ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা স্থগিত, ঢাকায় সড়ক অবরোধ

চাকরির সংবাদ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৭:৩৪:৪২
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা স্থগিত, ঢাকায় সড়ক অবরোধ

রাজধানীর ৯৫টি কেন্দ্রে হওয়ার কথা ছিল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময় সকাল ১১টার ঠিক আগে স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসায় ক্ষোভে রাস্তায় নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

শনিবারের এ ঘটনায় মতিঝিল, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, মোহাম্মদপুর ও নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত না করে বিকল্প প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও মনে করেন তাঁদের কেউ কেউ। দ্রুত নতুন তারিখে পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

৯৫ কেন্দ্রে পরীক্ষার প্রস্তুতি, শেষ সময়ে স্থগিতের সিদ্ধান্ত

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য শনিবার ঢাকার ৯৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ‘অনিবার্য কারণে’ শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষা বন্ধের সময় নিয়ে অসন্তোষ জানান। তাঁদের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় এসে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত তাঁরা পরীক্ষা দিতে পারেননি।

বিকল্প প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি

নীলক্ষেত এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থী নাইমা আফরোজের প্রশ্ন, প্রশ্নপত্রের একটি সেট ফাঁস হয়ে থাকলে অন্য সেটে পরীক্ষা নেওয়া যেত কি না। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরীক্ষার্থীরা ঢাকায় এসেছেন। প্রশ্নপত্রের মোট কয়টি সেট ছিল, তা তাঁদের জানা নেই।

নাইমার দাবি, আজকালের মধ্যেই পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে।

একই এলাকায় বিক্ষোভরত আরেক চাকরিপ্রার্থী মো. হেলাল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পরীক্ষা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিট আগে তাঁরা স্থগিতের খবর পান। প্রশ্নফাঁসকে কারণ হিসেবে জানানো হলেও পরে পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস তাঁদের ক্ষতি ও ভোগান্তি দূর করছে না বলে মনে করেন তিনি।

হেলালের অভিযোগ, হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো বিষয় থাকতে পারে। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা বিক্ষোভে নেমেছেন।

শাহবাগে ২০০–৩০০ পরীক্ষার্থীর সড়ক অবরোধ

পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভের প্রভাব পড়ে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে। দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী প্রবীর দাশ জানান, ধানমন্ডি থেকে মোটরসাইকেলে শাহবাগে পৌঁছাতে তাঁর প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।

দুপুর ১টার দিকে শাহবাগে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থী বিক্ষিপ্তভাবে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে এবং সড়কের একদিকে সরিয়ে নেয়।

মতিঝিল, ধানমন্ডি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায়ও পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে যানজট তৈরি হয়। ফলে কর্মস্থল ও গন্তব্যে যাতায়াত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন নগরবাসী।

দুপুরের পর যান চলাচলে উন্নতি

পরিস্থিতি নিয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কন্ট্রোলরুমের অপারেটর মো. মাসুদ। তিনি জানান, সকালে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে পরীক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শুরু করেন। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে দুপুর ১টার পর থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে।

মানিক মিয়া সড়কের পরিস্থিতি সম্পর্কেও একই ধরনের অগ্রগতির কথা জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ট্রাফিক) রফিকুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ওই সড়ক ছেড়ে চলে যান। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভের মূল কারণ ছিল শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ। দ্রুত পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে, দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

১. যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা কেন স্থগিত করা হয়েছে?

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাজহারুল হক অনিবার্য কারণে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়েছেন। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল।

২. পরীক্ষা কখন হওয়ার কথা ছিল?

শনিবার সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে তা স্থগিত করা হয়।

৩. কতটি কেন্দ্রে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল?

ঢাকার ৯৫টি কেন্দ্রে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

৪. পরীক্ষার্থীরা কী দাবি জানিয়েছেন?

তাঁরা দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। একজন পরীক্ষার্থী বিকল্প প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

৫. বিক্ষোভের কারণে কোথায় যানজট হয়েছিল?

মতিঝিল, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, মোহাম্মদপুর ও নীলক্ষেতসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছিল। দুপুরের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ