ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

কোচের সঙ্গে কী নিয়ে ভাঙল রোনালদোর আস্থা? জানালেন নিজেই

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৭:০৬:০৫
কোচের সঙ্গে কী নিয়ে ভাঙল রোনালদোর আস্থা? জানালেন নিজেই

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে জানালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দীর্ঘ এক বিবৃতিতে পর্তুগালের অধিনায়ক শুধু নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাই দেননি, কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তাঁর একাধিক আলোচনার কথাও সামনে এনেছেন। রোনালদোর দাবি, বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে ক্যাম্প ছাড়ার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় তাঁকে শাস্তি দেওয়া উচিত এবং সেই শাস্তি কমানোও ঠিক হবে না।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত বক্তব্যে রোনালদো স্পষ্ট করেছেন, তাঁর কাছে সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো সত্য। তাঁর ভাষায়, কঠিন হলেও তিনি সত্য শুনতে চান। জাতীয় দলের হয়ে প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে কোচ কিংবা কর্মকর্তাদের কারিগরি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হওয়াকে তিনি অন্যভাবে দেখছেন।

বিরোধের কেন্দ্রে ছিল একটি ‘প্রতিশ্রুতি’

ঘটনার শুরুটা হয়েছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের পর। রোনালদো জানান, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর পর্তুগালের মানুষের উদ্দেশে একটি বিদায়ী বার্তা প্রস্তুত করে রেখেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের যাত্রা যখন সত্যিই শেষ করবেন, তখন সেটি প্রকাশ করার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার সময় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাঁকে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন। ফেডারেশন চেয়েছিল, রোনালদো জাতীয় দলের সঙ্গে থাকুন।

এরপর নতুন কোচ নির্বাচন নিয়েও তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়। সভাপতি কয়েকজনকে বিবেচনা করছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে হোর্হে জেসুসের নামও ছিল। রোনালদোর মতে, জেসুসই ছিলেন সবচেয়ে উপযুক্ত পছন্দ। ফলে তাঁকে কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হলে তিনি খুশিই হয়েছিলেন।

পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে অবশ্য সেই সম্পর্কেই বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়।

শুরুতে কোচের পরিকল্পনায় রোনালদো ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ

দায়িত্ব নেওয়ার পর জেসুস নিজেই রোনালদোর সঙ্গে দেখা করতে চান। ছুটি শেষে দুজনের বৈঠক হয় সেই ফুটবল শহরে, যেখানে রোনালদোর ক্লাব প্রি-সিজন প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

সেখানে কোচ তাঁকে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান। রোনালদোর দাবি অনুযায়ী, জেসুস তাঁকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তাঁর প্রকল্পে রোনালদোর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ও শেষ ম্যাচে তাঁকে খেলানোর পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচে তিন-চারটি পরিবর্তন করার পরিকল্পনাও ছিল।

কিন্তু এরপর আসে একটি ভিন্ন প্রস্তাব। নরওয়ে ও ডেনমার্কে দলের সঙ্গে ভ্রমণ না করে রোনালদোকে পর্তুগালে থাকার কথা বলা হয়। প্রথম ম্যাচ খেলে তিনি দেশে থাকবেন, পরে দ্রাগাও স্টেডিয়ামের ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন—এমন পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল।

রোনালদো এতে সম্মতি দেননি। তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সুবিধার ছিল না; অধিনায়ক হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত দলের জন্যও সঠিক বার্তা দিত না বলে তাঁর মনে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কোচ তাঁর যুক্তি মেনে নেন।

এই আলোচনায় আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমো কুতিনিও ছিলেন। রোনালদোর বক্তব্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে জাতীয় দলের কোচ তাঁর কাছে জবাবদিহি করতেন। ২০২৫ সালে কোচের ক্লাবে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কুতিনিওর ভূমিকা ছিল।

আলভালাদেতে সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল

প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরুর আগের দিন কোচ আবার রোনালদোর লিসবনের বাসায় যান। সেখানে দীর্ঘ আলোচনা হলেও পরিস্থিতি তখনও স্বাভাবিক ছিল বলে রোনালদো জানিয়েছেন।

এরপর আলভালাদে স্টেডিয়ামে ম্যাচ খেলেন তিনি। বদলি হওয়ার সময়ও কোনো বিরোধ তৈরি করেননি। বরং অধিনায়কের আর্মব্যান্ড নিজ হাতে ব্রুনো ফার্নান্দেজকে পরিয়ে দেন।

সেদিন তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল পর্তুগালের জয়। জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ কয়েকটি মুহূর্ত পার করছেন—এমন কোনো ধারণাও তখন তাঁর মনে আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

কিন্তু পরের ম্যাচেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

৩০ মিনিট খেলার কথা ছিল, কিন্তু মাঠেই নামানো হলো না

নরওয়ে ম্যাচের দিন দুপুরে খাবারের টেবিলে থাকা রোনালদোর কাছে কোচের সহকারী এসে জানান, জেসুস তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর কোচ তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।

বিষয়টি রোনালদোর কাছে কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল। তাঁর পরিকল্পনায় সেদিন ম্যাচ খেলা ছিল না। তিনি শারীরিক পুনরুদ্ধার ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনাতেই মন দিচ্ছিলেন। তবু কোচের অনুরোধ তিনি মেনে নেন।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের আগে থেকেই ওয়ার্ম-আপ শুরু করেন। মিনিটের পর মিনিট কেটে যায়। কিন্তু মাঠে নামার ডাক আর আসে না।

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, এখানেই কোচের দেওয়া কথার সঙ্গে বাস্তবতার বড় পার্থক্য তৈরি হয়।

ম্যাচের পর আরেকটি বিতর্ক

ম্যাচ শেষে রোনালদো সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে মাঠে যাননি। তিনি স্বীকার করেছেন, এটি তাঁর ভুল ছিল।

তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর তিনি শুধু জয়ের বিষয়টি নিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন এবং কিছু সময় একা থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাঠে উপস্থিত পর্তুগিজ সমর্থকদের বিষয়টি তিনি ভুলে যাননি। তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

যাঁরা তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁরা পর্তুগিজ না হলেও তাঁর আচরণে হতাশ হয়ে থাকলে তাঁদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন রোনালদো।

এরপর ৪৮ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈঠকে বসেন রোনালদো, জেসুস ও সিমো কুতিনিও।

বৈঠকে যে সমাধানে পৌঁছেছিল দুই পক্ষ

রোনালদোর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই আলোচনাটি ছিল সরাসরি এবং খোলামেলা। কোনো বিষয় আড়াল করা হয়নি।

তখন একটি নির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো হয়। সিদ্ধান্ত ছিল, কোচ সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির প্রকৃত ব্যাখ্যা দেবেন। তিনি বলবেন, রোনালদো কখনোই শুধু কয়েক মিনিটের জন্য মাঠে নামতে চাননি। তাঁকে নিয়ে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটি কোচের নিজের প্রস্তাব ছিল।

মাঠে না নামিয়ে শুধু ওয়ার্ম-আপ করানোর ঘটনাটিও ভুল ছিল বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করার কথা ছিল। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না—এমন আশ্বাসও দেওয়ার কথা ছিল।

বৈঠকের শেষে কোচ রোনালদোকে আলিঙ্গন করেন। রোনালদোর দাবি, তিনি তখন বিষয়টি মিটে গেছে বলেই ধরে নিয়েছিলেন। ডেনমার্কে না খেললেও দ্রাগাও স্টেডিয়ামে তাঁর খেলার কথা ছিল।

সিমো কুতিনিওর উপস্থিতিতেই এই সমঝোতা হয়েছিল বলে জানান রোনালদো।

এরপরই কেন আবার ভেঙে গেল আস্থা?

এরপর কোচের অনুরোধে জেসুস, কুতিনিও ও তিয়াগো ক্রাভেইরোর মধ্যে ভিডিও বৈঠক হয়। আগের আলোচনার বিষয়গুলো ধরে একটি সংক্ষিপ্ত নথিও তৈরি করা হয়েছিল। রোনালদো সেটি অনুমোদন করে কোচের হাতে তুলে দেন।

কিন্তু পরবর্তী বৈঠকের আচরণ আগের সমঝোতার সঙ্গে মিলেনি—এমন অভিযোগ রোনালদোর।

তাঁর দাবি, সেখানে এমন কিছু কথা বলা হয় এবং এমন আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যায়, যা তিনি অযৌক্তিক মনে করেছেন। আগের দিনের ব্যক্তিগত বৈঠকে কোচ যে মনোভাব দেখিয়েছিলেন, পরের আলোচনায় তার সঙ্গে কোনো মিল ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোনালদোর হাতে আসা নোটে অবশ্য তাঁর সম্পর্কে বেশ কিছু ইতিবাচক কথাও ছিল।

কোচের নোটে রোনালদোকে নিয়ে যা ছিল

নোটে বলা হয়েছিল, জাতীয় দলের চলতি মৌসুমের পরিকল্পনাটি কোচ নিজেই করেছিলেন। রোনালদো জাতীয় দলকে কতটা ভালোবাসেন এবং বিশ্ব ফুটবলে তাঁর অবস্থান কী—এসবও কোচ জানেন বলে সেখানে উল্লেখ ছিল।

এছাড়া টানা ২৪ বছর জাতীয় দলের ওপর রোনালদোর ইতিবাচক প্রভাবের কথাও বলা হয়।

রোনালদোর জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটি তিনি গ্রহণ করেছিলেন এবং কোচের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি—এমন কথাও নোটে ছিল। তাঁকে অনুগত ও পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

নরওয়ে ম্যাচের বিষয়েও ব্যাখ্যা ছিল। সেখানে বলা হয়, শুরুতে ওই ম্যাচ রোনালদোর পরিকল্পনায় ছিল না। তবে প্রথম ম্যাচের পর তিনি শারীরিকভাবে যথেষ্ট সুস্থ হয়েছেন বলে কোচ মনে করেছিলেন। তাই তাঁকে নামানোর প্রয়োজন হতে পারে—এমন সতর্কতাও দেওয়া হয়েছিল এবং রোনালদো তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন।

পেলে-ম্যারাডোনার প্রসঙ্গ কেন এল?

কোচের নোটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি ছিল। পেলে বা ম্যারাডোনার মতো মাপের খেলোয়াড়কে মাঠে না নামিয়ে শুধু ওয়ার্ম-আপ করানো ভুল হয়েছে বলে সেখানে বলা হয়।

কোচের বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি আবার সামনে এলে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতেন না।

একই নোটে রোনালদোকে জাতীয় দলে রাখার ব্যাপারে কোচের আগ্রহের কথাও ছিল। শুধু দলে রাখা নয়, তাঁকে অনেকটাই প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। আল নাসরে রোনালদো যেমন তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন, জাতীয় দলেও সেই আস্থা রয়েছে—এমন কথাও সেখানে ছিল।

সমর্থকদের সামনে রোনালদোর আচরণ নিয়েও ব্যাখ্যা ছিল

রোনালদো কেন সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে যাননি, সেটিও আলোচনার অংশ হয়।

নোটে বলা হয়েছিল, জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলা একজন খেলোয়াড়কে পর্তুগালকে ভালোবাসার বিষয়টি শেখানোর প্রয়োজন নেই। ওই আচরণকে হতাশার মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়েছিল।

তাঁর সমর্থকদের প্রতি দীর্ঘদিনের আচরণও সেখানে তুলে ধরা হয়—অটোগ্রাফ দেওয়া, সেলফি তোলা এবং সমর্থকদের প্রতি স্নেহ দেখানোর বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু রোনালদোর দাবি, এতসব ব্যাখ্যার মধ্যে একটি বিষয় অনুপস্থিত ছিল—কোচ তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, এমন কোনো কথা নোটে ছিল না।

আর এখানেই তাঁর আস্থার সংকট আরও গভীর হয়।

‘দ্বিতীয়বার’ কথা না রাখার অভিযোগ

রোনালদো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এটি ছিল কোচের দ্বিতীয়বার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা।

ফলে আর কোনো আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকেননি তিনি। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

রোনালদোর কাছে বিষয়টি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের। তাঁর বক্তব্য, সত্য যত অস্বস্তিকরই হোক, সরাসরি সত্য বলাই উচিত। ফেডারেশনের সভাপতি ও কোচ যদি তাঁকে বলতেন যে তাঁকে তাঁরা জাতীয় দলে চান না, তাহলেও তিনি সেটি মেনে নিতেন।

তিনি বরং তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিতেন, দলকে নিয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা করবেন এবং বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে বিরোধ তৈরি হতো না।

কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা দুজনই ‘না’ বলেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলে রোনালদোর জায়গা আছে।

প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে কোচের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি

রোনালদো তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে বলেছেন, কোনো কোচ বা জাতীয় দলের কর্মকর্তা কীভাবে দল সাজাবেন, সে বিষয়ে তিনি কখনো হস্তক্ষেপ করেননি।

কারিগরি কিংবা কৌশলগত সিদ্ধান্ত তাঁর পছন্দের হোক বা না হোক, তিনি তা মেনে নিয়েছেন এবং সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছেন।

তবে তাঁর কাছে দেওয়া কথা রাখা না হলে বিষয়টি তাঁর কাছে আলাদা হয়ে যায়। তখন তাঁর মনে হয়, ওই পরিবেশে তাঁর থাকার প্রয়োজন নেই।

ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় সতীর্থদের কাছেও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর মতে, কোচের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেললেও ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া তাঁর করা উচিত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের দায় তিনি একাই নিচ্ছেন।

নিজের জন্য কঠোর শাস্তি চান রোনালদো

ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্তের পর নিজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও কথা বলেছেন রোনালদো।

তাঁর মতে, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে তাঁর কাজের পরিণতি নির্ধারণ করতে হবে। তিনি নিজেই বলেছেন, তাঁকে শাস্তি দেওয়া উচিত এবং সেই শাস্তি কমানোর কোনো কারণ নেই।

কারণ তিনি শুধু একজন খেলোয়াড় নন; দলের অধিনায়কও। তাই তাঁর দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় বেশি।

ব্যক্তিগত মর্যাদা কিংবা অবস্থান যা-ই হোক, নিয়ম সবার জন্য সমান—এই যুক্তিই তুলে ধরেছেন তিনি।

বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে রোনালদোর অবস্থান কী?

রোনালদোর জন্য একটি বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ফেডারেশনও তাঁকে এমন সুযোগ দিতে চায় বলে শুনেছেন তিনি।

তবে জাতীয় দলের প্রসঙ্গে তাঁর অগ্রাধিকার বিদায়ী আয়োজন নয়, প্রতিযোগিতা।

জীবনের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রোনালদো বলেছেন, খাওয়ার মতো কিছু না থাকার সময় তিনি শিখেছেন যে বিনা মূল্যে কেউ কাউকে কিছু দেয় না।

তাঁর সমর্থকদের, বিশেষ করে পর্তুগালের মানুষকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন—একটি বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ আসবে। সেটির জন্য সময়ও থাকবে।

কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর কাছে আসল বিষয় হলো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া।

বাবার মৃত্যুর দিনও জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত

জাতীয় দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা বোঝাতে বাবার মৃত্যুর দিনের ঘটনাও তুলে ধরেছেন রোনালদো।

তিনি তখন জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও পরের দিনের ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

রোনালদোর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের জন্য তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা কোনো ক্লাবের জন্য কখনো নিতেন না।

এই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, পর্তুগালের হয়ে খেলার বিষয়টি তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই আবার জাতীয় দলে ফিরতে প্রস্তুত

ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় নিজের ভুল স্বীকার করলেও জাতীয় দলের প্রতি তাঁর অবস্থান বদলায়নি। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে এবং ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলে গোল করতে পারলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আবার পর্তুগালের জার্সিতে মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি।

রোনালদো জানিয়েছেন, আগের মতোই জাতীয় দলের হয়ে লড়াই করতে চান এবং জিততে চান।

অর্থাৎ ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা তাঁর কাছে জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার ঘোষণা নয়। বরং তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সত্য ও পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি ঠিক থাকলে তিনি আবারও পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত।

আর দীর্ঘ বিবৃতির শেষ বার্তায় রোনালদো যে অবস্থানটি সবচেয়ে জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন, সেটি হলো—পর্তুগালের হয়ে প্রতিযোগিতা করা ও জেতার ইচ্ছা তাঁর এখনো অটুট। তাঁর কাছে এটাই চূড়ান্ত সত্য।

FAQ

রোনালদো কেন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছিলেন?

রোনালদোর দাবি, কোচ হোর্হে জেসুস তাঁর সঙ্গে একাধিকবার করা প্রতিশ্রুতি রাখেননি। এ কারণেই আরেকটি প্রতিশ্রুতির অপেক্ষা না করে তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নরওয়ে ম্যাচে রোনালদোর সঙ্গে কী ঘটেছিল?

কোচ তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন। রোনালদো ওয়ার্ম-আপ করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি।

ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্তকে কি রোনালদো ভুল বলেছেন?

হ্যাঁ। তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার দায় নিজের বলে স্বীকার করেছেন এবং সতীর্থ, সমর্থক ও পর্তুগালের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

রোনালদো কি নিজের শাস্তি চান?

হ্যাঁ। তিনি বলেছেন, তাঁর কাজের জন্য পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শাস্তি দেওয়া উচিত এবং শাস্তি কমানোও উচিত নয়।

রোনালদো কি আবার পর্তুগালের হয়ে খেলবেন?

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শারীরিকভাবে ফিট থাকলে আবার জাতীয় দলের হয়ে লড়াই ও জিততে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: