ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের সেবা বন্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংক যা বলল

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১১:৩০:১০
একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের সেবা বন্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংক যা বলল

একসঙ্গে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও পিওএস সেবা কয়েক দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও এ বিষয়ে আগে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। গ্রাহকদেরও দেওয়া হয়নি কোনো আগাম সতর্কতা। কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর এসব সেবা রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, এই কারিগরি কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টায়। এর মধ্যে কিউক্যাশের এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম), কার্ড ও পিওএস ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকেরা।

প্রযুক্তিগত কাজের কারণে সাময়িক অচলাবস্থা

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কিউক্যাশ নেটওয়ার্ককে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি সিস্টেম মাইগ্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ চলছে। সেই কারণেই নেটওয়ার্কটির আওতায় থাকা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি অন্য জায়গায়। এত বড় পরিসরে—একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কার্ড ও লেনদেনসেবা বন্ধ করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। গ্রাহকদের কাছেও আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা পৌঁছানো হয়নি।

এ কারণেই পুরো বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘আগে জানানো প্রয়োজন ছিল’, বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার প্রয়োজনে সিস্টেম মাইগ্রেশনের মতো কারিগরি কার্যক্রম প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এমন কার্যক্রমের পরিধি যখন এত বড়, তখন সেটি শুরুর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রয়োজন ছিল।

একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও আগেভাগে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরিফ হোসেন খান জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

অর্থাৎ, সিস্টেম মাইগ্রেশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি নেই; বরং ৩০টি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা একযোগে বন্ধ রাখার আগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সেবা বন্ধের পর গ্রাহকদের জানায় কয়েকটি ব্যাংক

কিউক্যাশের সেবা বন্ধ হওয়ার পর কয়েকটি ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়টি জানিয়ে বলা হয়েছে, ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাধীন নির্দিষ্ট কার্ড ও লেনদেনসেবা ব্যবহার করা যাবে না।

তবে এসব বার্তা সেবা বন্ধ হওয়ার পর পাঠানো হয়েছে। ফলে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ না থাকায় কার্ড বা কিউক্যাশভিত্তিক সেবা ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক গ্রাহক হঠাৎ সমস্যার মুখে পড়েছেন।

সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ নয়

কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের নির্দিষ্ট সেবা অচল থাকলেও ব্যাংকগুলোর অন্যান্য লেনদেন ব্যবস্থা চালু রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো জানিয়েছে।

গ্রাহকেরা অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস ব্যবহার করতে পারছেন। একই সঙ্গে বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগও রয়েছে। বিকল্প হিসেবে বিকাশ, নগদ, রকেট, ট্যাপ ও উপায়ের মতো মোবাইল আর্থিক সেবাও ব্যবহার করা যাচ্ছে।

ফলে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল নির্দিষ্ট সেবাগুলো বন্ধ থাকলেও বিকল্প চ্যানেলে অনেক প্রয়োজনীয় লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।

১০ অক্টোবর দুপুরে স্বাভাবিক হওয়ার কথা

ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের মাইগ্রেশন এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি কাজ সম্পন্ন হলেই বন্ধ থাকা সেবাগুলো পুনরায় চালু হবে।

বর্তমান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই সেবা বিঘ্ন ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত থাকার কথা।

তবে কয়েক দিন ধরে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের কার্ড ও এটিএমসেবা বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ভোগান্তির পাশাপাশি বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যতে আগাম তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সেবা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকলে এর প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক লেনদেনের অসুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থার বিষয়টিও জড়িয়ে থাকে।

তাদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ বা সিস্টেম মাইগ্রেশনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং গ্রাহকদের আগে থেকেই জানানো জরুরি। এতে গ্রাহকেরা বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং আকস্মিক ভোগান্তি ও বিভ্রান্তিও কমবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: