সূচক বাড়লেও স্বস্তি নেই, আগে দরপতন ঠেকানোর দাবি
একদিনের লেনদেনে সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দেশের শেয়ারবাজারে স্বস্তি ফিরছে না বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকসহ অন্যান্য সূচক বেড়েছে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে প্রায় ৭১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি এখন সবচেয়ে জরুরি হলো ধারাবাহিক দরপতনের লাগাম টানা।
তাদের বক্তব্য, বাজারের বর্তমান সংকট দূর না করে শুধু ভবিষ্যতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে না। বরং প্রথমে বাজার পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে পতনের প্রকৃত কারণ বের করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৃহস্পতিবারের বাজারে উত্থান, তবে লেনদেনে ভাটা
দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৭১টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১৫০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের।
সূচকের হিসাবেও দিনটি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ডিএসইএক্স ১১.৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৫.৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইএস সূচক ০.৯৩ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৬.৯৭ পয়েন্ট। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৮.৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৫.৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
তবে সূচকের এই বৃদ্ধি লেনদেনের পরিমাণ বাড়াতে পারেনি। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে প্রায় ৫৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনেই লেনদেন কমেছে প্রায় ৭১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
সিএসইতেও সূচক বেড়েছে, কমেছে শেয়ার-ইউনিট লেনদেন
একই দিনে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বাজারচিত্রেও সূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এদিন সিএএসপিআই ৫.১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৬০.৯৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এর আগের দিন এই সূচক ৯৮.১৪ পয়েন্ট বেড়েছিল।
সিএসইতে বৃহস্পতিবার শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে মোট ১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এর পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। দর হারিয়েছে ৮১টি প্রতিষ্ঠানের এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সূচকের ওঠানামার মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এক বা দুদিন সূচক বাড়লেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগের মতো সক্রিয়তা ফিরে আসছে—এমন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে দরপতন চলায় বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি বুঝে এগোচ্ছেন।
কোনো কোনো দিন সূচক ইতিবাচক থাকলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়েছে এবং এর প্রভাব লেনদেনের চিত্রেও পড়ছে।
এই অবস্থায় বাজারের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তারা।
নতুন কমিশন ঘিরে প্রত্যাশা থাকলেও বদলায়নি পরিস্থিতি
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে একসময় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। টানা উত্থানের কারণে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে যায়, একই সঙ্গে লেনদেনও বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা অনেক বিনিয়োগকারী তখন মুনাফার মুখ দেখতে শুরু করেন।
বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক উত্থানের ফলে একপর্যায়ে বাজারের প্রধান সূচক প্রায় ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
বাজারকে আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে পরে নতুন কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ধারাবাহিক দরপতনে বাজার এখন তলানির দিকে অবস্থান করছে।
সংস্কার নয়, আগে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জোর
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই সংস্কারের ফল ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে—এমন পরিকল্পনার পাশাপাশি বর্তমান সমস্যার সমাধানও জরুরি।
তাদের অভিযোগ, কমিশনের পক্ষ থেকে বাজার সংস্কার ও উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়টি দৃশ্যমান নয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
তাদের মতে, বাজার পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করে পতনের পেছনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা দরকার। কারণ শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
শুধু ভবিষ্যতে বাজার কীভাবে সংস্কার করা হবে, সেই আলোচনা দিয়ে বর্তমান সংকট কাটানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আগে দরপতনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।
বাজারের স্থিতিশীলতাই এখন বড় প্রত্যাশা
বৃহস্পতিবারের বাজারে ডিএসই ও সিএসই—দুই জায়গাতেই সূচকের বৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে লেনদেন কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান দেখাচ্ছে, বাজারে আস্থার জায়গাটি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এ কারণে বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কাজের পাশাপাশি চলমান দরপতনের কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের মতে, বর্তমান সংকট সামাল দিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ।
FAQ
১. বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান সূচক কত পয়েন্ট বেড়েছে?
ডিএসইএক্স ১১.৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৫.৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
২. বৃহস্পতিবার ডিএসইতে কত টাকার লেনদেন হয়েছে?
ডিএসইতে প্রায় ৫৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
৩. ডিএসইতে বৃহস্পতিবার কতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে?
লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭১টির শেয়ারদর বেড়েছে।
৪. বৃহস্পতিবার সিএসইর সিএএসপিআই সূচক কত ছিল?
সিএএসপিআই ৫.১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৬০.৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
৫. বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে কী ধরনের পদক্ষেপ চান?
তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পাশাপাশি আগে ধারাবাহিক দরপতনের কারণ চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আল-সাদ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের দর
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ১টি দেশের টাকার মান
- আজকের স্বার্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দর
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি কত
- OPPO Find X10 Pro Max-এ তিন ২০০MP ক্যামেরা, ব্যাটারি ৮,০০০mAh
- 8000mAh ব্যাটারি নিয়ে vivo Y32, সঙ্গে IP69 সুরক্ষা
- আজকের আবহাওয়া: দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা
- মেসির শেষ ম্যাচ আজ, আর্জেন্টিনা-বেনিন কখন ও কোথায় দেখবেন
- আজকের টাকার রেট: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার মান