ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্ধান মিলেছে সেই স্থানের, যেখানে ইবাদত করেন ৭০ হাজার ফেরেশতা

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ২০:৪৮:৫৩
সন্ধান মিলেছে সেই স্থানের, যেখানে ইবাদত করেন ৭০ হাজার ফেরেশতা

প্রতিদিন ৭০ হাজার নতুন ফেরেশতা প্রবেশ করেন একটি পবিত্র ঘরে। সেখানে আল্লাহর ইবাদত করার পর তারা আর কখনো সেই স্থানে ফিরে আসেন না। আসমানের সপ্তম স্তরে অবস্থিত এই ঘরের নাম বায়তুল মামুর। মিরাজের রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে এই স্থান দেখানো হয়েছিল বলে সহিহ হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়।

বায়তুল মামুরের এই ঘটনা অদৃশ্য জগতের এমন একটি বিষয়, যার মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টি জগতের ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনেও বায়তুল মামুরের শপথ করা হয়েছে।

মিরাজের রাতে কী দেখেছিলেন মহানবী (সা.)

বায়তুল মামুরের উল্লেখযোগ্য বর্ণনাটি এসেছে মহানবী (সা.)-এর মিরাজের ঘটনার সূত্রে। মিরাজের রাতে তিনি যখন সপ্তম আকাশে পৌঁছান, তখন তার সামনে বায়তুল মামুর উপস্থিত করা হয়।

স্থানটি সম্পর্কে জানতে মহানবী (সা.) হযরত জিবরাঈল (আ.)-কে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি জানান, এটি বায়তুল মামুর।

এরপর বায়তুল মামুর সম্পর্কে এমন একটি তথ্য জানানো হয়, যা এর বিশেষত্বকে আরও স্পষ্ট করে। হযরত জিবরাঈল (আ.) বলেন, প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা সেখানে প্রবেশ করেন। ইবাদত শেষ করে তারা বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ওই স্থানে ফিরে আসেন না।

অর্থাৎ সেখানে প্রতিদিন যে ৭০ হাজার ফেরেশতা ইবাদত করেন, পরদিন তাদের জায়গায় অন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন। এভাবেই প্রতিদিন নতুন ফেরেশতাদের আগমন ঘটে বায়তুল মামুরে।

এই বর্ণনা সহিহ বুখারির ৩২০৭ নম্বর হাদিসে পাওয়া যায়।

নামের মধ্যেই রয়েছে বায়তুল মামুরের পরিচয়

‘বায়তুল মামুর’ নামটির অর্থের মধ্যেও এই স্থানের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। আরবি ‘বায়ত’ শব্দের অর্থ ঘর। আর ‘মামুর’ বলতে বোঝায় আবাদ, পূর্ণ বা জনবহুল।

অর্থাৎ নামের অর্থের দিক থেকেও এটি এমন একটি ঘর, যেখানে নিয়মিত আগমন ঘটে এবং যেখানে ইবাদতকারীদের উপস্থিতি রয়েছে। হাদিসের বর্ণনায় সেই ইবাদতকারীরা হলেন ফেরেশতারা।

কোরআনে বায়তুল মামুরের শপথ

শুধু হাদিসেই নয়, পবিত্র কোরআনেও বায়তুল মামুরের উল্লেখ রয়েছে। সূরা আত-তূরে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শপথ বায়তুল মামুরের।’

এই উল্লেখ বায়তুল মামুরের গুরুত্বের বিষয়টি সামনে আনে। তবে এর অবস্থান ও অদৃশ্য জগতের বাস্তবতা সম্পর্কে কোরআন ও সহিহ হাদিসে যতটুকু তথ্য রয়েছে, তার বাইরে গিয়ে কোনো বিষয় নিশ্চিতভাবে বলা উচিত নয়।

কাবা শরিফের সঙ্গে কি মিল রয়েছে?

বায়তুল মামুরকে ঘিরে মুফাসসিরদের ব্যাখ্যায় পৃথিবীর কাবা শরিফের প্রসঙ্গও আসে। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবীতে মুসলমানদের ইবাদতের অন্যতম কেন্দ্র যেমন পবিত্র কাবা, তেমনি আসমানের ফেরেশতাদের ইবাদতের সঙ্গে বায়তুল মামুরের সম্পর্ক রয়েছে।

মিরাজের ঘটনা সম্পর্কিত সহিহ হাদিসে আরও জানা যায়, মহানবী (সা.) বায়তুল মামুরের কাছে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি। কাবা শরিফ ও বায়তুল মামুরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অবস্থানগত সম্পর্ক কী—এ নিয়ে মুফাসসিরদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই অনুমান বা ব্যাখ্যাকে কোরআন ও সহিহ হাদিসের নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

বায়তুল মামুরের ঘটনা কী বার্তা দেয়

প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতার নতুন করে বায়তুল মামুরে প্রবেশ এবং তাদের আর ফিরে না আসার বর্ণনা আসমানের জগতের ব্যাপকতার একটি বিস্ময়কর দিক তুলে ধরে।

মানুষের জ্ঞান যে সীমিত এবং আল্লাহর সৃষ্টি ও ক্ষমতার পরিধি যে সেই সীমার অনেক ঊর্ধ্বে—বায়তুল মামুরের বর্ণনা সেই বাস্তবতাই স্মরণ করিয়ে দেয়। অদৃশ্য জগতের বিষয়ে তাই কোরআন ও সহিহ হাদিসে যে তথ্য এসেছে, বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও সেটুকুর ওপরই নির্ভর করা উচিত।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: