ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিজ্ঞপ্তি, শূন্য থাকছে ১,৪৭১ পদ

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৪:১১:৫৭
প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিজ্ঞপ্তি, শূন্য থাকছে ১,৪৭১ পদ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের একটি বড় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও শূন্যপদ পুরোপুরি পূরণ হয়নি। চূড়ান্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের একটি অংশ নিয়োগের পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় ১ হাজার ৪৭১টি পদে শিক্ষক পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি ৫৫৩ জন, আর নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি ৯১৮ জন।

এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট কমাতে নতুন করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। শিগগিরই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারাও সংবাদমাধ্যমকে নতুন নিয়োগের প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এক নিয়োগেই আবেদন করেছিলেন ১০ লাখের বেশি

সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়াটির পরিধিও ছিল বড়। ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’-এর জন্য দুই ধাপে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি।

এই সংখ্যক পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। অর্থাৎ গড়ে একটি পদের জন্য প্রতিযোগিতা করেছেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী।

প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের জন্য আবেদন করেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন।

পরবর্তী ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদে আবেদন পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।

চূড়ান্ত সুপারিশে ছিলেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন

বাছাই প্রক্রিয়ার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। পরবর্তী পর্যায়ে তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়।

সব ধাপ শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয় চূড়ান্ত ফল। সেখানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পান ১৪ হাজার ৩৮৪ জন।

এরপর শুরু হয় জেলা অনুযায়ী নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে দেওয়া সেই আদেশের সঙ্গে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

নিয়োগের আগেই বাদ পড়েন ৫৫৩ জন

চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া সবাই পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেননি। অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

কিন্তু ৫৫২ জন প্রার্থী কাগজপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মারা গেছেন। অর্থাৎ এই দুই কারণে মোট ৫৫৩ জন সহকারী শিক্ষক পদে আর যোগ দিতে পারেননি।

কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পরে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

নিয়োগপত্র হাতে নিয়েও কর্মস্থলে যাননি ৯১৮ জন

নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও নিয়োগপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপে এসে আবারও একটি বড় সংখ্যার প্রার্থী বাদ পড়েন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন কাজে যোগ দিয়েছেন।

কিন্তু ৯১৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েও পদে যোগ দেননি।

এই সংখ্যা কাগজপত্র জমা না দেওয়া ও মারা যাওয়া প্রার্থীদের সঙ্গে যোগ করলে পুরো চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়। কাগজপত্রের ধাপেই ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে না যাওয়া ৯১৮ জন—দুই মিলিয়ে ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি।

অন্য চাকরি পাওয়াও হতে পারে যোগ না দেওয়ার কারণ

প্রার্থীদের একাংশ কেন নিয়োগপ্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত গিয়েও চাকরিতে যোগ দিলেন না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিম।

তার ভাষ্য, অনেক প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি এবং এ বিষয়ে তারা কোনো আগ্রহ দেখাননি। আবার কিছু প্রার্থী নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও কাজে যোগ দেননি। তাদের অন্য কোথাও চাকরি হয়ে থাকতে পারে এবং তারা সেই চাকরিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা সাধারণত ঘটে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শূন্যপদ পূরণে এবার দ্রুত নতুন বিজ্ঞপ্তি

তবে এবারের পরিস্থিতিতে অনুপস্থিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় বিষয়টি অধিদপ্তরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। কারণ বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও যদি পদ খালি থাকে, তাহলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট থেকেই যায়।

আবদুর রহিম জানিয়েছেন, এই কারণেই নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। তাই দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।

ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য সামনে নতুন নিয়োগের সুযোগ আসতে পারে। তবে নতুন বিজ্ঞপ্তির নির্দিষ্ট প্রকাশের তারিখ এখনো জানানো হয়নি।

FAQ

প্রশ্ন: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি কবে আসবে?

উত্তর: শিগগিরই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম। তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।

প্রশ্ন: কতজন নিয়োগপত্র পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি?

উত্তর: ৯১৮ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি।

প্রশ্ন: মোট কতজন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি?

উত্তর: কাগজপত্র জমা না দেওয়া ও মারা যাওয়া মিলিয়ে ৫৫৩ জন, আর নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ না দেওয়া ৯১৮ জন। সব মিলিয়ে সংখ্যা ১ হাজার ৪৭১ জন।

প্রশ্ন: ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে কতটি পদ ছিল?

উত্তর: ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’-এর দুই ধাপের বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদ ছিল।

প্রশ্ন: এই নিয়োগে কতজন আবেদন করেছিলেন?

উত্তর: মোট ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি আবেদন জমা পড়েছিল।

পাঠকের মতামত: