জমি কেনার আগে খতিয়ান যাচাই করবেন যেভাবে, জানুন পুরো নিয়ম
জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো খতিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড যাচাই করা। বিক্রেতা যে খতিয়ান দেখাচ্ছেন, সেখানে তাঁর নাম আছে কি না—এটুকু দেখলেই যাচাই শেষ হয় না। খতিয়ানের দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, মৌজা, মালিকের হিস্যা, সর্বশেষ নামজারি, দলিলের তথ্য এবং ভূমি উন্নয়ন করের রেকর্ডও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কারণ জমির মালিকানা পরিবর্তনের সঙ্গে রেকর্ড হালনাগাদ করার বিষয়টি জড়িত। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রি দলিল বা উত্তরাধিকারের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন হলে খতিয়ানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং রেকর্ড হালনাগাদ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই জমি কেনার আগে কয়েকটি ধাপে খতিয়ান যাচাই করলে ভুল জমি কেনা, একই জমি নিয়ে বিরোধ বা মালিকানা নিয়ে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
খতিয়ান আসলে কী এবং কেন যাচাই করবেন
খতিয়ান হলো ভূমির রেকর্ড অব রাইটস বা স্বত্বলিপি, যেখানে জমির মালিক বা মালিকদের নাম, মৌজা, দাগ নম্বর, দাগে জমির পরিমাণ এবং মালিকের প্রাপ্য অংশসহ বিভিন্ন তথ্য থাকে। সরকারি ভূমি সেবা ব্যবস্থাতেও এসব তথ্য খতিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌজা নকশায় প্রতিটি ভূমিখণ্ডকে আলাদা দাগ নম্বরের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয় এবং নকশা ও খতিয়ানের মাধ্যমে ভূমির স্বত্বসংক্রান্ত তথ্য রেকর্ড করা হয়।
এ কারণে জমি কেনার আগে শুধু কাগজ হাতে নেওয়া নয়, কাগজের তথ্য বাস্তব জমি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
জমি কেনার আগে খতিয়ানে যে তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখবেন
প্রথমেই বিক্রেতার কাছ থেকে জমির খতিয়ান ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিন। এরপর নিচের তথ্যগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
| যে তথ্য যাচাই করবেন | কী মিলিয়ে দেখবেন |
|---|---|
| মালিকের নাম | বিক্রেতার নামের সঙ্গে রেকর্ডের নাম মিলছে কি না |
| পিতা/স্বামীর নাম | পরিচয় ও মালিকানা শনাক্ত করতে তথ্য মিলছে কি না |
| খতিয়ান নম্বর | প্রদত্ত খতিয়ান সরকারি রেকর্ডে পাওয়া যাচ্ছে কি না |
| দাগ নম্বর | বিক্রির জমির দাগের সঙ্গে খতিয়ানের দাগ মিলছে কি না |
| জমির পরিমাণ | খতিয়ানে থাকা পরিমাণের সঙ্গে বিক্রিত জমির পরিমাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না |
| মালিকের হিস্যা | একাধিক মালিক থাকলে বিক্রেতার অংশ কতটুকু |
| মৌজা ও জে.এল. নম্বর | জমির অবস্থানের সঙ্গে রেকর্ডের তথ্য মেলে কি না |
| নামজারি খতিয়ান | পূর্বের মালিক থেকে বর্তমান মালিকের নামে রেকর্ড পরিবর্তন হয়েছে কি না |
| ভূমি উন্নয়ন কর | সংশ্লিষ্ট জমির কর ও দাখিলার তথ্য |
| দলিল | মালিকানা কীভাবে বর্তমান বিক্রেতার কাছে এসেছে |
খতিয়ানে মালিকের নাম, মৌজা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মালিকের অংশের মতো তথ্য থাকার বিষয়টি সরকারি মিউটেশন নির্দেশিকাতেও উল্লেখ রয়েছে।
১. খতিয়ান নম্বর দিয়ে সরকারি রেকর্ডে খুঁজে দেখুন
জমির খতিয়ান যাচাইয়ের প্রথম ধাপ হলো সরকারি রেকর্ডে তথ্য খুঁজে দেখা। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় খতিয়ান অনুসন্ধানের সুবিধা রয়েছে। সেখানে উপজেলা/থানা, খতিয়ানের ধরন ও মৌজা নির্বাচন করে খতিয়ান নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়। দাগ নম্বর ও মালিকের নাম দিয়েও অধিকতর অনুসন্ধানের ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থাৎ বিক্রেতা যে খতিয়ান নম্বর দিচ্ছেন, সেটি শুধু কাগজে আছে কি না দেখবেন না; সরকারি রেকর্ডেও একই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না যাচাই করুন।
২. খতিয়ানের সঙ্গে দাগ নম্বর মিলিয়ে নিন
জমি কেনার ক্ষেত্রে দাগ নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই মৌজায় অনেক খতিয়ান ও অনেক জমি থাকতে পারে। তাই বিক্রেতা যে জমিটি দেখাচ্ছেন, সেটি আসলে কোন দাগে অবস্থিত এবং ওই দাগটি খতিয়ানে কীভাবে উল্লেখ আছে—তা মিলিয়ে দেখা দরকার।
দলিল, খতিয়ান ও মৌজা নকশায় থাকা দাগ নম্বরের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত টাকা দেওয়া বা চূড়ান্তভাবে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
৩. জমির পরিমাণ ঠিক আছে কি না দেখুন
ধরা যাক, বিক্রেতা বলছেন তিনি ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করবেন। কিন্তু খতিয়ানে তাঁর সংশ্লিষ্ট দাগে মোট জমি রয়েছে ৬ শতাংশ। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বড় দাগের মধ্যে একাধিক মালিকের অংশ থাকতে পারে।
তাই শুধু মোট দাগের জমির পরিমাণ দেখলেই হবে না। বিক্রেতার মালিকানাধীন বা প্রাপ্য অংশ কত এবং তিনি আসলে কতটুকু জমি বিক্রি করতে পারবেন—তা হিসাব করে দেখতে হবে।
সরকারি মিউটেশন নির্দেশিকাতেও আবেদনকৃত জমির পরিমাণ এবং খতিয়ানে সংশ্লিষ্ট দাগে জমির পরিমাণ আলাদাভাবে উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে।
৪. সর্বশেষ খতিয়ান কোনটি, সেটি নিশ্চিত করুন
একটি জমির ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ের জরিপের রেকর্ড থাকতে পারে। তাই বিক্রেতা পুরোনো খতিয়ান দেখালেই সেটিকে সর্বশেষ রেকর্ড ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কোন জরিপের খতিয়ান বর্তমানে প্রাসঙ্গিক, সর্বশেষ রেকর্ডে কার নাম আছে এবং পরবর্তী সময়ে নামজারি বা অন্য কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব যাচাই করতে হবে।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রকাশনার পর সংশ্লিষ্ট রেকর্ড জেলা প্রশাসকের দপ্তরে হস্তান্তর করা হয় এবং রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি বা পর্চা সংগ্রহ করা যায়।
৫. বিক্রেতার নামে নামজারি হয়েছে কি না দেখুন
শুধু পুরোনো খতিয়ানে বিক্রেতার পূর্বপুরুষের নাম থাকলেই বর্তমান বিক্রেতার মালিকানা ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়। জমিটি যদি দলিলের মাধ্যমে বিক্রেতার কাছে এসে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নামজারি হয়েছে কি না এবং বর্তমান রেকর্ডে তার প্রতিফলন আছে কি না পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাধিকার বা রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের পর রেকর্ডে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয় এবং নামজারি রেকর্ড হালনাগাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
নামজারি না থাকলে কেন নেই, তার কারণ ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র পরীক্ষা করা উচিত।
৬. বিক্রেতা কীভাবে জমির মালিক হয়েছেন, সেই দলিল দেখুন
জমিটি বিক্রেতার কাছে কীভাবে এসেছে, সেটি খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজে কিনে থাকলে তাঁর ক্রয় দলিল দেখতে হবে। উত্তরাধিকারসূত্রে পেলে উত্তরাধিকারসংক্রান্ত কাগজপত্র ও আগের মালিকের রেকর্ড দেখতে হবে।
বিশেষ করে বায়া দলিল বা আগের মালিকানা-সংক্রান্ত দলিলের ধারাবাহিকতা যাচাই করা দরকার। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নামজারির ক্ষেত্রে খতিয়ানের কপি, মূল দলিল, বায়া/পিট দলিল, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং প্রয়োজনে আদালতের রায় বা আদেশের কপি ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
৭. রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্যের সঙ্গে খতিয়ান মিলিয়ে দেখুন
জমি বিক্রির ক্ষেত্রে খতিয়ান ও দলিলের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। বিক্রেতার নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, মৌজা, সীমানা এবং মালিকানার বিবরণ মিলিয়ে দেখা উচিত।
বাংলাদেশের Registration Act, 1908-এর ৫২এ ধারায় স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ খতিয়ানসহ বিভিন্ন তথ্য দলিলে থাকা ও সংযুক্ত থাকার বিধান রয়েছে। একই আইনে জমির প্রকৃতি, মূল্য, নকশা ও সীমানা এবং গত ২৫ বছরের মালিকানার সংক্ষিপ্ত বিবরণের মতো বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই জমি কেনার আগে শুধু বর্তমান বিক্রেতার দলিল নয়, মালিকানার আগের ধারাবাহিকতাও যাচাই করা উচিত।
৮. ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা পরীক্ষা করুন
জমির খতিয়ান যাচাইয়ের পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন করের তথ্যও দেখা দরকার। বিক্রেতার কাছে সংশ্লিষ্ট জমির সাম্প্রতিক ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা চাইতে পারেন এবং দাখিলার তথ্য জমির খতিয়ান ও হোল্ডিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।
সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থায় খতিয়ানের তথ্য ব্যবহার করে ভূমি উন্নয়ন করের সেবা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া হয়েছে মানেই মালিকানা নিয়ে সব ধরনের সমস্যা নেই—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। এটি অন্যান্য কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
৯. মৌজা ম্যাপ বা নকশার সঙ্গে জমি মিলিয়ে নিন
কাগজে দাগ নম্বর ঠিক থাকলেও বাস্তবে আপনি যে জমিটি কিনছেন সেটি একই দাগের জমি কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
এ জন্য মৌজা ম্যাপ বা সংশ্লিষ্ট নকশায় দাগটি চিহ্নিত করে জমির অবস্থান, চার সীমানা এবং বাস্তব জমির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নাগরিক সেবা ব্যবস্থায় মৌজা ম্যাপ/চিটাসহ ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশেষ করে জমির আকার, অবস্থান বা সীমানা নিয়ে সন্দেহ থাকলে অভিজ্ঞ আমিন/সার্ভেয়ার দিয়ে সরেজমিনে মাপজোক করানো নিরাপদ।
১০. সার্টিফাইড খতিয়ান সংগ্রহ করুন
শুধু বিক্রেতার দেওয়া ফটোকপি বা মোবাইলে দেখানো কাগজের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি উৎস থেকে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করা ভালো।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চূড়ান্ত প্রকাশনা শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রেকর্ড জেলা প্রশাসকের দপ্তরে হস্তান্তর করা হয় এবং জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি বা পর্চা সংগ্রহ করা যায়।
১১. খতিয়ানে একাধিক মালিক থাকলে আরও সতর্ক হোন
একটি খতিয়ানে একাধিক মালিক থাকলে বিক্রেতার অংশ কতটুকু, তিনি এককভাবে সেই অংশ বিক্রি করতে পারবেন কি না এবং অন্য অংশীদারদের অধিকার কী—এসব বিষয় পরিষ্কার করতে হবে।
বিশেষ করে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যৌথ সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর হিস্যা ও সংশ্লিষ্ট নামজারি যাচাই না করে লেনদেনে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
১২. মামলা, অধিগ্রহণ বা অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না খোঁজ নিন
খতিয়ান ঠিক থাকলেও জমি নিয়ে আদালতে মামলা, সরকারি অধিগ্রহণ, নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো বিরোধ থাকতে পারে। তাই শুধু খতিয়ান দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, রেকর্ড এবং আদালতসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা উচিত।
জমির কাগজপত্রে কোনো অসঙ্গতি থাকলে বা মালিকানা জটিল মনে হলে জমি কেনার আগে অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
জমি কেনার আগে এই তথ্যগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে দেখুন
| যাচাইয়ের বিষয় | কী করবেন |
|---|---|
| খতিয়ান | সরকারি রেকর্ডে খতিয়ান নম্বর খুঁজে দেখুন |
| মালিকের নাম | বিক্রেতার পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন |
| দাগ নম্বর | খতিয়ান, দলিল ও নকশায় একই কি না দেখুন |
| জমির পরিমাণ | বিক্রেতার প্রকৃত মালিকানাধীন অংশ হিসাব করুন |
| নামজারি | সর্বশেষ মালিকের নামে রেকর্ড হালনাগাদ হয়েছে কি না দেখুন |
| মূল দলিল | বিক্রেতার মালিকানার ভিত্তি যাচাই করুন |
| বায়া দলিল | আগের মালিকানার ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করুন |
| ভূমি উন্নয়ন কর | দাখিলা ও সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য মিলিয়ে নিন |
| মৌজা ম্যাপ | বাস্তব জমির অবস্থান ও সীমানা মিলিয়ে নিন |
| সার্টিফাইড কপি | প্রয়োজনীয় রেকর্ডের সরকারি কপি সংগ্রহ করুন |
| মামলা বা বিরোধ | জমি নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না খোঁজ নিন |
অনলাইনে খতিয়ান যাচাইয়ের সহজ পদ্ধতি
বর্তমানে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের খতিয়ান অনুসন্ধান ব্যবস্থায় উপজেলা/থানা, খতিয়ানের ধরন ও মৌজা নির্বাচন করে খতিয়ান খোঁজার সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজন হলে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম ব্যবহার করেও অনুসন্ধান করা যায়।
অন্যদিকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি তথ্য বাতায়নে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, জমাভাগ, জমা একত্রিকরণ এবং মৌজা ম্যাপসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা অনলাইনে পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে অনলাইনে তথ্য পাওয়া গেলেই পুরো জমির মালিকানা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনলাইন তথ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সার্টিফাইড রেকর্ড, দলিল, নামজারি ও বাস্তব জমির অবস্থান মিলিয়ে দেখা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
জমি কেনার ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—খতিয়ানে নাম থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু খতিয়ান দেখেই জমির মালিকানা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
কারণ মালিকানা যাচাই একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সর্বশেষ খতিয়ান, নামজারি, রেজিস্ট্রি দলিল, পূর্বের দলিল, ভূমি উন্নয়ন কর, মৌজা ম্যাপ এবং প্রয়োজনে আদালতসংক্রান্ত তথ্য—সব মিলিয়ে দেখতে হবে।
বিশেষ করে বিক্রেতা যদি বলেন, ‘খতিয়ানে আমার নাম আছে, তাই আর কোনো কাগজ দেখার দরকার নেই’, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। জমি কেনার আগে কাগজের প্রতিটি তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলছে কি না সেটিই মূল বিষয়।
জমি কেনার আগে এক নজরে পুরো যাচাইয়ের নিয়ম
সহজভাবে বললে, জমি কেনার আগে কাজটি এই ক্রমে করা যায়—
খতিয়ান নম্বর সংগ্রহ → সরকারি রেকর্ডে অনুসন্ধান → মালিকের নাম যাচাই → দাগ ও জমির পরিমাণ মিলানো → সর্বশেষ নামজারি দেখা → মূল ও বায়া দলিল যাচাই → ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা পরীক্ষা → মৌজা ম্যাপ ও বাস্তব জমি মিলানো → প্রয়োজন হলে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ → মামলা বা অন্য কোনো জটিলতা যাচাই → সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী ক্রয়-প্রক্রিয়ায় যাওয়া।
এভাবে যাচাই করলে শুধু ভুয়া খতিয়ান বা ভুল দাগের ঝুঁকি নয়, মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতের অনেক জটিলতাও আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভূমি ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয় আইনগতভাবে সংবেদনশীল। কোনো কাগজে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে টাকা পরিশোধ বা চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের রেকর্ড এবং প্রয়োজন হলে আইনজীবীর মাধ্যমে দলিল ও মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা নিরাপদ।
FAQ
প্রশ্ন: জমি কেনার আগে শুধু খতিয়ান দেখলেই কি হবে?
উত্তর: না। খতিয়ানের পাশাপাশি দলিল, নামজারি, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, ভূমি উন্নয়ন কর, মৌজা ম্যাপ এবং মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা উচিত।
প্রশ্ন: অনলাইনে খতিয়ান যাচাই করা যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ। সরকারি ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থায় খতিয়ান অনুসন্ধানের সুবিধা রয়েছে। খতিয়ান নম্বর ছাড়াও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়।
প্রশ্ন: খতিয়ানে বিক্রেতার নাম থাকলেই কি তিনি জমি বিক্রি করতে পারবেন?
উত্তর: শুধু নাম থাকাই যথেষ্ট নয়। বিক্রেতার মালিকানার ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট দলিল, নামজারি, জমির হিস্যা এবং অন্য কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না—এসবও যাচাই করতে হবে।
প্রশ্ন: সার্টিফাইড খতিয়ান কোথা থেকে পাওয়া যায়?
উত্তর: চূড়ান্ত রেকর্ড হস্তান্তরের পর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি বা পর্চা সংগ্রহ করা যায় বলে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর জানিয়েছে।
প্রশ্ন: জমি কেনার আগে দাগ নম্বর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: দাগ নম্বরের মাধ্যমে মৌজা নকশায় নির্দিষ্ট ভূমিখণ্ড শনাক্ত করা হয়। তাই খতিয়ান, দলিল, নকশা এবং বাস্তব জমির দাগ নম্বর মিলিয়ে দেখা জমিটি সঠিকভাবে শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি, বাজারমূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা
- ব্রাজিলের পরের দুই ম্যাচ কবে, জানুন সময়সূচি ও প্রতিপক্ষ
- ডোমিনেজ স্টিলে মালিকানা বদল, এবার পর্ষদেও বড় রদবদল
- ব্রাজিল বনাম ভারত: শেষ পর্যন্ত কী হলো ম্যাচে, জানুন ফলাফল
- আয়-সম্পদে বড় উত্থান অ্যাপেক্স ফুডসের, ডিভিডেন্ড কেন একই?
- আজকের টাকার রেট কত: বাড়লো ২০টি দেশের টাকার মান
- আজ ১০/০৪/২০২৬ তারিখ: ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সুখবর