ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষায় একাধিক সুপারিশ, প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৭:৪৬:২৮
প্রাথমিক শিক্ষায় একাধিক সুপারিশ, প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত

প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানো, বিদ্যালয়ে সব শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এর অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের খালি থাকা সব পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও সুপারিশ এসেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ১ম বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশগুলোর কথা জানানো হয়।

সব শিশুর জন্য বিদ্যালয়ের সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় দেশের সব শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করার ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা। তাদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ তৈরি নয়, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষায় নৈতিক শিক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। এ স্তরে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে দ্রুত পদক্ষেপের সুপারিশ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে খালি থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়।

শিশুদের খাবারের মান নিয়ে নজরদারির পরামর্শ

বিদ্যালয়ের চলমান ফিডিং কার্যক্রমও আলোচনার বাইরে থাকেনি। শিশুদের জন্য পরিচালিত এই কার্যক্রমে খাবারের মান ঠিক রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।

ফিডিং কার্যক্রমের মান যথাযথভাবে নিশ্চিত করা না হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন

বৈঠকের আরেকটি অংশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের খাতওয়ারী বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খাতওয়ারি বাজেট ও ব্যয় বিভাজন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে কমিটির সামনে তুলে ধরা হয়।

বিভিন্ন খাতে যে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, সেটি যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়েও কমিটি সুপারিশ করেছে।

বিদ্যালয়ে সরেজমিনে যাওয়ার পরামর্শ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র জানতে কমিটির সদস্যদের সরাসরি বিদ্যালয় পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় কমিটির সব সদস্যকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখার জন্য এই পরামর্শ দেওয়া হয়।

কমিটির ১ম বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী এবং মাহফুজা হান্নান অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

FAQ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের শূন্যপদ নিয়ে কী সুপারিশ করা হয়েছে?

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কী প্রস্তাব এসেছে?

দেশের সব শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে কমিটি।

প্রাথমিক পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?

প্রাথমিক শিক্ষা লেভেলে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে সংসদীয় কমিটি কী বলেছে?

ফিডিং কার্যক্রমে সঠিক কোয়ালিটি ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। মান নিশ্চিত না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

কমিটির ১ম বৈঠকে কী আর্থিক বিষয় উপস্থাপন করা হয়?

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের খাতওয়ারী বিভাজন, ব্যয় পরিকল্পনা, বাজেট ও ব্যয় বিভাজন উপস্থাপন করা হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: