পাসপোর্টের ছবি কেন এত খারাপ আসে? জানুন আসল কারণ
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিজের ছবিটি দেখে অনেকেরই প্রথম প্রশ্ন থাকে—ছবিটা এত অচেনা বা খারাপ দেখাচ্ছে কেন? আসলে বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের ছবি সাধারণ স্টুডিওতে তোলা ছবি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ছবির মতো সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয় না। এটি পরিচয় শনাক্তকরণ ও বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার অংশ। ফলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ক্যামেরায় ধারণ করা মুখের ছবি, স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ পাসপোর্ট তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। এ কারণেই ছবিতে অনেক সময় স্বাভাবিক ছবি তুললে যে ধরনের লুক পাওয়া যায়, তার সঙ্গে পার্থক্য দেখা যায়।
বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্টের আবেদন অনলাইন বা নির্ধারিত PDF ফরমের মাধ্যমে করা যায়। আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার আওতাধীন বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দিতে হয়। ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে আলাদা করে ছবি লাগানোর প্রয়োজন নেই; নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের সময় ছবি নেওয়া হয়।
পাসপোর্টের ছবি খারাপ দেখায় কেন?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাসপোর্টের ছবির উদ্দেশ্য সুন্দর ছবি তৈরি করা নয়; বরং পরিচয় যাচাইয়ের উপযোগী ছবি সংগ্রহ করা। তাই সাধারণ ক্যামেরা, স্টুডিও বা স্মার্টফোনে তোলা ছবির মতো আলো, অ্যাঙ্গেল বা সৌন্দর্যবর্ধক সুবিধা এখানে থাকে না।
বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের সময় মুখের ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এই ছবি পাসপোর্টের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের অংশ। ই-পাসপোর্টের চিপে ছবি, স্বাক্ষরসহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
ফলে ছবিতে মুখের স্বাভাবিক গঠন, ত্বকের দাগ, চোখের নিচের অংশ বা মুখের অভিব্যক্তি অনেক বেশি স্পষ্ট মনে হতে পারে। আবার ক্যামেরার আলো ও নির্দিষ্ট ফ্রেমের কারণে ছবিটি অনেকের কাছে অস্বাভাবিকও লাগতে পারে।
অর্থাৎ পাসপোর্টের ছবি খারাপ হওয়ার বিষয়টি অনেকাংশেই বায়োমেট্রিক ছবির উদ্দেশ্য ও নির্দিষ্ট ক্যাপচার পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে স্টুডিওর পোর্ট্রেট ছবির সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটি বেশি চোখে পড়ে।
ই-পাসপোর্টের ছবিতে কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?
ই-পাসপোর্টের আবেদন করার সময় নিজের ছবি আলাদা করে আপলোড বা সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ফরমে ছবি সংযোজন ও সত্যায়নের প্রয়োজন নেই।
তবে ৬ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে ৩R সাইজের ল্যাব-প্রিন্ট রঙিন ছবি প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান নাগরিক সনদেও এই বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে পুরোনো MRP ব্যবস্থায় আবেদন ফরমের সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করার নিয়ম ছিল। ফলে MRP ও বর্তমান e-Passport-এর ছবি-সংক্রান্ত নিয়ম এক নয়।
ছবি তোলার সময় কী করবেন?
পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক দেওয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাভাবিকভাবে ক্যামেরার দিকে তাকানো এবং কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসরণ করা। ছবি যেহেতু পরিচয় শনাক্তকরণের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই ইচ্ছামতো পোজ দেওয়া, মুখ ঘুরিয়ে ছবি তোলা বা সাধারণ ফটোগ্রাফির মতো অভিব্যক্তি দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
পুরোনো সরকারি নির্দেশনায় ছবি তোলার সময় সাদা পোশাক, সাদা টুপি ও চশমা না পরার কথা উল্লেখ ছিল। তবে বর্তমান আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
আবেদন করার আগে কোন তথ্য মিলিয়ে নেবেন?
পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে ভুল এড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ই-পাসপোর্ট নির্দেশনায় প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে NID এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনুসারে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে তথ্যগুলো ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। কারণ বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর ভুল তথ্য সংশোধনের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। পুরোনো সরকারি নির্দেশনাতেও ছবি, স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে?
বর্তমান ই-পাসপোর্টের জন্য সাধারণভাবে প্রয়োজন হয়—
অনলাইনে বা PDF আকারে পূরণ করা আবেদনপত্র
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে NIDপ্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ
পাসপোর্ট ফি জমার এ-চালান/প্রযোজ্য পেমেন্ট প্রমাণ
রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট
হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডি
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য NOC/GO বা সংশ্লিষ্ট নথি
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ, তালাকনামা বা অন্যান্য সহায়ক নথি
৬ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে ৩R সাইজের ল্যাব-প্রিন্ট রঙিন ছবি।
তবে আবেদনকারীর বয়স, পেশা, পূর্ববর্তী পাসপোর্ট, তথ্য পরিবর্তন বা বিশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে।
পাসপোর্টের বয়স ও মেয়াদ কত?
বর্তমান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচের আবেদনকারীদের ই-পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠা।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫ বছর বা ১০ বছরের মেয়াদের পাসপোর্টের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট বয়সসীমা ও পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স অনুযায়ী নিয়ম প্রযোজ্য হয়। সরকারি নির্দেশনায় ৬৫ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীদের জন্য ৫ বছর ও ৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের কথা উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি কত?
| পাসপোর্ট | সাধারণ | জরুরি | অতীব জরুরি |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
বর্তমান ই-পাসপোর্ট পোর্টালে বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ ফি প্রকাশ করা হয়েছে। পৃষ্ঠা ও মেয়াদ অনুযায়ী ফি আলাদা।
ই-পাসপোর্ট পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী Express ডেলিভারি বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের পর ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এবং Super Express ২ কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় যাচাই বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন প্রযোজ্য হলে বাস্তব সময় ভিন্ন হতে পারে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নাগরিক সনদেও নির্ধারিত সময়সীমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পুলিশ প্রতিবেদনের বিষয়টি উল্লেখ আছে।
পাসপোর্টের আবেদন কোথায় করতে হবে?
আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার আওতাধীন বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস অথবা বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনে আবেদন জমা দিতে হয়।
ই-পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে শুরু করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী PDF ফরমের মাধ্যমেও আবেদন গ্রহণ করা হয়।
পাসপোর্ট করতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়?
এ বিষয়ে সবার জন্য একই নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বর্তমান ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নাগরিক সনদে পাসপোর্ট প্রদানের সময়সীমার সঙ্গে পুলিশ প্রতিবেদন প্রযোজ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং কার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজন হবে তা ওয়েবসাইটে জানার কথা বলা হয়েছে।
তাই আবেদন করার সময় নিজের ক্যাটাগরির জন্য সর্বশেষ নির্দেশনা দেখা উচিত।
পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে কী করবেন?
আগের পাসপোর্টের তথ্য অপরিবর্তিত রেখে রি-ইস্যু করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আগের পাসপোর্টের কপি প্রয়োজন হতে পারে। পরিবর্তিত তথ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফরম ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দিতে হয়। বর্তমান নাগরিক সনদ অনুযায়ী রি-ইস্যুর সময় পূর্ববর্তী মূল পাসপোর্ট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বিষয়টি আলাদা। হারানো ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডি দাখিলের কথা সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
পাসপোর্টে ভুল ধরা পড়লে কী করবেন?
পাসপোর্টের ছবি, নাম, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্য ভুল মনে হলে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ছবি, স্বাক্ষর ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার আগে আবেদনকারীর তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পুরোনো নির্দেশনায় বায়োমেট্রিক দেওয়ার আগে প্রি-ডেলিভারি রসিদে থাকা তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছিল। কোনো ভুল থাকলে তখনই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো যায়।
ই-পাসপোর্টে কী থাকে?
ই-পাসপোর্ট সাধারণ পাসপোর্টের তুলনায় আলাদা একটি নিরাপত্তা কাঠামো ব্যবহার করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের চিপে ব্যক্তিগত তথ্য, স্বাক্ষর, ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
এ কারণে পাসপোর্টের ছবি শুধু ছাপা একটি ছবি নয়; এটি পরিচয় যাচাইয়ের ডিজিটাল ব্যবস্থার অংশ।
MRP ও e-Passport-এর পার্থক্য কী?
MRP বা Machine Readable Passport-এ একটি Machine Readable Zone বা MRZ থাকে, যেখানে নির্দিষ্ট মেশিনের মাধ্যমে পাসপোর্টধারীর তথ্য পড়া যায়। অন্যদিকে ই-পাসপোর্টে ইলেকট্রনিক চিপের মাধ্যমে অতিরিক্ত বায়োমেট্রিক ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা দেশজুড়ে চালু রয়েছে।
পাসপোর্টের ছবি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা
অনেকে মনে করেন, পাসপোর্টের ছবি সুন্দর না হলে সেটি ভুল ছবি। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। পাসপোর্টের ছবি মূলত পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য। তাই এটি ফেসবুক, জাতীয় পরিচয়পত্রের সাধারণ ছবি বা স্টুডিও পোর্ট্রেটের মতো সুন্দর দেখানোর জন্য তোলা হয় না।
আরেকটি বিষয় হলো, পাসপোর্টের ছবিতে ফেস-রিটাচ, বিউটি ফিল্টার বা পছন্দমতো এডিটিং করার সুযোগ নেই। ফলে নিজের তোলা ছবির তুলনায় পাসপোর্টের ছবিতে মুখের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বেশি চোখে পড়তে পারে।
পাসপোর্ট আবেদনের আগে এই বিষয়গুলো মনে রাখুন
পাসপোর্ট করতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করে নিলে পরবর্তী ঝামেলা কমতে পারে—
১. NID বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য মিলিয়ে নিন।
নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য সঠিক আছে কি না আগে যাচাই করুন।
২. পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠা নির্বাচন করুন।
আপনার বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী ৫ বা ১০ বছরের মেয়াদ এবং ৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠার অপশন প্রযোজ্য কি না দেখুন।
৩. সঠিক ফি দিন।
Regular, Express ও Super Express অনুযায়ী ফি আলাদা।
৪. বায়োমেট্রিকের দিন সময় হাতে রাখুন।
ছবি, স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
৫. ছবি নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করবেন না।
এটি সৌন্দর্যবর্ধক ছবি নয়; পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য নেওয়া বায়োমেট্রিক ছবি।
৬. ছবি ও তথ্য দেওয়ার আগে সবকিছু যাচাই করুন।
বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ভুল থাকলে পরে সংশোধনের প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।
পাসপোর্টের ছবি অনেকের কাছে খারাপ বা অচেনা লাগলেও এর প্রধান কারণ হলো ছবিটির উদ্দেশ্য। এটি কোনো স্টুডিও পোর্ট্রেট নয়; আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নথিতে পরিচয় শনাক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নেওয়া বায়োমেট্রিক ছবি। তাই ছবিতে নিজের চেহারা খুব আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে কি না, তার চেয়ে পরিচয় শনাক্ত করার উপযোগী ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে ছবি ধারণ করাই মূল বিষয়।
পাসপোর্টের আবেদন করার আগে অবশ্যই ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত। কারণ ফি, কাগজপত্র, যাচাই বা আবেদনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
FAQ
প্রশ্ন: পাসপোর্টের ছবি এত খারাপ দেখায় কেন?
উত্তর: পাসপোর্টের ছবি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়, পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট ক্যামেরা, আলো, ফ্রেম ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ার কারণে এটি সাধারণ স্টুডিও ছবির মতো নাও দেখাতে পারে।
প্রশ্ন: ই-পাসপোর্টের জন্য নিজের ছবি নিয়ে যেতে হয় কি?
উত্তর: সাধারণ ই-পাসপোর্ট আবেদনে ফরমে আলাদা ছবি সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের সময় ছবি নেওয়া হয়। তবে ৬ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে ৩R সাইজের ল্যাব-প্রিন্ট রঙিন ছবি প্রয়োজন হতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছরের ই-পাসপোর্টের ফি কত?
উত্তর: বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ Regular ৪,০২৫ টাকা, Express ৬,৩২৫ টাকা এবং Super Express ৮,৬২৫ টাকা।
প্রশ্ন: ১০ বছরের ই-পাসপোর্ট সবাই নিতে পারেন কি?
উত্তর: বয়স ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ নির্ধারিত হয়। ১৮ বছরের নিচের আবেদনকারীদের ই-পাসপোর্ট ৫ বছর মেয়াদি ও ৪৮ পৃষ্ঠার।
প্রশ্ন: পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করতে হবে?
উত্তর: হারানো ই-পাসপোর্টের রি-ইস্যু আবেদনের ক্ষেত্রে মূল জিডি দাখিল করতে হয় বলে বর্তমান নাগরিক সনদে উল্লেখ রয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া: ১১ গোলের ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- চলছে বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৮টি দেশের টাকার মান
- চলছে আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ আজ, লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ, কখন, কোথায় কীভাবে দেখবেন লাইভ
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ, লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন LIVE
- বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ আজ, কখন ও কোথায় দেখবেন লাইভ
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ আজ, লাইভ দেখার সহজ উপায়
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান সেমিফাইনাল, কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আজকের সৌদি রিয়াল রেট (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)