই পারফরম্যান্স, আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথের অবদান এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩০ MLS ম্যাচে ৫২ গোল অবদান।
তবে বিশ্বকাপ জিততে না পারা এবং Golden Ball না পাওয়ার বিষয়টিও তার প্রার্থিতার আলোচনায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত নবম ব্যালন ডি’অর মেসির হাতে উঠবে কি না, সেটি ভোটারদের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে।
এদিকে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর আলোচনায় মেসির পাশাপাশি হ্যারি কেনের নামও রয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ মৌসুমের পর ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পথে কেন করেন ৬ গোল। তবে বায়ার্ন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাফল্য না পাওয়ায় এবং অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করায় পুরস্কারের লড়াই এখনও উন্মুক্ত।
FAQ
১. ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি কত গোল করেছেন?
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি ৮টি গোল করেছেন।
২. বিশ্বকাপে মেসি কতটি অ্যাসিস্ট করেছেন?
তিনি ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন।
৩. ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কত গোলের সঙ্গে মেসি সরাসরি যুক্ত ছিলেন?
আর্জেন্টিনার করা ১৯ গোলের মধ্যে মেসি ১২টিতে গোল বা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে সরাসরি অবদান রেখেছেন।
৪. ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসির ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিবেচ্য সময়ে পরিসংখ্যান কী?
৩০টি MLS ম্যাচে মেসি ২৯ গোল ও ২৩ অ্যাসিস্ট করেছেন, অর্থাৎ মোট ৫২টি গোল অবদান রয়েছে।
৫. ২০২৬ বিশ্বকাপের Golden Ball কে পেয়েছেন?
স্পেনের রদ্রি ২০২৬ বিশ্বকাপের Golden Ball পুরস্কার পেয়েছেন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আর্জেন্টিনা-বুরকিনা ফাসো ম্যাচ ৪ তারিখ সকালে, দেখবেন যেভাবে লাইভ
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ৫টি দেশের টাকার মান
- এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি, বাজারমূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা
- ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ আজ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ আজ: লাইভ দেখার সহজ উপায়
- ব্রাজিল বনাম ভারত: শেষ পর্যন্ত কী হলো ম্যাচে, জানুন ফলাফল
- আজকের টাকার রেট কত: বাড়লো ২০টি দেশের টাকার মান
- আজ ১০/০৩/২০২৬ তারিখ: ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- চলছে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা: তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কে জিতল?
- আজ ১০/০৪/২০২৬ তারিখ: ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম