ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

টেস্ট ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের আভাস, বাড়তে পারে দল

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৬:২৫:৪১
টেস্ট ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের আভাস, বাড়তে পারে দল

টেস্ট ক্রিকেট পরিচালনার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই প্রতিযোগিতাটির পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে বর্তমান ৯ দলের পরিবর্তে ১২টি দলকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গের বক্তব্য অনুযায়ী, টেস্ট খেলা সব দেশকে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কাঠামো বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে দল বাড়ানোর এই উদ্যোগের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়েছে। গ্রিনবার্গের আশঙ্কা, ব্যয়ের চাপ কমানো না গেলে ভবিষ্যতে কিছু পূর্ণ সদস্য দেশও টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে যেতে পারে।

টেস্ট খেলতে খরচ শুধু ম্যাচ আয়োজনেই নয়

টেস্ট ক্রিকেটের আর্থিক চাপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, সমস্যাটি কেবল একটি ম্যাচ আয়োজনের খরচে সীমাবদ্ধ নয়। একটি দলকে টেস্ট খেলার উপযোগী করে তুলতে যে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো প্রয়োজন, সেখানেও বড় বিনিয়োগ দরকার।

তার মতে, একজন ক্রিকেটারকে টেস্টের জন্য প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় পুরো ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করার সক্ষমতা অনেক দেশের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কারণ হঠাৎ করে ১১ জন খেলোয়াড় তৈরি করে টেস্ট ক্রিকেটে নামানো সম্ভব নয়।

গ্রিনবার্গের ভাষায়, “টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আমি যখন কথাটি বলেছিলাম, তখন সেটি খুব একটা গৃহীত হয়নি। কিন্তু আমি এখনো মনে করি, এটি একটি বাস্তবতা- সময় যত যাচ্ছে, দেশগুলোর জন্য টেস্ট ক্রিকেট খেলা তত কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।”

রাজস্বের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য নিয়েও সতর্কতা

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহীর মতে, আইসিসি থেকে পাওয়া রাজস্বের মাত্রা ভবিষ্যতে একই না থাকলে কিংবা দেশগুলো নিজেদের এফটিপি থেকে পর্যাপ্ত আয় করতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।

তিনি মনে করেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মতো ক্রিকেট বোর্ডগুলোর পক্ষেও বছরের পর বছর আয়ের তুলনায় বেশি ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। তাই শেষ পর্যন্ত প্রতিটি দেশকেই নিজেদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই বাস্তবতার কারণেই টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখার বর্তমান কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

পূর্ণ সদস্যরাও টেস্ট না খেলার পথে যেতে পারে

ব্যয়ের এই চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কিছু পূর্ণ সদস্য দেশও টেস্ট ক্রিকেট খেলবে না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গ্রিনবার্গ।

বিশেষ করে নিজেদের মাঠে প্রতিপক্ষকে আতিথেয়তা দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা যেসব দেশের থাকবে না, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। এমন দেশগুলোকে নিজেদের দেশে টেস্ট ক্রিকেট ধরে রাখতে বিদেশের মাটিতে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

গ্রিনবার্গ বলেন, “এমন একটা সময় আসতে পারে, যেখানে কিছু সদস্য দেশ হয়ত আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবে না। অথবা টেস্ট ক্রিকেটকে নিজেদের দেশে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের ঘরের মাঠের চেয়ে বেশি বিদেশে টেস্ট খেলতে হতে পারে।”

তার মতে, দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিকভাবে সিরিজ আয়োজনের বর্তমান ব্যবস্থাটিও পুনর্বিবেচনা করা দরকার। কারণ এই কাঠামো কিছু দেশকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

এর মধ্যেই ১২ দলের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরিকল্পনা

টেস্ট ক্রিকেটের এই আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে আরও বিস্তৃত করার কথা ভাবছে।

বর্তমান পঞ্চম চক্র শেষ হওয়ার পরের চক্রে ১২ দলের কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন গ্রিনবার্গ। এখন ৯টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে টেস্ট খেলুড়ে প্রতিটি দেশ সুযোগ পাবে।

গ্রিনবার্গ বলেন, “আমি মনে করি, আগামী দুই বছরের জন্য ১২ দলের কাঠামোটিই কার্যকর হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে কেন এই সংখ্যাটি রাখা হচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি। কারণ তারা প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে সুযোগ দিতে চায়।”

নতুন তিন দলকে ঘিরে বাস্তব চ্যালেঞ্জ

১২ দলের পরিকল্পনায় মূলত টেস্ট খেলুড়ে সব দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি সহজ নয়।

আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের টেস্ট অবকাঠামো যেমন সীমিত, তেমনি মানের দিক থেকেও তারা পিছিয়ে রয়েছে। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও ভিন্ন। দলটি এখনো নিজেদের দেশে কোনো টেস্ট খেলেনি এবং ম্যাচ আয়োজনের জন্য তাদের ভাড়া করা ভেন্যুর ওপর নির্ভর করতে হয়।

ফলে নতুন কাঠামোয় দল বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব দেশের টেস্ট ক্রিকেট পরিচালনা ও আয়োজনের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এক ম্যাচেই শেষ হতে পারে কোনো সিরিজ

জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শুধু দলের সংখ্যা নয়, সিরিজের কাঠামোতেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

বর্তমানে দলগুলো প্রতিটি সিরিজে অন্তত এক জোড়া ম্যাচ খেলে। কিন্তু নতুন তিন দলকে প্রতিযোগিতায় যুক্ত করা হলে এক ম্যাচের ‘সিরিজ’ও দেখা যেতে পারে।

অর্থাৎ ১২ দলের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরিকল্পনার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ম্যাচ ও সিরিজ আয়োজনের ধরনেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: