ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৭ মাস পর চালু, দুই দিনেই ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৫:৩৯:৪৬
৭ মাস পর চালু, দুই দিনেই ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে উৎপাদনে ফেরার পরও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারল না জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা। ৭ মাস ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর গত সোমবার মধ্যরাতে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুই দিন পার না হতেই বয়লারে লিকেজ ধরা পড়ায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে বন্ধ হয়ে যায় ইউরিয়া উৎপাদন। এতে কারখানাটি সচল হওয়ার পরপরই আবারও যান্ত্রিক সমস্যার মুখে পড়ল।

বর্তমানে কারখানার সব কার্যক্রম অবশ্য বন্ধ নেই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউরিয়া উৎপাদন স্থগিত থাকলেও অ্যামোনিয়া উৎপাদন চলছে। পাশাপাশি বয়লারের ত্রুটি সারানোর কাজও করা হচ্ছে।

বয়লারের সমস্যায় থামল ইউরিয়া উৎপাদন

কারখানার উৎপাদন প্রধান ফজলুল হক জানিয়েছেন, বয়লারে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ইউরিয়া উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। সমস্যাটি বড় আকার ধারণ করার আগেই সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তার প্রত্যাশা, মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই আবার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা যাবে।

অর্থাৎ দীর্ঘ ৭ মাস ১৫ দিনের বিরতির পর উৎপাদন চালুর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটি আপাতত আবারও সাময়িক বাধার মুখে পড়েছে।

২১ জেলায় সরবরাহ হয় এই কারখানার সার

যমুনা সার কারখানার কার্যক্রমের সঙ্গে বড় একটি অঞ্চলের সার সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্ত। কারখানার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের মোট ২১টি জেলায় এখানকার উৎপাদিত সার সরবরাহ করা হয়।

এই সরবরাহব্যবস্থা পরিচালিত হয় প্রায় ১ হাজার ৯০০ বিসিআইসি ডিলারের মাধ্যমে। ফলে কারখানাটির উৎপাদন সচল থাকা ওই বিস্তৃত এলাকার সার সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ টন, গ্যাসের চাপে কমে উৎপাদন

যমুনা সার কারখানার দৈনিক সার উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন। তবে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না থাকায় বাস্তবে কারখানাটি সাধারণ সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন করতে পারে।

কারখানা সূত্রের হিসাবে, পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন সম্ভব। সেই উৎপাদন থেকে আনুমানিক ৬০ কোটি টাকা মুনাফা হয়ে থাকে।

তবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলেও কারখানার ব্যয় পুরোপুরি থেমে যায় না। যন্ত্রপাতি সচল রাখার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা গ্যাস বিল দিতে হয়।

আগের বন্ধের ইতিহাসও দীর্ঘ

যমুনা সার কারখানার উৎপাদন এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থেকেছে। গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যাও কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণ হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২৩ মাস উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে ফের কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি কারখানাটি গ্যাস সংযোগ পায়। পরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হলে পুনরায় উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সোমবার মধ্যরাতে সেই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেয় এবং সার উৎপাদন শুরু হয়।

কিন্তু উৎপাদন শুরুর পরপরই বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেল না।

মেরামতের পর দ্রুত উৎপাদনে ফেরার চেষ্টা

কর্তৃপক্ষ এখন বয়লারের যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। উৎপাদন প্রধান ফজলুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেরামতের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় চালুর আশা করা হচ্ছে।

তবে গ্যাস সংকটের কারণে আগের দীর্ঘ বন্ধের পর নতুন করে উৎপাদন শুরু করেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুই দিনের মাথায় ইউরিয়া উৎপাদন থেমে যাওয়ায় কারখানাটির নিয়মিত উৎপাদন কতটা স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: