ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পাসপোর্ট করতে চান? অনলাইনে আবেদনের পুরো নিয়ম জেনে নিন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ২২:৩৩:৪৯
পাসপোর্ট করতে চান? অনলাইনে আবেদনের পুরো নিয়ম জেনে নিন

বাংলাদেশে নতুন ই-পাসপোর্ট করতে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদনকারীকে প্রথমে সরকারি পোর্টালে ফরম পূরণ করতে হবে, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠা নির্বাচন করতে হবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তবে আবেদন করার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্মনিবন্ধনের তথ্য ঠিক আছে কি না, পাসপোর্টের জন্য কত টাকা লাগবে এবং কোন কোন কাগজপত্র প্রয়োজন—এসব জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ আবেদনপত্রে ভুল তথ্য থাকলে সংশোধন ও যাচাইয়ের কারণে পাসপোর্ট পেতে দেরি হতে পারে।

বাংলাদেশে অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি, ডেলিভারির সময় এবং আবেদন জমা দেওয়ার পর স্ট্যাটাস জানার পদ্ধতি নিচে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।

অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করবেন কোথায়?

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের নতুন আবেদন ও পুরোনো পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর জন্য সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে।

সরকারি ওয়েবসাইট: https://www.epassport.gov.bd/

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘Apply Online for e-Passport / Re-Issue’ অপশন থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। আবেদন করার আগে পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেখে নেওয়া ভালো।

পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে করার নিয়ম

১. সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

প্রথমে ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর বাংলাদেশে নাকি বিদেশে থেকে আবেদন করছেন, সেই অনুযায়ী প্রযোজ্য অপশন নির্বাচন করুন। দেশের ভেতরে আবেদন করলে নিজের ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করতে হবে।

২. অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করুন

আবেদন ফরমে নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, পেশা, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইংরেজি অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেবেন না।

৩. পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠা নির্বাচন করুন

আবেদন ফরমে উপলভ্য বিকল্প অনুযায়ী পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা ও মেয়াদ নির্বাচন করতে হবে। বাংলাদেশে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট এবং পাঁচ ও দশ বছর মেয়াদের বিকল্প রয়েছে।

কতবার বিদেশ ভ্রমণ করবেন এবং কত দিনের জন্য পাসপোর্ট প্রয়োজন, তা বিবেচনা করে উপযুক্ত বিকল্প বেছে নিতে পারেন।

৪. আবেদন ফরম যাচাই করে জমা দিন

সব তথ্য পূরণ করার পর একবার ভালোভাবে যাচাই করুন। বিশেষ করে নিজের নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ও পরিচয়পত্রের নম্বর ঠিক আছে কি না দেখুন।

এরপর অনলাইনে আবেদন জমা দিন। আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্র ও অ্যাপ্লিকেশন সামারির প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করুন।

৫. পাসপোর্টের ফি পরিশোধ করুন

নির্বাচিত পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠা সংখ্যা ও ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী ফি পরিশোধ করতে হবে। সরকারি পোর্টালে উল্লেখ করা অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি অথবা এ-চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে ফি জমা দেওয়া যায়।

টাকা পরিশোধের পর পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন। আবেদনের সময় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ফি ও পেমেন্ট নির্দেশনাই অনুসরণ করবেন।

৬. পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিন

অনলাইন আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া থাকলে সেই অনুযায়ী অফিসে যান।

সেখানে আবেদনপত্র ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ এবং স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

৭. আবেদন যাচাই করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন

বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদনের ধাপ অতিক্রম করবে। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী তা সংগ্রহ করতে হবে।

মনে রাখবেন, অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়া মানেই পাসপোর্ট তৈরি হয়ে যাওয়া নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদনসংক্রান্ত কাগজপত্র ও রসিদ সংরক্ষণ করা জরুরি।

পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

ই-পাসপোর্টের আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনকারীর বয়স, আবেদনের ধরন এবং তথ্য সংশোধনের প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখা উচিত।

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইংরেজি অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ।

অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।

অ্যাপ্লিকেশন সামারির প্রিন্ট কপি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের কপি, যদি প্রযোজ্য হয়।

অফলাইনে ফি পরিশোধ করলে পেমেন্ট স্লিপ।

পুরোনো পাসপোর্ট, যদি থাকে।

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি আদেশ (GO), অনাপত্তিপত্র (NOC) বা সংশ্লিষ্ট নথি।

তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র।

বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তনের মতো প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ বা সংশ্লিষ্ট নথি।

১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর NID না থাকলে পিতা বা মাতার NID নম্বর দিতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী কোন পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য, তা সরকারি নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সাধারণত ই-পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে আলাদা ছবি সংযুক্ত বা নথি সত্যায়ন করার প্রয়োজন হয় না। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নিয়ম রয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় ছয় বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য নির্ধারিত মাপের ছবি এবং ১৫ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ছবি জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

প্রয়োজনীয় নথির পূর্ণ তালিকা দেখতে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

বাংলাদেশের ভেতরে ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরনের ওপর। সরকারি পোর্টালের ১২ জুলাই ২০২৬-এ হালনাগাদ করা ফি তালিকা অনুযায়ী, ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ ফি নিচে দেওয়া হলো।

৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট

রেগুলার ডেলিভারি: ৪,০২৫ টাকা।

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৬,৩২৫ টাকা।

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮,৬২৫ টাকা।

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট

রেগুলার ডেলিভারি: ৫,৭৫০ টাকা।

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮,০৫০ টাকা।

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০,৩৫০ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট

রেগুলার ডেলিভারি: ৬,৩২৫ টাকা।

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮,৬২৫ টাকা।

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১২,০৭৫ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট

রেগুলার ডেলিভারি: ৮,০৫০ টাকা।

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০,৩৫০ টাকা।

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১৩,৮০০ টাকা।

আবেদন করার আগে সরকারি ই-পাসপোর্ট ফি তালিকা দেখে নেবেন। ফি বা নিয়ম পরিবর্তিত হলে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতে হবে।

পাসপোর্টের ফি কীভাবে পরিশোধ করবেন?

ই-পাসপোর্টের ফি অনলাইনে অনুমোদিত পেমেন্ট সেবা ব্যবহার করে অথবা এ-চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে পরিশোধ করা যায়। সরকারি পোর্টালে কার্ড, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংকভিত্তিক বিভিন্ন অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতির তথ্য রয়েছে।

ফি পরিশোধের সময় নির্বাচিত পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারি অপশন মিলিয়ে নিন। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে রসিদ বা পেমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করুন।

কোনো ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করবেন না। আবেদন সংশোধন বা সমস্যা সমাধানের নামে কাউকে টাকা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে সরকারি পোর্টালের প্রতারণা প্রতিরোধসংক্রান্ত সতর্কতা দেখে নিতে পারেন।

পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় লাগে?

সরকারি ই-পাসপোর্ট ফি নির্দেশনায় বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার তারিখ থেকে সাধারণত নিচের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

রেগুলার ডেলিভারি: ১৫ কর্মদিবস বা প্রায় ২১ দিন।

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৭ কর্মদিবস বা প্রায় ১০ দিন।

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ২ কর্মদিবস।

এগুলো সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখিত সময়সীমা; সব ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়েই পাসপোর্ট হাতে পাওয়া নিশ্চিত নয়। তথ্য যাচাই, নথির অসংগতি, অতিরিক্ত যাচাই বা প্রশাসনিক কারণে সময় বেশি লাগতে পারে।

বিদেশযাত্রার পরিকল্পনা থাকলে শেষ মুহূর্তে আবেদন না করে হাতে পর্যাপ্ত সময় রেখে পাসপোর্টের কাজ শুরু করা ভালো।

পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর স্ট্যাটাস দেখবেন যেভাবে

আবেদন জমা দেওয়ার পর পাসপোর্ট কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানার জন্য সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ করুন। সেখানে আবেদন বা স্ট্যাটাস-সংক্রান্ত সুবিধা থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

স্ট্যাটাস দেখার জন্য আবেদনসংক্রান্ত নম্বর, রেজিস্ট্রেশন আইডি বা পোর্টালে চাওয়া তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় পাওয়া কাগজপত্র ও রসিদ নিরাপদে রাখুন।

পাসপোর্ট প্রস্তুত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা ও সরকারি বার্তা খেয়াল রাখুন। সরকারি পোর্টালের সতর্কতা অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ এসএমএসের মাধ্যমে কোনো লিংক পাঠায় না। অফিসিয়াল এসএমএসের প্রেরক নাম হলো EPASSPORTBD। অন্য কোনো নম্বর বা নাম থেকে আসা সন্দেহজনক বার্তার লিংকে ক্লিক করবেন না।

পাসপোর্টের আবেদন করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

আবেদন করার সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে পরবর্তী জটিলতা এড়ানো সহজ হয়।

পরিচয়পত্রের সঙ্গে তথ্যের অমিল: NID বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনুসরণ করে ফরম পূরণ করুন। নাম বা জন্মতারিখে ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

ভুল পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন: বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী সঠিক অফিস নির্বাচন করুন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে নির্বাচিত অফিসের তথ্য যাচাই করুন।

পেমেন্টের রসিদ হারানো: আবেদনপত্র, অ্যাপ্লিকেশন সামারি ও পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

শেষ মুহূর্তে আবেদন: ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই ও ডেলিভারির জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখুন।

দালালের ওপর নির্ভর করা: সরকারি ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা অপরিচিত কারও হাতে দেবেন না।

বাংলাদেশে অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে প্রথমে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর তথ্য যাচাই, নির্ধারিত ফি পরিশোধ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন করার আগে নিজের পরিচয়পত্রের তথ্য ঠিক আছে কি না এবং কোন ধরনের পাসপোর্ট প্রয়োজন, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। পাসপোর্টের ফি, আবেদনসংক্রান্ত নিয়ম ও ডেলিভারির সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. পাসপোর্টের আবেদন কি ঘরে বসে অনলাইনে করা যায়?

হ্যাঁ। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ঘরে বসে আবেদন ফরম পূরণ করা যায়। তবে প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে।

২. পাসপোর্ট করতে কি NID বাধ্যতামূলক?

আবেদনকারীর বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া NID ও জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত নির্দেশনা যাচাই করুন।

৩. অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করতে কত টাকা লাগে?

৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি রেগুলার ডেলিভারিতে ৪,০২৫ টাকা থেকে শুরু। পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী ফি বাড়ে।

৪. পাসপোর্ট পেতে কত দিন লাগে?

সরকারি নির্দেশনায় রেগুলার ডেলিভারির জন্য ১৫ কর্মদিবস, এক্সপ্রেসের জন্য ৭ কর্মদিবস এবং সুপার এক্সপ্রেসের জন্য ২ কর্মদিবস উল্লেখ রয়েছে। প্রকৃত সময় যাচাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে।

৫. পাসপোর্টের আবেদন করতে কি ছবি দিতে হয়?

সাধারণত আবেদনকারীর ছবি পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ার সময় তোলা হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়স অনুযায়ী ছবি জমা দেওয়ার অতিরিক্ত নিয়ম রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ