ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে? জানুন পুরো হিসাব

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২০:৫৮:০৭
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে? জানুন পুরো হিসাব

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে শুধু একটি ফি দিলেই কাজ শেষ হয় না। বাংলাদেশে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে প্রথমে লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নিতে হয়, এরপর লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে মোট কত টাকা লাগে, সেটি নির্ভর করে লাইসেন্সের ধরন ও কয়টি গাড়ির ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করা হচ্ছে তার ওপর।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, এক ক্যাটাগরির লার্নার লাইসেন্সের ফি ৫১৮ টাকা। মোটরসাইকেল/থ্রি-হুইলার/হালকা মোটরযানের যেকোনো দুই ক্যাটাগরির জন্য লার্নার ফি ৭৪৮ টাকা। এরপর অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুতে ৪ হাজার ৬২৮ টাকা এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২ হাজার ৮৩৮ টাকা দিতে হয়। এর বাইরে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চার্জ এবং কিছু ক্ষেত্রে ডাক, মেডিকেল বা ডোপ টেস্টের মতো অতিরিক্ত খরচ থাকতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে প্রথমে লার্নার কেন নিতে হয়?

চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিবন্ধন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে লার্নারের জন্য আবেদন করা যায়।

লার্নার লাইসেন্সের জন্য সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, মেডিকেল সার্টিফিকেট, ঠিকানার প্রমাণ এবং ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদ প্রয়োজন হয়। আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা ও এনআইডির ঠিকানা ভিন্ন হলে অতিরিক্ত ঠিকানার প্রমাণও লাগতে পারে।

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি কত?

বর্তমানে বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি ক্যাটাগরির জন্য লার্নার লাইসেন্সের ফি ৫১৮ টাকা।

যেমন, শুধু মোটরসাইকেল অথবা হালকা মোটরযানের একটি ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করলে এই ফি প্রযোজ্য হবে।

আর মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার ও হালকা মোটরযানের মধ্যে যেকোনো দুই ক্যাটাগরির জন্য লার্নার লাইসেন্সের ফি ৭৪৮ টাকা। অনলাইনে ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

লার্নার নেওয়ার পর কী করতে হবে?

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্ধারিত সময় প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, এরপর নির্ধারিত তারিখ ও কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হয়।

অর্থাৎ শুধু লার্নার লাইসেন্স করলেই চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায় না। দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সুযোগ আসে।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি কত?

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালানোর জন্য সাধারণত অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হয়।

বিআরটিএর সর্বশেষ সিটিজেন চার্টারে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর ফি ৪ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় পাস করার পর বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ফি পরিশোধ করে চূড়ান্ত আবেদন করা যায়।

তাই এক ক্যাটাগরির লার্নার ধরে শুধু বিআরটিএর মূল সরকারি ফি হিসাব করলে—

লার্নার ফি ৫১৮ টাকা + অপেশাদার লাইসেন্স ফি ৪,৬২৮ টাকা = মোট ৫,১৪৬ টাকা।

আর দুই ক্যাটাগরির লার্নার নিলে হিসাব হবে—

লার্নার ফি ৭৪৮ টাকা + অপেশাদার লাইসেন্স ফি ৪,৬২৮ টাকা = মোট ৫,৩৭৬ টাকা।

তবে এগুলোকে সব মিলিয়ে চূড়ান্ত পকেট খরচ বলা যাবে না। কারণ পেমেন্ট গেটওয়ে চার্জ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ আলাদা হতে পারে।

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

যারা পেশাগতভাবে গাড়ি চালানোর জন্য লাইসেন্স করতে চান, তাদের জন্য পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়ম প্রযোজ্য।

বিআরটিএর সিটিজেন চার্টারে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর ফি ২ হাজার ৮৩৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের সনদও জমা দিতে হয়।

এক ক্যাটাগরির লার্নারসহ শুধু মূল সরকারি ফি ধরে হিসাব করলে—

৫১৮ টাকা + ২,৮৩৮ টাকা = ৩,৩৫৬ টাকা।

তবে পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টসহ অতিরিক্ত খরচ থাকায় বাস্তবে মোট ব্যয় এর চেয়ে বেশি হতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আর কী কী খরচ হতে পারে?

অনেকেই শুধু বিআরটিএর লাইসেন্স ফি হিসাব করেন। কিন্তু আবেদন করার পুরো প্রক্রিয়ায় আরও কিছু আনুষঙ্গিক খরচ হতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল সার্টিফিকেটের খরচ, প্রয়োজন হলে ছবি ও প্রিন্টের খরচ এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চার্জ। পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের খরচও যুক্ত হবে।

এ ছাড়া কেউ যদি বেসরকারি ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষণ নেন, সেই প্রশিক্ষণ ফি বিআরটিএর লাইসেন্স ফি-এর মধ্যে পড়ে না। অর্থাৎ ড্রাইভিং শেখার খরচ এবং সরকারি লাইসেন্স ফি আলাদা বিষয়।

পরীক্ষায় ফেল করলে আবার কত টাকা লাগবে?

ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিআরটিএর সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, পুনঃপরীক্ষার জন্য ২৩০ টাকা পরীক্ষার ফি দিতে হয়।

তবে লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন করে নির্ধারিত লার্নার ফি দিতে হবে। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, লার্নারের মেয়াদ ছয় মাস উল্লেখ করা হয়েছে এবং মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ফি দিয়ে নবায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কত সময় লাগে?

দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় পাস করার পর চূড়ান্ত আবেদন ও ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। বিআরটিএর সিটিজেন চার্টারে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ফি প্রদানের পর ১৫ থেকে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে ডাকযোগে ঠিকানায় পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ পরীক্ষায় পাস করার পরই হাতে স্মার্ট কার্ড চলে আসে—এমন নয়। অনুমোদন, ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং কার্ড বিতরণের ধাপ রয়েছে।

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার জন্য আবেদন এবং অনলাইনে ফি পরিশোধ করা যায়। পোর্টালে ফি ক্যালকুলেটরের ব্যবস্থাও রয়েছে।

অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা যায়। বিআরটিএর সিটিজেন চার্টারে Visa, MasterCard, Nexus, AMEX এবং bKash, Rocket ও নগদের মাধ্যমে ফি পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি নিয়ে বিভ্রান্তি কেন?

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। এর অন্যতম কারণ হলো বিআরটিএর পুরোনো কিছু ওয়েবপেজে আগের ফি এখনো দেখা যায়। এমনকি বিআরটিএর পুরোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি পাতায় লার্নার ও স্মার্ট কার্ডের আগের ফি উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে বিআরটিএর বর্তমান সিটিজেন চার্টারে লার্নারের জন্য ৫১৮/৭৪৮ টাকা, অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ৪,৬২৮ টাকা এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২,৮৩৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই পুরোনো ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অন্য কোনো ব্লগের তথ্য দেখে ফি পরিশোধ না করে আবেদনের সময় বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ।

সব মিলিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগবে?

সহজভাবে বললে, একজন নতুন আবেদনকারী যদি এক ক্যাটাগরির অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করেন, তাহলে লার্নার ও চূড়ান্ত লাইসেন্সের মূল সরকারি ফি ধরে ৫,১৪৬ টাকা থেকে হিসাব শুরু হবে।

দুই ক্যাটাগরির লার্নার নিলে মূল সরকারি ফি দাঁড়াবে ৫,৩৭৬ টাকা।

আর পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে এক ক্যাটাগরির লার্নারসহ মূল সরকারি ফি ৩,৩৫৬ টাকা। তবে পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ডোপ টেস্টসহ অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ আলাদা।

এর সঙ্গে মেডিকেল, ডোপ টেস্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হলে একজন আবেদনকারীর প্রকৃত মোট ব্যয় আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

আবেদন করার আগে যা মনে রাখবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের নামে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে আবেদন করা এবং নির্ধারিত সরকারি ফি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা। কোনো মধ্যস্থতাকারীকে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার আগে সরকারি প্রক্রিয়াটি যাচাই করা উচিত।

বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালেই আবেদন, ফি পরিশোধ এবং বিভিন্ন সেবা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সেখানে নিজের প্রযোজ্য ফি যাচাই করলে পুরোনো বা ভুল তথ্যের কারণে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার ঝুঁকি কমে।

এক নজরে

লার্নার লাইসেন্স: ১ ক্যাটাগরিতে ৫১৮ টাকা, দুই ক্যাটাগরিতে ৭৪৮ টাকা।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: ৪,৬২৮ টাকা।

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: ২,৮৩৮ টাকা।

এক ক্যাটাগরির লার্নারসহ অপেশাদার লাইসেন্সের মূল সরকারি ফি: ৫,১৪৬ টাকা।

এক ক্যাটাগরির লার্নারসহ পেশাদার লাইসেন্সের মূল সরকারি ফি: ৩,৩৫৬ টাকা।

পুনঃপরীক্ষার ফি: ২৩০ টাকা।

এর বাইরে পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আনুষঙ্গিক খরচ থাকতে পারে। অনলাইন পেমেন্টেও গেটওয়ে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

FAQ

প্রশ্ন: ২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: এক ক্যাটাগরির লার্নার ও অপেশাদার চূড়ান্ত লাইসেন্সের মূল সরকারি ফি ধরে ৫,১৪৬ টাকা থেকে খরচ শুরু হয়। অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ আলাদা হতে পারে।

প্রশ্ন: লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি কত?

উত্তর: একটি ক্যাটাগরির জন্য ৫১৮ টাকা এবং দুটি ক্যাটাগরির জন্য ৭৪৮ টাকা।

প্রশ্ন: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি কত?

উত্তর: বিআরটিএর বর্তমান সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর ফি ৪,৬২৮ টাকা।

প্রশ্ন: পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর সরকারি ফি ২,৮৩৮ টাকা। এর সঙ্গে লার্নার ফি এবং ডোপ টেস্টসহ প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ যোগ হবে।

প্রশ্ন: ড্রাইভিং পরীক্ষায় ফেল করলে আবার কত টাকা দিতে হয়?

উত্তর: বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী পুনঃপরীক্ষার জন্য ২৩০ টাকা পরীক্ষার ফি দিতে হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: