ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে আসার পথ খুলল কোম্পানির জন্য

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২০:৪০:২৫
আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে আসার পথ খুলল কোম্পানির জন্য

একদিকে আইপিও, অন্যদিকে সরাসরি তালিকাভুক্তি—শেয়ারবাজারে কোম্পানির প্রবেশের ক্ষেত্রে এবার বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে। স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর ২০২০ সালে যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সেটি প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে পারলে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানির জন্য আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হলো।

সরাসরি তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এ পদ্ধতির জন্য ইতোমধ্যে বিধিমালার খসড়াও তৈরি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সরকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সেই উদ্যোগ মিলিয়ে এখন সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াটি নতুন করে সামনে এসেছে।

৫ অক্টোবরের চিঠিতে সরকারের সিদ্ধান্ত

সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের শেয়ারবাজার-১ শাখা।

চিঠিতে শেয়ারবাজার-১ শাখার উপসচিব মো. মামুন রশীদ স্বাক্ষর করেছেন। এতে সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিএসইসির গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে। চিঠিতে সরকারের এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

কী বদলাবে কোম্পানির জন্য

এতদিন সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই বাধা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে পারলে কোম্পানিগুলোর সামনে শেয়ারবাজারে প্রবেশের আরেকটি পদ্ধতি থাকবে।

এই পদ্ধতির মূল পার্থক্য হলো, কোম্পানিকে নতুন করে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ইস্যু করতে হবে না। সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানায় থাকা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে।

অন্যদিকে প্রচলিত আইপিও পদ্ধতিতে কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করে তা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে শেয়ারবাজারে আসে।

ফলে ইতোমধ্যে ব্যবসায়িকভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার থাকা কোম্পানিগুলোর জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তি একটি বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে।

পুরোনো নিষেধাজ্ঞার অবসান

সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি স্মারকের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

প্রায় সেই ব্যবস্থারই অবসান ঘটল ৫ অক্টোবরের চিঠিতে। অর্থাৎ, সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগে আরোপ করা সরকারি বাধাটি আর থাকছে না।

তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোন কোম্পানি কী যোগ্যতা পূরণ করবে, সে বিষয়ে সরকারের চিঠিতে বিস্তারিত কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি।

এখন গুরুত্বপূর্ণ বিএসইসির বিধিমালা

সরকারি সিদ্ধান্তের পর সরাসরি তালিকাভুক্তির বাস্তব কাঠামো নির্ধারণে বিএসইসির বিধিমালার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ ৫ অক্টোবরের চিঠিতে মূলত ২০২০ সালে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাই জানানো হয়েছে। যোগ্যতা ও আবেদন থেকে তালিকাভুক্তি পর্যন্ত বিস্তারিত প্রক্রিয়া সেখানে উল্লেখ নেই।

এদিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য বিএসইসি এরই মধ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আইপিও ছাড়াই কোম্পানিকে সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

১০ থেকে ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব

বিএসইসির অনুমোদিত খসড়া বিধিমালায় সরাসরি তালিকাভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির বিষয়টি রাখা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ারের ১০ থেকে ২০ শতাংশ বিক্রি করে কোম্পানিকে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্ত করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে বিএসইসির ওয়েবসাইটেও ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খসড়াটির ওপর মতামত নেওয়ার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছিল।

একই পথে এগোচ্ছে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা

সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়টি এখন দুটি সমান্তরাল উদ্যোগের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে সরকার ২০২০ সালে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, অন্যদিকে বিএসইসি সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য বিধিমালার কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়েছে।

ফলে সামনে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আইপিওর পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্তির ব্যবস্থাও একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানিগুলোকে ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে ৫ অক্টোবরের সরকারি চিঠিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। এসব বিষয়ে বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোই এখন মূল ভূমিকা রাখবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: