ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

৬ কোটি থেকে ৩০ কোটি, সালাহউদ্দিনের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৫:২১:৪৮
৬ কোটি থেকে ৩০ কোটি, সালাহউদ্দিনের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

২০০৮ সালে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ৩০ কোটি টাকা—সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের সম্পদের এই পরিবর্তনের হিসাব সামনে এনে সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, আয়, বিনিয়োগ, গুলশানের সম্পত্তি, সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর বৈধতা—এসব বিষয়ও রাষ্ট্রীয়ভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে হাসনাত এই প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর এই পোস্টের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৫ সালের আয়ের সঙ্গে সম্পদের হিসাব মিলবে কীভাবে

হাসনাতের উত্থাপিত প্রশ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সালাহউদ্দিন আহমদের বর্তমান আয় ও সম্পদের পরিমাণ ঘিরে।

২০২৫ সালের নির্বাচনী হলফনামা-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদের বার্ষিক আয় ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। এই আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে জমি বিক্রি থেকে মূলধনী আয়, কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানি, কৃষি, ব্যবসা এবং সম্পত্তির ভাড়া।

অন্যদিকে হাসনাতের পোস্টে নির্বাচনী হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের সম্মিলিত সম্পদের যে হিসাব তুলে ধরা হয়েছে, তাতে ২০০৮ সালে পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে তা প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৩০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

এই অঙ্কগুলো সামনে রেখেই সম্পদের উৎস ও বৃদ্ধির হিসাব স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন হাসনাত। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও তাঁর উত্থাপিত ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৫ সালের এই হিসাবের উল্লেখ রয়েছে।

পুরোনো মামলার তথ্য কেন সামনে আনলেন হাসনাত

বর্তমান সম্পদের হিসাবের পাশাপাশি সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুটি দুর্নীতি মামলার কথাও নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন হাসনাত।

তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০০৭ সালে এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় ২০০৮ সালে বিশেষ আদালত সালাহউদ্দিন আহমদকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানা করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘুষ হিসেবে নেওয়া অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন হাসনাত।

আরেকটি মামলার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ২০০৮ সালে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা ওই মামলায় সালাহউদ্দিন আহমদের ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল। সেখানে চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ নিয়ে অভিযোগ ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে পুরোনো মামলার এসব তথ্য বর্তমান সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে না। হাসনাত এগুলোকে বর্তমান সম্পদ ও তার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রেক্ষাপট হিসেবে সামনে এনেছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনেও তাঁর বক্তব্যকে দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

সরকারি চাকরি থেকে রাজনীতিতে আসার পর সম্পদ বৃদ্ধির প্রশ্ন

সালাহউদ্দিন আহমদের কর্মজীবনের প্রসঙ্গও হাসনাতের বক্তব্যে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সালাহউদ্দিন আহমদ আগে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন।

হাসনাতের প্রশ্ন, সরকারি চাকরি থেকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর সম্পদের যে পরিবর্তন হয়েছে, তার পেছনে আয়ের উৎস কী এবং সেই বৃদ্ধির স্বচ্ছ হিসাব কোথায়। সরকারি চাকরির সময়ের আয় এবং পরবর্তী সময়ের সম্পদের পরিমাণ—দুই পর্যায়ের মধ্যে একটি যাচাইযোগ্য হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গুলশানের সম্পদ, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ নিয়েও প্রশ্ন

সালাহউদ্দিন আহমদের গুলশানের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত। একই সঙ্গে সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় কীভাবে হয়েছে এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।

তাঁর মতে, ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এখানেও হাসনাত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বদলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের প্রসঙ্গও টানলেন হাসনাত

নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে মন্ত্রী-এমপিদের আর্থিক হিসাব যাচাইয়ের প্রসঙ্গ সামনে আনেন হাসনাত। এ সময় তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

হাসনাতের বক্তব্য হলো, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে যদি কোনো ব্যক্তির আর্থিক হিসাব যাচাই করা হয়, তাহলে মন্ত্রী-এমপিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই হওয়া উচিত। শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, তাঁদের নিকটাত্মীয়দের আর্থিক হিসাবও নিয়মিত যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও তাঁর ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের দাবির উল্লেখ রয়েছে।

স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবিই মূল বক্তব্য

হাসনাত আব্দুল্লাহর পুরো বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব পাওয়ার দাবি। ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের সম্পদের পরিমাণ, ২০২৫ সালের আয়, পুরোনো দুর্নীতি মামলার তথ্য এবং গুলশানের সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে এনে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এসব প্রশ্ন ও অভিযোগ হাসনাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের অংশ। সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস নিয়ে নতুন কোনো তদন্তের সিদ্ধান্ত বা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পরবর্তী অবস্থান আরও পরিষ্কার হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ