ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যে ইতিহাস গড়লেন হাসান

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১২:৪২:৫৮
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যে ইতিহাস গড়লেন হাসান

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে দুর্দান্ত বোলিংয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। তাঁর টানা তিন বলে তিন উইকেট শিকারের কীর্তিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের বোলারদের তালিকায় তৃতীয় নাম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন আলোক কাপালি ও সোহাগ গাজী। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আলোক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। ফলে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় হ্যাটট্রিক

টেস্ট ক্রিকেটে পরপর তিনটি বলে তিনটি উইকেট নেওয়া বোলারের জন্য বিরল সাফল্য। বাংলাদেশের ক্রিকেটেও এই কীর্তি খুব বেশি দেখা যায়নি। আলোক কাপালি ও সোহাগ গাজীর পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন হাসান মাহমুদ।

২০০৩ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশোয়ার টেস্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন আলোক কাপালি। এরপর ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব দেখান সোহাগ গাজী। হাসানের অর্জন এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট হ্যাটট্রিক।

যেভাবে টানা তিন বলে তিন উইকেট নেন হাসান

আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৮২তম ওভারে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তাঁর শিকার হন ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমান।

প্রথমে ৮২.৩ ওভারে ইসমত আলম ১ রান করে বোল্ড হন। পরের বলেই কায়েস আহমেদ কোনো রান না করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর ৮২.৫ ওভারে জিয়া-উর-রহমানকে এলবিডব্লিউ করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বাংলাদেশের এই পেসার।

মাত্র তিন বলে তিনটি উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ২২০ রানে ৮ উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে হাসানের সাফল্য বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে আরও কার্যকর অবস্থানে নিয়ে যায়।

চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বোলিংয়ে বড় অবদান

হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে চারটি উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ। তিনি ১৮.৪ ওভার বল করে ৩৯ রান খরচ করেন। তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ২.০৮।

হাসানের আগে সেদিকউল্লাহ আতালকে আউট করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, এবাদত হোসেনও তিনটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সাফল্যে অবদান রাখেন।

আফগানিস্তানের অধিনায়ক রহমত শাহ এক প্রান্তে ৮৭ রানে অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারায় দলটি। ফলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে আফগানিস্তান ৮৪.৪ ওভারে ২২১ রান তুলতেই আট উইকেট হারিয়ে বসে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কতটা বিরল এই অর্জন?

টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ হলেও এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক বোলার। অ্যাসোসিয়েশন অব ক্রিকেট স্ট্যাটিস্টিশিয়ানস অ্যান্ড হিস্টোরিয়ানসের রেকর্ড তালিকায় বিভিন্ন দেশের টেস্ট হ্যাটট্রিক করা বোলারদের নাম সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে হাসান মাহমুদের এই অর্জনকে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের নতুন কোনো বিশ্বরেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক এবং হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের কার্যকারিতা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে দেশের টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড তালিকায় নতুন একটি অর্জন যোগ করেছে।

FAQ

১. হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে কী রেকর্ড হয়েছে?

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে হাসান মাহমুদ তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন। এর আগে আলোক কাপালি ও সোহাগ গাজী এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

২. আফগানিস্তানের বিপক্ষে হাসান মাহমুদ কাদের আউট করে হ্যাটট্রিক করেন?

তিনি ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে টানা তিন বলে আউট করেন।

৩. বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক করেছিলেন কে?

২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আলোক কাপালি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক করেন।

৪. বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় টেস্ট হ্যাটট্রিক করেছিলেন কে?

২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট হ্যাটট্রিক করেন।

৫. আফগানিস্তানের বিপক্ষে হাসান মাহমুদের বোলিং পরিসংখ্যান কত?

প্রদত্ত স্কোরকার্ড অনুযায়ী, তিনি ১৮.৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ