ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোরে উঠলেই কি শরীর ভালো থাকে? জানুন আসল তথ্য

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৮:৩৮:২৯
ভোরে উঠলেই কি শরীর ভালো থাকে? জানুন আসল তথ্য

ভোরে ঘুম থেকে ওঠাকে অনেকেই সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম অভ্যাস মনে করেন। কিন্তু শুধু খুব ভোরে উঠলেই যে শরীর ভালো থাকবে, এমনটা নয়। একজন মানুষের জন্য সকালে ঘুম থেকে ওঠার উপযুক্ত সময় নির্ভর করে তার ঘুমানোর সময়, বয়স, দৈনন্দিন কাজের ধরন এবং পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না—এসবের ওপর। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট একটি সময়ের চেয়ে প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার সঠিক সময় কতটা?

সবার জন্য সকাল ৫টা বা ৬টাকেই বাধ্যতামূলক ‘সঠিক সময়’ বলা যায় না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক যদি রাত ১০টায় ঘুমিয়ে সকাল ৬টায় ওঠেন, তাহলে তার ৮ ঘণ্টা ঘুম হতে পারে। আবার কেউ যদি রাত ১২টার পর ঘুমিয়ে সকাল ৬টায় ওঠেন, তাহলে একই সময় ঘুম থেকে উঠলেও তার ঘুমের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

তাই ঘুমের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো এবং একটি নিয়মিত ঘুম-জাগার সূচি বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ৬১–৬৪ বছর বয়সীদের জন্য ৭–৯ ঘণ্টা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের সুপারিশ রয়েছে।

ভোরে ওঠার চেয়ে নিয়মিত সময়ে ওঠা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শরীরের নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম রয়েছে। প্রতিদিন ঘুমানোর এবং জেগে ওঠার সময় বারবার পরিবর্তন হলে এই ছন্দ ব্যাহত হতে পারে।

জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট (NHLBI) প্রতিদিন, এমনকি ছুটির দিনেও, প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার পরামর্শ দেয়। সপ্তাহান্তে ঘুমের সময়সূচির বড় ধরনের পরিবর্তন শরীরের ঘুম-জাগার ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থাৎ, প্রতিদিন সকাল ৬টায় ওঠার অভ্যাস থাকলে ছুটির দিনেও চেষ্টা করা উচিত কাছাকাছি সময়ে ওঠার। প্রয়োজন হলে সময়ের পার্থক্য প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কত ঘণ্টা ঘুমের পর সকালে উঠবেন?

এখানে বয়স গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের প্রয়োজন সবার এক নয়।

CDC-এর তথ্য অনুযায়ী—

১৮–৬০ বছর: অন্তত ৭ ঘণ্টা

৬১–৬৪ বছর: ৭–৯ ঘণ্টা

৬৫ বছর বা তার বেশি: ৭–৮ ঘণ্টা

১৩–১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী: ৮–১০ ঘণ্টা

৬–১২ বছর বয়সী শিশু: ৯–১২ ঘণ্টা

শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার নিয়ম প্রযোজ্য নয়; তাদের বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাই মূল বিষয়।

রাত জাগার পর ভোরে ওঠা কি ভালো?

শুধু ঘড়ির কাঁটায় ভোর হয়েছে বলে ঘুম ভেঙে ফেলা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়, যদি তাতে ঘুমের প্রয়োজনীয় সময় পূরণ না হয়।

ধরা যাক, একজন ব্যক্তি নিয়মিত রাত ১টায় ঘুমান এবং সকাল ৬টায় উঠে পড়েন। এতে মাত্র ৫ ঘণ্টা ঘুম হচ্ছে। প্রতিদিন এমনভাবে চললে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে। CDC বলছে, নিয়মিতভাবে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই ‘ভোরে ওঠা’কে লক্ষ্য না বানিয়ে এমন একটি সময়সূচি তৈরি করা ভালো, যাতে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ থাকে এবং সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ওঠা যায়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে কী করবেন?

ঘুম থেকে ওঠার পর দিনের শুরুটাও ঘুমের মান ও শরীরের দৈনন্দিন ছন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। দিনের শুরুতে প্রাকৃতিক আলো পাওয়া শরীরের জৈবিক ঘড়িকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সাহায্য করতে পারে। NHLBI দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকালে, প্রাকৃতিক আলো পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।

সকালের রুটিনে তাই সম্ভব হলে বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটা বা প্রাকৃতিক আলোতে থাকা রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি দিনের বেলায় নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ছুটির দিনে বেশি সময় ঘুমানো কি ঠিক?

কাজের দিনগুলোতে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে অনেক বেশি সময় ঘুমানোর অভ্যাস নিয়মিত ঘুমের সূচি নষ্ট করতে পারে। NHLBI সপ্তাহের দিন ও ছুটির দিনের ঘুমের সময়ের পার্থক্য যতটা সম্ভব কম রাখার পরামর্শ দেয়।

তবে আগের কয়েক দিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিশ্রামের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু দেরি করে ওঠার ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি ঠিক করা বেশি কার্যকর।

ভালো ঘুমের জন্য রাতে কী করবেন?

সকালে ঠিক সময়ে উঠতে হলে আসলে প্রস্তুতি শুরু করতে হয় আগের রাত থেকেই। ঘুমের অভ্যাস ভালো রাখতে কয়েকটি বিষয় কাজে আসতে পারে—

প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যান ও ঘুম থেকে উঠুন।

ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় নির্ধারণ করুন।

শোয়ার আগে অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমান।

বিকেল বা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন।

শোবার ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন।

নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন।

ঘুমের আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।

CDC এবং NHLBI—দুই সংস্থাই নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ঘুমের পরিবেশ ঠিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ঘুম থেকে উঠেও যদি সারাদিন ঘুম ঘুম লাগে?

পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি নিয়মিতভাবে সকালে খুব ক্লান্ত লাগে, দিনে অতিরিক্ত ঘুম পায় বা ঘুম ধরে রাখার সমস্যা হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চললে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। CDC-ও ঘুমের সমস্যা থাকলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার ‘সেরা’ সময় সবার জন্য এক নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করে প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ সকাল ৫টায় উঠছেন, আবার কেউ ৬টা বা ৭টায়—সময়টি ব্যক্তির জীবনযাপন ও ঘুমের সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সেটিই তার জন্য উপযুক্ত হতে পারে।

অর্থাৎ, সুস্থ থাকার জন্য শুধু ‘কত সকালে উঠছেন’ নয়, ‘কখন ঘুমাচ্ছেন এবং কতটা ভালো ঘুম হচ্ছে’—সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

FAQ

প্রশ্ন: সকালে ঘুম থেকে ওঠার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?

উত্তর: সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নেই। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করে প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ওঠার অভ্যাস করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: একজন প্রাপ্তবয়স্কের কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন?

উত্তর: ১৮–৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

প্রশ্ন: সকাল ৫টায় ওঠা কি সবার জন্য ভালো?

উত্তর: না। রাতের ঘুমের সময় কমিয়ে শুধু সকাল ৫টায় ওঠার চেষ্টা করা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের পর নিয়মিত সময়ে ওঠাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: ছুটির দিনে কি বেশি সময় ঘুমানো যায়?

উত্তর: ঘুমের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না করাই ভালো। NHLBI সপ্তাহের দিন ও ছুটির দিনের ঘুমের সময়ের পার্থক্য প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে রাখার পরামর্শ দেয়।

প্রশ্ন: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সকালে ক্লান্ত লাগে কেন?

উত্তর: নিয়মিত এমন হলে ঘুমের মান বা অন্য কোনো ঘুম-সংক্রান্ত সমস্যার বিষয় থাকতে পারে। সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সম্পাদনা নোট: আপনার সাইটে যেহেতু স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট Discover-এ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে “ভোর ৫টা সবার জন্য সেরা” ধরনের প্রচলিত কিন্তু অতিরঞ্জিত দাবি এড়িয়ে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর + বয়সভিত্তিক তথ্য + ব্যবহারিক পরামর্শ—এই কাঠামো রাখা হয়েছে। এতে বিষয়টি তথ্যভিত্তিকও থাকে, আবার একই ধরনের প্রচলিত স্বাস্থ্য-আর্টিকেলের সঙ্গে লেখার উপস্থাপনাতেও পার্থক্য তৈরি হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: