ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা স্থগিত, আমিনুলের অপসারণ দাবি

চাকরির সংবাদ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৭:৪০:১৮
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা স্থগিত, আমিনুলের অপসারণ দাবি

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শুধু পরীক্ষা স্থগিত নয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহিও নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারসহ মোট চারটি দাবি তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে এসব দাবি জানান সাদিক কায়েম। এর আগে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন পরীক্ষার্থীরা।

সাদিক কায়েমের দাবিতে তদন্ত, গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গ

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কারা জড়িত, তাঁদের শনাক্ত করা এবং শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন ডাকসু ভিপি।

নিজের ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা চিরতরে বন্ধ করা যায়। প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার দাবিও জানান তিনি।

তাঁর অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশ্নফাঁসে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা এবং তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনা। পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের যাতায়াত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথাও বলেছেন তিনি।

২৪২টি পদের জন্য পরীক্ষার্থী তিন লাখের বেশি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ১১তম গ্রেডের নিয়োগের জন্য এ পরীক্ষা আয়োজনের কথা ছিল। পদসংখ্যা ছিল ২৪২টি। এতে অংশ নেওয়ার জন্য সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

শনিবার সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল। রাজধানীতে প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে।

পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তের পর ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা প্রতিবাদে নামেন। তাঁদের বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধের ঘটনা ঘটে।

মিরপুর থেকে শাহবাগ, একাধিক স্থানে সড়ক অবরোধ

পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন চাকরিপ্রার্থীরা। মিরপুরে বাঙলা কলেজের মূল ফটক ছাড়াও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শাহবাগ, নীলক্ষেত মোড় ও সাতমসজিদ সড়কে অবরোধ করা হয়।

একদিকে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের প্রতিবাদ, অন্যদিকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি—এই দুই বিষয়কে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ ঘটনায় সাদিক কায়েমের দাবিগুলোতে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্টদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রসঙ্গ গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবি

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনা ঘিরে প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবি সামনে এসেছে। সাদিক কায়েম তাঁর বক্তব্যে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও তাঁর চার দফা দাবির অংশ। অন্যদিকে, পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর একাধিক স্থানে সড়ক অবরোধ করেন চাকরিপ্রার্থীরা।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় কে চার দফা দাবি জানিয়েছেন?

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে চার দফা দাবি জানান।

২. সাদিক কায়েম কার অপসারণ দাবি করেছেন?

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

৩. নিয়োগ পরীক্ষাটি কোন পদের জন্য ছিল?

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ১১তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষা ছিল এটি।

৪. কতটি পদের বিপরীতে কতজন প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল?

২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

৫. পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে কোথায় সড়ক অবরোধ হয়েছে?

রাজধানীর মিরপুরে বাঙলা কলেজের মূল ফটক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শাহবাগ, নীলক্ষেত মোড় ও সাতমসজিদ সড়কে অবরোধ করা হয়েছে।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ