ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রিয়াদ বিমানবন্দরে আগুন, হুথির হামলার দাবিতে ফ্লাইট বাতিল

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৯ ১৫:২১:৪০
রিয়াদ বিমানবন্দরে আগুন, হুথির হামলার দাবিতে ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। একই দিনে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক বিমানে আগুন লাগে এবং সেটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছেন তিন কর্মকর্তা। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে জার্মানির লুফথানসা ও ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া।

তবে বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে হুথিদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর মধ্যেই দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড, বন্ধ করা হয় বহির্গামী ফ্লাইট

বিমানবন্দরের টার্মিনালে পার্ক করা সৌদি এয়ারলাইনসের বিমানটিতে কীভাবে আগুন লাগে, তা নিয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রয়টার্সকে তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ অথবা অন্য কোনো প্রক্ষেপণের আঘাতে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বিমানবন্দরের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন রিয়াদের বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে অগ্নিনির্বাপণকারী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতেও বিমানবন্দর এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতির মধ্যে বিমানবন্দর থেকে বহির্গামী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে অবস্থানরত যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কতটা প্রভাব পড়েছে

রিয়াদে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার কার্যক্রমে। লুফথানসা ও এয়ার ইন্ডিয়া তাদের রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় বিকাল ৩টার দিকে রিয়াদ বিমানবন্দরের প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। শুক্রবার সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আরও ৩১টি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিঘ্ন শুধু একটি বিমানের ক্ষয়ক্ষতি বা বিমানবন্দরের তাৎক্ষণিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ ছিল না; ফ্লাইট পরিচালনাতেও এর প্রভাব পড়েছিল। তবে শুক্রবারের ৩১টি ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ছিল পূর্বাভাস, নিশ্চিত বাতিলের হিসাব নয়।

জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি

বিমানবন্দরের ঘটনার দিনই সৌদি আরবে হামলা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেয় হুথি গোষ্ঠী। দেশটির আকাশসীমায় বিমান চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার হুমকিও দিয়েছে তারা। এসব স্থাপনায় কর্মরত ব্যক্তিদের সেখান থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রিয়াদের একটি কিন্ডারগার্টেন ও চিকিৎসাকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।

তবে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দাবি এবং সেখানে বিমানের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যকার সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি। হুথিদের দাবির পক্ষে প্রমাণ না থাকায় হামলার বিবরণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ইয়েমেনে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে হুথিরা

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের পেছনে রয়েছে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ এবং দেশটির বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই। ইয়েমেনে সরকারপন্থি বাহিনীকে সৌদি আরব সমর্থন দেওয়ায় দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলছে হুথিরা। অন্যদিকে সৌদি আরবের দাবি, হুথিদের কাছ থেকে এলাকা পুনরুদ্ধারে জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক অভিযানে সহায়তা করছে তারা।

গত এক মাসে ইয়েমেনের উপকূলীয় সমভূমিতে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে হুথি বাহিনী। বুধবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও তাদের অগ্রযাত্রার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে গোষ্ঠীটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ শহরের দিকে এগোচ্ছে।

এর আগে স্বাধীন পর্যবেক্ষকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, হুথিরা শহরটি দখলের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। একই সময়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী এডেনের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পিছু হটছে বলেও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

রিয়াদে ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসের আগে পরিস্থিতি

এমন এক সময়ে রিয়াদে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যখন চলতি সপ্তাহে শহরটিতে জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারকদের বড় আয়োজন ‘ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত এবং সৌদি আরবে হামলা জোরদারের হুমকির ঘটনাগুলো একই সময়ে সামনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার কারণে সম্মেলনের সূচি বা আয়োজন পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দাবি ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রা—দুটি বিষয়ই সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বিমানবন্দরের ঘটনায় হুথিদের সংশ্লিষ্টতার দাবি এখনো প্রমাণিত নয়; তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছে কারা?

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। তবে তারা দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।

২. বিমানবন্দরে কোন বিমানের ক্ষতি হয়েছে?

টার্মিনালে পার্ক করা সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক বিমানে আগুন লাগে। তিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ অথবা অন্য কোনো প্রক্ষেপণের আঘাতে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।

৩. কোন বিমান সংস্থা রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে?

জার্মানির লুফথানসা ও ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

৪. বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে কতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল?

সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় বিকাল ৩টার দিকে বিমানবন্দরের প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। শুক্রবার সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আরও ৩১টি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

৫. সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের কারণ কী?

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরকারপন্থি বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে। হুথিরা এ কারণে সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, হুথিদের কাছ থেকে এলাকা পুনর্দখলে জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক অভিযানে তারা সহায়তা করছে।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: